ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ঢাকা: দোহার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুশ শিহার ও সহকারী কর্মকর্তা মারমিন আক্তার অফিস করেন সপ্তাহে দুই দিন। অভিযোগ রয়েছে শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুশ শিহার সপ্তাহে একদিন অফিসের দায়িত্ব পালন করেন। আর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শারমিন আক্তার তিনিও সপ্তাহে দুই দিন অফিস করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে গত দুই সপ্তাহের অনুসন্ধানে মেলে সত্যতা। সর্বশেষ আজ রোববার সকাল ১১টায় শিক্ষা অফিসে গেলে তার অফিসে ফ্যান ঘুরলেও চেয়ারটিও খালি পাওয়া যায়। পাশের রুমে কর্মরত এক পিয়নকে জিজ্ঞেস করলে জানান শিক্ষা কর্মকর্তা আজ আসেননি। এ সময়ে শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী ফিরোজ আলমের অফিস রুমে গেলে তার চেয়ারটিও ফাঁকা পাওয়া যায়।
তথ্য মতে, শুধুমাত্র সোমবার অফিসে আসেন শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুশ শিহার। হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানান খাতা থাকে শিক্ষা কর্মকর্তার ড্রয়ারে তালা মারা।
অপরদিকে চলতি বছরের ২৩ মার্চ দোহারে যোগদান করেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। অভিযোগ রয়েছে তিনি সপ্তাহে অফিস করেন মাত্র দুদিন। তার অফিস রুমে গেলে সত্যতা মিলে। দেখা যায় তার চেয়ারটিও ফাঁকা। এ বিষয়ে জানতে তার মোবাইলে ফোন দিলে তিনি বলেন দুপুরের পর আসবেন তিনি বলে লাইনটি কেটে দেন।পরে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি যোগাযোগ করেন নি।
এ সময়ে শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী ফিরোজ আলমের অফিস রুমে গেলে তার চেয়ারটিও ফাঁকা পাওয়া যায়। এবিষয়ে জানতে তার মোবাইলে একাধিক ফোন দিলেও তিনিও রিসিভ করেননি। পরে তার মোবাইলেও ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এই তিন কর্মকর্তা প্রতিনিয়ত অফিস ফাঁকি দিলেও মাস শেষে তুলে নেন পুরো মাসের বেতন। তথ্য মতে, শিক্ষা কর্মকর্তা জানুয়ারী মাসের ১৬ তারিখে যোগদানের পর ধারাবাহিকভাবেই অনুপস্থিত থাকেন কর্মক্ষেত্রে। এছাড়া দোহার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানেও তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। সেখানেও তাকে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের।
অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুশ শিহারের মোবাইলে বহুবার ফোন দিলেও তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। পওে তার মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়।
জানা যায়, শিক্ষা অফিসে সাংবাদিকদের উপস্থিতি জানতে পেরে অনুপস্থিত কোন কর্মকর্তা ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম জানান, আমি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের সাথে কথা বলবো। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে উপজেলা পরিষদের সাধারন সভায় বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। আর ঘটনা সত্য হয়ে থাকলে বিষয়টি খুবই দু:খজনক আমাদের জন্য।
এবিষয়ে ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, তারা যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৪১:৩৬ ৩২৩ বার পঠিত | ● উপজেলা ● দোহার ● প্রাথমিক ● শিক্ষা অফিস