ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
খুলনা: পাইকগাছা উপজেলার মিনহাজ নদী মুখে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার লস্কর, গড়ইখালী, চাঁদখালী এবং পাশ্ববর্তী কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের কয়েক হাজার বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।
জানা গেছে, পাইকগাছার ২৫১.২৫ একরের মিনহাজ নদী (বদ্ধ জলাশয়) চারটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে ওই সব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে নদীর মুখে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ভাটার সময় শিবসা নদীতে নামতে পারছে না। এতে ফসলের মাঠসহ মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা আমন ধানের জন্য চারা তৈরি করতে পারছেন না।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়াগোড়া বাজার সংলগ্ন মিনহাজ নদীর পাড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জিএম সামছুর রহমান।
সমাবেশে নদীর ইজারা বাতিল ও খননের দাবিতে শত শত স্থানীয় মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নেতা মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মোজাফফর হোসেন, আসমত শিকারী, মাওলানা আবুল কালাম, সজল সানা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে খুলনা জেলা প্রশাসন মিনহাজ নদীকে স্থানীয় সুন্দরবন মৎস্যজীবী সমিতিকে ১৪৩১ থেকে ১৪৩৬ সাল পর্যন্ত ইজারা দিয়েছে। বার্ষিক ইজারা মূল্য ৩৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং ভ্যাট ৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইজারা পাওয়ার পর থেকে সমিতি নদীতে মাছ চাষ করে আসছে, যার কারণে পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেই জলাশয় ব্যবহৃত হচ্ছে এবং নিয়মিত ইজারা মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ৮টি স্লুইস গেটের মধ্যে ৭টি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় পানি চলাচলে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। শুধু একটি গেট দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি সরানো সম্ভব হচ্ছে না। নদীর মুখ পলি পড়ে ভরাট হওয়ায় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়েছে। তবে সরকার চাইলে ইজারা বাতিল করতেই পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৪:৩৪ ৬১ বার পঠিত | ● খনন ● নদী ● পাইকগাছা ● মানববন্ধন