ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » খুলনা » বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী পিসি রায়ের ১৬৪তম জন্মদিন

বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী পিসি রায়ের ১৬৪তম জন্মদিন


আশরাফুল ইসলাম সবুজ,পাইকগাছা (খুলনা)
প্রকাশ: শনিবার, ২ আগস্ট ২০২৫


খুলনা:“আমি বৈজ্ঞানিকদের দলে বৈজ্ঞানিক, ব্যবসায়ী সমাজে ব্যবসায়ী, গ্রাম সেবকদের সাথে গ্রামসেবক আর অর্থনীতিবিদদের মহলে অর্থনীতিজ্ঞ” নিজের পরিচয় নিজেই দিয়েছিলেন এভাবে বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। যিনি পিসি রায় নামেই সর্বাধিক পরিচিত।

আজ ২ আগষ্ট (শনিবার) তার ১৬৪তম জন্মদিন। প্রতিবছর জেলা প্রশাসন খুলনার উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসন ও রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় বিশ্বখ্যাত এই বিজ্ঞানীর জন্মভিটা জেলার পাইকগাছার রাড়ুলীতে বিজ্ঞানীর জীবন দর্শন, কর্মময় জীবন সম্পর্কিত তথ্য চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা এবং শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনে রচনা ও কুইজ প্রতিযোগীতাসহ বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্য দিয়ে জন্ম বার্ষিকীর অনুষ্ঠান পালিত হয়ে আসছে।

এবছর পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন এর সভাপতিত্বে বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী পিসি রায়ের জন্ম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমীন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আকতার হোসেন উপস্হিত থাকবেন। বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামের কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী সম্ভ্রান্ত এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্যার পিসি রায়ের পিতা জমিদার হরিশ্চন্দ্র রায় এবং মাতা ভূবন মোহিনী দেবী। আচার্য পিসি রায়ের শিক্ষাজীবন পাঁচ বছর থেকে শুরু হয়।

১৮৬৬ থেকে ১৮৭০ সাল এ চার বছর কাটে নিজ গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে। ১৮৭১ সালে ভর্তি হন কলকাতার হেয়ার স্কুলে। তারপর ১৮৭৪ সালে অ্যালবার্ট স্কুলে। সেখান থেকেই ১৮৭৮ সালে এন্ট্রান্স, ১৮৮১ সালে এফএ পাস করেন তিনি। ১৮৮২ সালে প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হয়ে অনার্সসহ স্নাতক শ্রেণীতে গণিতে অসাধারণ মেধার বলে তিনি গিলক্রাইষ্ট বৃত্তি নিয়ে চলে যান এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই বিএসসি ডিগ্রী নেন।

রসায়নশাস্ত্রে গবেষণারত প্রফুল্ল চন্দ্র রায় মারকিউরাস নাইট্রাইট’র মত রসায়নশাস্ত্রে মৌলিক পদার্থ উদ্ভাবন করে সারা বিশ্বকে চমকে দেন। এরপর বিভিন্ন সময় সম্মানসূচক ডিগ্রী ১৮৮৬ সালে পিএইচডি, ১৮৮৭ সালে ডিএসসি, ১৯১১ সালে সিআইই, ১৯১২ সালে আবার ডিএসসি এবং ১৯১৮ সালে ফাদার অব নাইট উপাধিতে ভূষিত হন।তিনি একাধারে ২০ বছর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন শাস্ত্রের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।
বহুগুণে গুণান্নিত পিসি রায় ছিলেন একাধারে বিজ্ঞানী, দার্শনিক, শিক্ষক, শিল্পী ও সমবায়ের রূপকার। সমাজ সংস্কারে মানবতাবোধে উজ্জীবিত ছিলেন তিনি। পিসি রায় ১৮৯২ সালে কলকাতার মানিক তলায় মাত্র ৮’শ টাকা পুঁজি নিয়ে বেঙ্গল কেমিক্যাল এ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ঔষধ শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাপড়ের মিল প্রতিষ্ঠা করেন। তদানীন্তন সময়ে পল্লী গ্রামের দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমবায় ব্যাংক পদ্ধতি চালু করেন। সমবায়ের পুরোধা স্যার পিসি রায় ১৯০৯ সালে নিজ জন্মভূমিতে কো-অপারেটিভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৩ সালে বিজ্ঞানী স্যার পিসি রায় পিতার নামে আরকেবিকে হরিশ্চন্দ্র স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উল্লেখ্য, ১৮৫০ সালে রাড়ুলীতে স্যার পিসি রায়ের পিতা উপ-মহাদেশে নারী শিক্ষার উন্নয়নকল্পে স্ত্রী ভূবন মোহিনীর নামে বাংলাদেশে প্রথম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান করেন। ১৯১৬ সালে কলকাতায় তিনিই প্রথমবারের মত মহাত্মা গান্ধীর জনসভা আয়োজন করেছিলেন।

১৯৩১ সালে খুলনার নিউ মার্কেটের পশ্চিম পার্শ্বে ২০৫.৯৯ একর জমিতে এপিসি কটন মিল স্থাপন করেন। মিলটির নাম বিভিন্ন সময় পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে খুলনা টেক্সটাইল পল্লী নামকরণ করা হয়েছে। বাগেরহাটে পিসি কলেজ স্থাপন করেন। দেশ-বিদেশে তার প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আজও অবিরাম মানব সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

১৯৩৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভারতবর্ষের মহিশুর ও বেনারশ বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। এছাড়া মৃত্যুর আগে তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি ও নাইট উপাধি অর্জন করেন। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীর পদচারণা ও নিজ হাতের ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা অসংখ্য প্রতিষ্ঠান আজও অবহেলিত রয়েছে। পিসি রায়ের স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটার ভবনগুলো যথাযথ রণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস হতে চলেছে।

এখনই সংরক্ষণে পদক্ষেপ না নিলে এক সময় তা কালের বিবর্তে হারিয়ে যাবে। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অবিবাহিত। ১৯৪৪ সালে ১৬ জুন ফাদার অব নাইট্রাইট খ্যাত বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞনী আজীবনের নির্মোহ কর্মসাধক, বিদ্যাব্রতী, জনদরদী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের জীবনাবসান ঘটে। এই বিজ্ঞানী তার জীবনের অর্জিত সমস্ত সম্পত্তি মানব কল্যাণে দান করে গেছেন।

সর্বোপরি, বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞনী স্যার পিসি রায়ের জন্মভূমিতে পর্যটন কেন্দ্র, পিসি রায় ইউনিভার্সিটি, অর্থনৈতিক জোন, পিসি রায় সেতু নামকরণের জোর দাবী জানিয়েছেন স্যার পিসি রায় স্মৃতি সংসদ সহ এলাকাবাসী।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:১৯:৪৫   ৫৪ বার পঠিত  |         







খুলনা থেকে আরও...


ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইফতার মাহফিল
ভুয়া তালাকনামায় বিয়ে,কাজীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
মহম্মদপুরে শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা,অভিযুক্ত আটক
বিএনপির নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের বোমা ও গুলি নিক্ষেপ,আহত ১
ভেড়ামারা দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা



আর্কাইভ