ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: লাভের আশায় ভিক্ষা করিও কিস্তির টাকা দিছি,সেই টাকা তুলে মোর স্বামী হজ্জ করবে। পাচ বছর হয় মেয়াদ পুরন হইছে তবু ও টাকা দিচ্ছে না। এই টাকার জন্যে ঘুরতে ঘুরতে মোর স্বামী মরি গেল। স্বামীর হজ্জ করা হইল না। মুইও বা কোন দিন মরি যাং। মোর ও হজ্জ করা হবার নয় বাবা। অনেক দিন অফিস বন্ধ আছিল্। অফিসের লোক কয় টাকা আইসে নাই। এ টাকা বুঝি পাবার নই। এভাবে কথা গুলো বলছিলেন ফারাজি পাড়া গ্রামে দিন দুখি বিধবা সাজেদা বেওয়া। তার স্বামী ১০ বছর মেয়াদে ফারিস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিঃ উলিপুর শাখায় মাসিক কিস্তির একটি ডিপিএস হিসাব খোলেন।
রিকশা চালক হাফিজুর রহমান বলেন, ২০০ টাকার কিস্তিতে একটি ডিপিএস খুলি নিয়মিত কিস্তির টাকাও জমা করি। ২০২০ সালে মেয়াদ শেষ হইছে। কিন্ত দাবীর টাকা ফেরত দিচ্ছে না। ঘুরতে ঘুরতে বাকী জীবনটা শ্যাষ হয়া গেল তবু টাকা পাই না। উপাষ থাকিও কিস্তির টাকা দিছি। সেই টাকা দিয়া মেয়ের বিয়া দিমু। এখন লাভ তো দুরের কথা আসলটাও পাই না। ইসলামীক নাম দেখি বীমা করছিনো এখন দেখি এমরাও জালিয়াতি করছে। হামরা কোথায় যামো বাহে। এ টাকা কি পামো।
সাজেদা বেওয়া ও হাফিজুর রহমানের মত পাচ ছয় বছর ধরে ঘুরছে হায়দার আলী, মিজানুর রহমান,আমিনুর রহমান, জোবেদা বেওয়া সহ ৫ হাজার বীমাকারী। নিময় অনুযায়ী বীমার কিস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে বীমাকারীর টাকার লাভসহ ফেরত দিবেন। কিন্ত গ্রাহকরা এক মাস তো দুরের কথা পাচ বছরে ওপাচ্ছে না।
ফারিষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোঃ লিমিটেড উলিপুর এরিয়া অফিস অধিনে,(চিলমারী, রৌমারী ও রাজিব পুর) সুত্র জানায়,ক্ষুদ্র বীমা, ডিপিএ ও স্থায়ী আমানকারী গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৭০ হাজার। জমার পরিমার প্রায় ২০ কোটি টাকা। বীমাকারী গ্রাহকরা সিংহ ভাগ দরিদ্র ও মধ্যবৃত্ত। মেয়াদ উত্তীর্ন হয়েছে ৫ হাজারেরও বেশী। ৬ বছর ধরে প্রধান কার্যালয় থেকে কোন টাকা দেওয়া হচ্ছে না বলে গ্রাহকদের দাবীর টাকা প্রদান করা যাচ্ছে না। কোম্পানীর নাজুক অবস্থার জন্য ১৫ থেকে ২০ হাজার গ্রাহক তাদের কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কিছু বীমা চালু থাকলেও তাও অনিয়মিত। অনেকে চাকুরী ছেড়েছেন। আবার কেউ পালিয়ে গেছেন।
বেশ কয়েক দফা অফিসে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়,উপস্থিত বেশ কয়েকজন দরিদ্র মহিলা সবাই খুব উত্তেজিত। তারা জানালেন, ডিপিএস খুলে কষ্ট করে টাকা জমিয়েরেছন।কিন্ত তাদের দাবীর টাকার জন্য ২ বছর ৩ বছর ধরে ঘুরছি কিন্ত টাকা ফেরত পাচ্ছি না। বজরা এলাকার মজিদা বেগম বলেন,মানুষের বাড়ীতে ঝির কাজ করে কিস্তি দিয়েছি । এখন সেই টাকার জন্য ঘুরছি জানি না টাকা পাবো কি না।
অফিস সহকারী মৌসুমী আক্তার বলেন,প্রতিদিন ১৫ থেকে ২৫ জন গ্রাহক বীমার দাবীর টাকা জন্য আসে আর অমাদের গালিগালাজ ও লাঞ্চিত করে।টাকা না পেয়ে অনন্ত ২৫ জন গ্রাহক আমাদের নামে থানায় (সাধারন ডাইরী) জিডি করেছে। সব মিলে আমরা এক ভয়াবহ নাজুক পরিস্থিতিতে পেটের দায়ে কাজ করছি।
আইটি কর্মকর্তা সুলতার মাহমুদ বলেন, কোম্পানী খুব সুনামের সাথে চলছিল। গত ৫ বছর থেকে গ্রাহকদের টাকা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। গ্রাহকদের টাকা দিতে না পারায় অফিসের অচল অবস্থা দেখা দিয়েছে। প্রধান কার্য়ালয় থেকে বলে তালিকা করা হচ্ছে। পর্যায় ক্রমে টাকা পাবে। কিন্ত টাকা আসে না। গ্রাহকদের আর কত মিথ্যা শান্তনা দিব আমরা তো মানুষ। এ অবস্থার কারনে দীর্ঘ দিন থেকে ম্যানেজার অফিসে আসে না। অনেক এজেন্ট গ্রাহকদের চাপে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কয়েক মাস অফিস বন্ধ রাখা হয়েছিল। শতাধিক বীমাকারী টাকা না পেয়ে মারা গেছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
এজেন্ট আমিনুর রহমান বলেন, ২৫/৩০ জন গ্রাহকের বীমা করে দিয়েছি কেউ টাকা পাচ্ছে না গ্রাহকদের চাপে বাড়ী থাকতে পারি না। কোম্পানী টাকা না দিলে আমাকে শোধ করতে হবে। আমি গরীব মানুষ কি হবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
উলিপুর এরিয়া অফিসের ইন্চাজ মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ভাই মানুষের টাকা দিতে পারি না। সে জন্য অফিসে বসি না। গ্রাহকরা চরম অপমান করে। কি যে করি খুব চেস্টা করছি গ্রাহকের টাকা দেওয়ার জন্য । নিজের বেতনটাও পাই না। খুব কষ্টে আছি।
রংপুর বিভাগীয় ম্যানেজার মো. আব্দুল কাদের বীর বলেন,২০১৯ সাল থেকে গ্রাহকদের টাকা দিতে পাচ্ছিনা। আমাদেরও বেতন বন্ধ করে দিয়েছে। আমি অসহায় গ্রাহকদের ভয়ে চোরের মত লুকিয়ে থাকি। আমার ৪ জেলায় প্রায় ১শত ২০ কোটি টাকা গ্রাহকরা পাবে। তিনি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত্তা ন(ইউএনও) বলেন, বিষয়টি খোজ খবর নিয়ে কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা দেখব।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৩:৫৮ ২৫২ বার পঠিত | ● উলিপুর ● টাকা ● বীমা