ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » ঢাকা » ভূঞাপুরে ইজারার নামে মালিকানা জলাশয় দখলের পাঁয়তারা

ভূঞাপুরে ইজারার নামে মালিকানা জলাশয় দখলের পাঁয়তারা


আখতার হোসেন খান,ভূঞাপুর( টাঙ্গাইল )
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫


ভূঞাপুরে ইজারার নামে মালিকানা জলাশয় দখলের পাঁয়তারা

টাঙ্গাইল: ভূঞাপুরে ফলদা এলাকার গুজাবিল নামে পরিচিত একটি ঐতিহ্যবাহী উন্মুক্ত জলাশয় ইজারার নামে ব্যক্তি মালিকায় শত শত একর জমি দখলের ফাঁদ পেতেছে স্থানীয় বিএনপির নেতারা। সম্প্রতি জলাশয়ের কয়েকটি পানি ঢোকার প্রবেশ মুখে বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবারগুলো চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কতিপয় বিএনপি নেতা ও এলাকার ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খালের মুখগুলোতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করবে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার উন্মুক্ত জলাশয়ের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী গুজা বিলটি অন্যতম। এই জলাশয়টি বর্ষা মৌসুমে মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। এ বিলকে ঘিরে বিলের পার্শবর্তী গ্রামগুলোর শত শত পরিবার এ বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। বিলের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ঝিনাই নদী। আর এ নদী থেকে পানি প্রবেশ ও বাহির হওয়ার কয়েকটি খাল রয়েছে। যা বর্ষা মৌসুমে পানি ঢোকে এবং বের হয়। সম্প্রতি এ বিল ইজারার নামে ব্যক্তি মালিকানা শত শত একর জমি ভেতরে রেখে খালের মুখে বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি মৌসুমের শেষ ভাগে বিলের পানি বের হতে না পারলে ধান চাষ করা সম্ভব হবে না। ধান চাষ করলেও কার্প জাতীয় মাছে ধান খেয়ে ব্যাপক ক্ষতি করবে।
সূত্রে জানা যায়, এ বিলে মাত্র ২৪ একর জায়গা খাস রয়েছে। যা সরকারি ভাবে ইজারা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিলের চার পাশে ব্যক্তি মালিকানা নিচু শ্রেণীর জমি রয়েছে প্রায় ২শ’ একর। সেখানে নিয়মিত চাষাবাদ হয়। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানির কারণে অনেক সময় ধানের চারা ডুবে যায় এবং কার্প জাতীয় মাছ ধানের চারা খেয়ে ফেলার কারণে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয় ।

স্থানীয়রা আরো জানান, বছরের কয়েক মাস এই জলাশয়েই তাদের একমাত্র জীবিকা নির্বাহের উৎস মাছ ধরা। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, খালের মুখে বাঁধ দেয়া হয়েছে এবং বাইরের পানি প্রবেশ বা নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এতে জলাশয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং মাছের বিস্তার ব্যহত হচ্ছে।

ঝনঝনিয়া এলাকার খলিলুর রহমান বলেন, “এই জলাশয়ে আমরা ছোটবেলা থেকে মাছ ধরে খাই। এখন যেভাবে দখল করা হচ্ছে, মনে হয় কাল থেকেই আর নামতে পারবো না।”এছাড়া কিছু কার্প জাতীয় মাছ ধানের চারা খেয়ে ফেলে সেখানেও আমাদের ক্ষতি হয়। আমরা চাই এই জলাশয় আগের মতই উন্মুক্ত থাকুক। সবাই যেন মাছ ধরতে পারে। কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে যেন পরিণত না হয়। এই জলাশয়ের শত শত বিঘা জমি আমাদের মত গরিবদের। আমাদের জমিতে আমরা মাছ ধরতে পারবো না চাষাবাদ করতে পারবো না সেটা হবে না। আমরা এর প্রতিকার চাই।

