ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
টাঙ্গাইল: যমুনা রেলসেতুর ডাবল লাইন ব্যর্থ হচ্ছে উত্তর বঙ্গের রেল লাইন সিঙ্গেল হওয়ার কারণে। রেলসেতুর ওপর ডাবল লাইনে ট্রেন পার হতে পারলেও সিঙ্গেল লাইনের কারণে ওয়ান ওয়ে চালাতে হচ্ছে ট্রেন। ফলে ক্রসিং সমস্যা রয়েই গেছে।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের বহু বছরের অপেক্ষার পর উদ্বোধন হলো টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত দেশের বৃহত্তম রেলসেতু ‘যমুনা রেল সেতু’। কিন্তু সেতু উদ্বোধনের পর এখনো কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা।
১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা থেকে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও লালমনিরহাটের সঙ্গে রেল যোগাযোগের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত রেললাইন এখনো সিঙ্গেল লেন হওয়ায় যমুনা রেলসেতুর পূর্ণ কার্যকারিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যাত্রীরা। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব ইব্রাহিমাবাদ এবং পশ্চিম প্রান্ত সয়দাবাদ থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত রেলপথ এখনো সিঙ্গেল লেন। এই গুরুত্বপূর্ণ রেললাইনকে ডুয়াল গেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়।
তবে বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে ধীরগতি ও জটিলতা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ও দীর্ঘতম রেলসেতু- যমুনা রেল সেতু। ১৬ হাজার ৭৮২ কোটি টাকার এই প্রকল্প দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু দিয়ে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে মাত্র ৩ মিনিটেই একটি ট্রেন সেতু পার হতে পারে।
দিনে প্রায় ৮৮টি ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, বাস্তবে ট্রেন সংখ্যা ও সময়ানুবর্তিতার মধ্যে রয়েছে ব্যবধান। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলতে পারছে না অর্ধেক সংখ্যক ট্রেন। এই পরিস্থিতিতে উত্তরাঞ্চলের মানুষ, যারা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগের জন্য, তারা এখন হতাশ।
নীলফামারীর যাত্রী আব্দুর রব বলেন, সেতু হয়েছে, কিন্তু পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছি না। মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় কম লাগে বাকি সব আগের মতোই ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকে, সময় নষ্ট হয়। আমরা চাই দ্রুত ডাবল লাইন হোক যাতে সেতু পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাই।
দুলাল মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম যারা ইব্রাহিমাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন। তারা বলেন, ট্রেন আছে, সেতুও আছে, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছাতে সেই আগের মতোই দেরি। একটি ট্রেন আসলে আরেকটি যেতে পারে না। শুধু সেতু পার দিয়ে কি হবে।
এ বিষয়ে ইব্রাহিমাবাদ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. সোহেল খান বলেন, সেতুর দুই পাশেই ডাবল লাইন না থাকায় রেল সেতুর সম্পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে ছিলো, কোনো কারণে আটকে গেছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবো, যাতে দ্রুত কাজ শুরু হয়।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৬:০১:৫৩ ১৭১ বার পঠিত | ● টাঙ্গাইল ● ভৃঞাপুর ● যমুনা ● রেলসেতু