ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: বাউফল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং এ দপ্তরের দুই পরিকল্পনা সহকারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে একই কার্যালয়ের অর্ধশত নারী ও পুরুষ কর্মচারী বৃহস্পতিবার দুপুরে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
এর আগে বুধবার ওই হামলার ঘটনায় মো. ফিরোজ খান ও মো. আলমগীর হোসেন নামে দুই পরিকল্পনা সহকারী বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন।
আজ দুপুর ১২ টার দিকে বাউফল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিবার পরিকল্পনা সহকারী মো. ফিরোজ খান তাঁর ভাষ্য সহকর্মী পরিবার পরিকল্পনা সহকারী মো. জাকির হোসেনের অসদাচরন ও অনৈতিক প্রভাবে তাঁরা অতিষ্ঠ। এ কারণে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ অপসারনের দাবিতে ৪৭ জন কর্মচারী চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন।
পরবর্তীতে জাকির হোসেনের আর্থিক অনিয়ম, অসদাচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক সানজিদা ইসলাম জেসমিন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবরে লিখিত আবেদন করেন। তাঁর এই আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার তদন্ত করতে আসেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সামসুজ্জামান ও সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন।
তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই বুধবার ১১ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০২ নম্বর কক্ষে বসে রোগী দেখার সময় জাকির হোসেন তিন-চারজন বহিরাগত লোক নিয়ে সানজিদা ইসলামের ওপর হামলা করেন এবং তাঁর (সানজিদা) মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় তিনি (ফিরোজ খান) জাকির হোসেনকে নিভৃত করার চেষ্টা করলে তাঁকে লাঞ্চিত করে মুঠোফোন নিয়ে ভেঙে ফেলে।
পরে দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে ফের জাকির হোসেন লোকজন নিয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে ঢুকে পরিকল্পনা সহকারী মো. আলমগীর হোসেনের ওপর হামলা করে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তাঁকে হত্যার হুমকী দেন। এ ঘটনায় ফিরোজ খান বাউফল থানায় পৃথক সাধারণ একটি ডায়েরী করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক সানজিদা ইসলাম জেসমিন বলেন,জাকির হোসেের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর ও দুই পরিকল্পনা সহকারীর ওপর বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালিয়ে মুঠোফোন নিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন । বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।এ ঘটনায় তিনি আইনের আশ্রয় নিবেন বলে জানান।
পটুয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন,‘বুধবার সিনিয়র দুই কর্মকর্তাকে জাকির হোসেনের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য পাঠিয়েছি। অনাকাঙ্খিত ঘটনায় তদন্তের পরিবেশটা ভালো ছিল না ।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,ইতিমধ্যে পরিকল্পনা সহকারী জাকির হোসেনকে বদলি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবার পরিকল্পনা সহকারী জাকির হোসেনএ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান সরকার বলেন,‘দুটি সাধারণ ডায়েরী হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর/ এন
বাংলাদেশ সময়: ২০:১৬:০৯ ১৯৬ বার পঠিত | ● কর্মকর্তা ● পরিকল্পনা ● পরিবার ● বাউফল ● হামলা