ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: বাউফলে উপবৃত্তির টাকা এবং সুপারের অনিয়মের বিচারের দাবীতে উত্তর দাসপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নজির আহম্মেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় ২ ঘন্টা ক্লাস বর্জন করে দফায় দফায় মাদ্রাসার বারান্দায় এবং মাঠে শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ মিছিল করে।এ সময় মাদ্রাসায় উপস্থিত শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সুপারের নানা অনিয়মের বিচার দাবি করেন।
মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত জানায়, “মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট না হলেও ভারপ্রাপ্ত সুপার নজির আহম্মেদ নিয়মিত মাদ্রাসায় না এসে তার ছেলে ইমরান হোসেনকে দিয়ে প্রক্সি দিয়ে মাদ্রাসা ক্লাস নেন। উপবৃত্তির টাকা পেতে হলে খরচ করতে হবে বলে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে ৫শ’ করে টাকা আদায় করেন। তবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সরকারি উপবৃত্তির চলতি কিস্তির টাকা পেলেও তাদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা পায়নি।”
বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৯ম শ্রেণির রাবেয়া বেগম, ১০ম শ্রেণির নুসরাত, রুপা, ৭ম শ্রেণির আব্দুল্লাহসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যুৎ বিল, পরীক্ষার ফি, স্কাউট ফি সহ বিভিন্ন অযুহাতে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব থাকায় তাদের কথা কেউ শুনছেন না।এ মাদ্রাসায় গত বছর দাখিল পরিক্ষায় কোন শিক্ষার্থী পাস করেনি। কোন বিষয় বলতে গেলে সুপারের ছেলে ইমরানের ভয়ে চুপ থাকতে হয় সকলকে। শিক্ষামুলক কোন ধরণের কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহনের সুযোগ দেয়া হয় না বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
তারা আরও জানায়, ভারপ্রাপ্ত সুপার ও তার ছেলে অন্য মতাবলম্বী হওয়ায় সম্প্রতি আলোচিত উপজেলা ব্যাপি জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের দেয়া কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা সভাতেও তাদেরকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। এ সময় শিক্ষার্থীরা ভারপ্রাপ্ত সুপারের বিচার দাবী করে অন্যত্র ভর্তির জন্য তাদের টিসি দেয়ার অনুরোধ জানান।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার সহসুপার মাসুম বিল্লাহ, শিক্ষক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন জানায়, ভারপ্রাপ্ত সুপার নিজের মর্জি মাফিক তার ছেলেকে দিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। তারা অনেকেই অসহায়। উর্ধতন কর্তিপক্ষকে জানিয়েও কোন প্রতিকার মিলছে না। সুপার নজির আহম্মেদ প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সম্পূর্ণ অযোগ্য। সে এবার ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে উপবৃত্তিতে নাম দেয়ার কথা বলে ৫০০ করে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে।
এ বিষয়ে সুপার নজির আহম্মেদের সাথে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। এরপর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন,বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আর/ এন
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫০:২০ ১০৫ বার পঠিত | ● বাউফল ● বিক্ষোভ ● শিক্ষার্থী