উপজেলা মৎস কর্মকর্তা রিমা আক্তার জানান, ঐ জলাশয় এখনো ইজারাধীন। ইজারাদার তার ইজারাকৃত জলাশয়ের মাছের নিরাপত্তার জন্য বাঁধ দিতে পারে। বর্ষাকালে যখন পানি চলে আসে তখন তো তাদের মাছ চলে যাবে। সেক্ষেত্রে তারা ক্ষতির মুখে পড়বে। বর্ষাকালে যখন পানি থৈ থৈ করে, তখন কোনটা মালিকানা জমি আর কোনটা ইজারাকৃত জমি সেটা নির্নয় করা সম্ভব হয় না।

স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, যদি ঐ জলাশয়ে ব্যক্তি মালিকানা জমি থাকে তাহলে তাদেরকে জলাশয়টি যে সমিতির কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে, সেই সমিতিকে টাকা দিয়ে তাদের সাথে শেয়ার হতে হবে। তারা যদি এটা না মানে তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।

উপজেলা যুবদলের সহ সভাপতি রঞ্জু মন্ডল বলেন, এই জলাশয় সবার জন্যই উন্মুক্ত ছিল। এর আগে এখানে বাঁধ দেয়া হয়েছিল। পরে সেই বাঁধ ভেঙে দেয়া হয়। এখন আবার বাঁধ দিয়ে এই উন্মুক্ত জলাশয় দখলের চেষ্টা করেছে একটি প্রভাবশালী মহল। এর আগে কখনো এমন হয় নাই। এর একটা প্রতিকার চাই।

ফলদা ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ইসহাক অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছরই ঐ জলাশয় সরকারি ভাবে ইজারা দেয়া হয়। তবে শুধু সরকারি খাস জমিটুকুই ইজারা দেয়া হয়। কিন্তু ইজারাদাররা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুরো জলাশয়টা দখল করে। স্থানীয়দের বাঁধা উপেক্ষা করে খালের মুখে বাঁশের চাটাই এবং জাল দিয়ে বাঁধ দেয়।

এসময় তিনি স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করেন। এদের মধ্যে পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজল মিঞার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ জলাশয় গোবিন্দ মাঝি ইজারা নিয়েছে।

পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমিও ইজারার একজন অংশীদার। স্থানীয়রা তাদের নিজেদের স্বার্থে বাঁধ দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “দখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িতরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তাই অনেকেই মুখ খুলতে ভয় পান।”

এদিকে ইজারাদার গোবিন্দ চন্দ্র রাজবংশীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ৬ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। ভূঞাপুর পৌর মৎসজীবী সমবায় সমিতির ২২ জন সদস্যদের নিয়ে ভূমি মন্ত্রনালয় থেকে ইজারা নিয়েছি। প্রতিবছর ৩ লাখ টাকা সরকারকে রাজস্ব দিতে হয়। খালে বাঁধ দেয়ার ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ কি হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাঁধ দিয়ে মাছ ছেড়েছি। বিলের ইজারাকৃত জায়গা ২৪ একর কিন্তু যেখানে আড়াইফুট পানি থাকবে সেখানে আমি যেতে পারব। সেটা যতদুরই যাক। এটা আমার বৈধতা আছে।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ইউ এনও, এসিল্যান্ডকে আমরা বলেছি এবং স্থানীয়দের বারবার বলা হয়েছে। গতবার আমরা লোকসান গুনেছি। এবার আমরা বিএনপি নেতাদের দিয়েছি, যে আপনারা আবাদ করে আমাদের কিছু লভ্যাংশ দিয়েন তাতেই হবে।

পৌরসভা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় এই জলাশয়ের সাথে সম্পৃক্ত আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গুজাবিল আমি পরিচালনা করিনা। সেখানে আমার শেয়ারও নেই। তবে আমি যতটুকু জানি, ঐ এলাকার প্রত্যেকটি গ্রামেরই দুই একজন লোক নিয়ে বিল পরিচালনা করা হচ্ছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৮:১০   ২৩৪ বার পঠিত  |      







ঢাকা থেকে আরও...


কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
মধুখালীতে গাঁজাসহ ‘হাতকাটা রাজিব’ গ্রেপ্তার
সদরপুরে নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
দোহারে ইট ভাটায় পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন, কাটছে ফসলী জমি
ভূঞাপুরে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন সেলিনা



আর্কাইভ