ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নোয়াখালী: বাংলাদেশের গতানুগতিক রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে তুলব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ।
সোমবার সন্ধ্যায় হাতিয়ার তুফানিয়া গ্রামে জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পের শুভ সূচনা উপলক্ষে সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ ডাম্পিং প্রকল্পের শুভ উদ্ভোধন করা হয়।
আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন,আমি হাতিয়ায় এসেছি হাতিয়া বাসীর সেবা করার জন্য। আমি বাংলাদেশের রাজনীতিবীদের দেখেছি তারা গতানুগতিক ধারার রাজনীতি করে। আমি বলছি বাংলাদেশের গতানুগতিক রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে তুলব। আজকে আমি বৃষ্টির মধ্যে এখানে এসেছি তার মানে তাদের চিন্তা করতে হবে নেতা হতে বৃষ্টির মধ্যে সব জায়গায় যেতে হবে। কাঁদা মাটির উপর দিয়ে সাধারণ মানুষের নিকট যাইতে হবে। এসি রুমে বসে রাজনীতি করার আর সুযোগ নাই।
হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালী বসে রাজনীতি করার সুযোগ নাই। আর বড় বড় নেতার ঘরে ঢুকে হাত পা ধরে রাজনীতি করার সুযোগ নাই। রাজনীতি করতে হলে কাঁদার মধ্যে মানুষের কাছে যেতে হবে। নদী ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারা মানুষের দ্বারে যেতে হবে। গরিব-দুঃখী মানুষের কাছে যেতে হবে। রাজনীতি করলে ভূমিহীনদের ভূমি মেরে না দিয়ে তাদের ভূমি তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। রাজনীতি করতে হলে রাস্তাঘাটের কাজ করতে হবে সেখান থেকে চাঁদা খাওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আমি খুব সুন্দর ভাবে হয়তো গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। হয়তো বয়সে কম কিন্তু আপনারা বয়সে অনেক বড়, অনেক সুন্দর ভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারেন এই হাতিয়ার মানুষের জন্য গত ৫০ বছরে কি টা করেছেন। আপনারা শুধু একটা জিনিসই পারেন মানুষকে ব্যঙ্গ করে শ্লোগান দেওয়া-দলকে ব্যঙ্গ করে শ্লোগান দেওয়া। এর বাহিরে আপনারা আর কিছুই পারেন না। আপনারা বাসার সামনে গিয়ে আমার থাকার জায়গায় গিয়ে এনসিপি ভুয়া বলে স্লোগান দেন। এনসিপি আপনাদের কি করেছে। এনসিপি হাতিয়ার ভূমিহীনদের ভূমি বুঝিয়ে দিয়েছে। এনসিপি হাতিয়ার মানুষের রাস্তাঘাট করে দিচ্ছে। হাতিয়ার মানুষের নদীভাঙন রোধে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। সোমবার সন্ধ্যায়
হাতিয়া উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের তুফানিয়া গ্রামের মেঘনা নদীর ভাঙ্গনের কবলে ভিটেমাটি হারা স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি এ সব কথা বলেন ।
এসময় উপস্থিত সাধারন জনগনের ভালো বাসায় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে নদী ভাঙ্গন রোধে বালুর বস্তা ফেলে কাজের উদ্বোধন করা হয়।
হান্নান মাসউদ আরো বলেন, ১৯৭১ সালের পর সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া স্বাধীন হয়েছে। মালয়েশিয়া পেয়েছিল মাহাথির মোহাম্মদের মতো সৎ ও নিষ্ঠবান শাসক। আর আমরা পেয়েছি শেখ মুজিবের মত শাসক যার আমলে এদেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল।
এদেশের উপর ভারতের আগ্রাসী মনোভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে অনেক শাসকের পরিবর্তন হয়েছে। তার মধ্যে কেবল মেজর জিয়া এদেরকে প্রকৃত পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছেন। ভারতের আগ্রাসী মনোভাব আমাদের মেজর জিয়াকে বাঁচতে দেয়নি।শেখ হাসিনার পতন এদেশে শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের পতন নয়, শেখ হাসিনার পতন মানে এদেশে ভারতীয় আধিপত্যের পতন।
২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে দুই হাজার জন জীবন দিয়েছে শুধু নির্বাচনের জন্য নয় উল্লেখ করে হান্নান মাসউদ বলেন, আপনারা নির্বাচন-নির্বাচন করছেন। ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। এদেশে নির্বাচন হবে, তবে তার আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। এদেশের সকল ঘর থেকে অস্ত্র উদ্ধার হলে, প্রতিটি অস্ত্রধারী গ্রেফতার হলেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী হবে।
নিজ জন্মভূমি হাতিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে আমার কাছে জানতে চায় আমি জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করেও কেন হাতিয়া নিয়ে ভাবছি। আমি তাদেরকে বলি, হাতিয়ার মানুষের দুঃখ, দুর্দশার ভাগাভাগি করতে হাতিয়া যাচ্ছি। দীর্ঘ সময় থেকে হাতিয়া সন্ত্রাসের আখড়ায় রূপ নিয়েছিলো। সেই সন্ত্রাসের আখড়া থেকে হাতিয়াকে বসবাসযোগ্য হাতিয়ার রূপ দেয়ার জন্য আমি হাতিয়া নিয়ে ভাবছি।
হাতিয়া কলেজের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক মফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় আব্দুল হান্নান মাসউদের বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক,সাবেক প্রধান শিক্ষক সামছুত তিব্বিজ,আবুল হোসেন মোহাম্মদ বাবুল,জাতীয় নাগরিক পার্টির হাতিয়া উপজেলা প্রতিনিধি ইউসুফ রেজাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আর/ এন
বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৩:১৬ ১৩৭ বার পঠিত | ● আব্দুল হান্নান মাসউদ ● হাতিয়া