ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে প্যারা খাল নামে খ্যাত সরকারি খালটি কিছু অংশ ভরাট করে দোকান নির্মাণ করেছে এলাকার প্রভাবশালী শওকত মিয়া। শুধু সরকারি এই খাল নয় খালের পার্শ্ববর্তী বাড়ির মহসিন মিয়ার ভূমিও জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (০২/০৮) সরজমিন দেখা যায়, ইব্রাহিমপুর বাঁশ বাজার এলাকায় নবীনগর- কোম্পানীগঞ্জ সড়কের পশ্চিম পাশে সরকারি এই প্যারা খালের কিছু অংশ বালু দিয়ে ভরাট করে তার উপর দোকান ঘর নির্মাণ করা হয়েছে ।
বর্ষাকালে এই খরস্রোত খালটি ইব্রাহিমপুর যোগীদারা ব্রীজ বাশবাজার থেকে পালবাড়ি বাজার ও কালীপুরা গ্রামের ভিতর দিয়ে রসুল্লাবাদ ইউনিয়নের যমুনার খালে গিয়ে সংযুক্ত হয়েছে। পুরো ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের পানি নিস্কাশনের এটি একমাত্র খাল।
এই খালটি ৭১ স্বাধীনতার পরবতী সময়ে ওই ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কাজী আজাহার আলী (প্যারা মিয়া) পুরো ইউনিয়নের পানি নিস্কাশনের জন্য এই খালটি তৈরি করেন। সেই খেকে তার নামানুসারে প্যারা খাল হিসাবে পরিচিত। এই খালটি দিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন ছোট-বড় নৌ-যানের মাধ্যমে মালামাল বহন ও নবীনগর সদরে বিভিন্ন মামলামাল নিয়ে আসা-যাওয়া করে।
এবং বর্ষাকালে এই খালের পানি দিয়ে কৃষি জমিতে সেচের কাজ চলে। স্থানীয় কৃষক ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা খালের পানির গতি যদি এ ভাবে বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে বর্ষকালে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্ন সৃষ্টি ও জলবদ্ধতায় গ্রামটি তলিয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী ঐতিহ্যবাহী এই প্যরা খালটি রক্ষা ও পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে রাখতে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান ।
প্যারা খলের প্রতিবেশী মহসিন মিয়া বলেন-আমার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ভূমি অফিসের নায়েবে বারণ করা সত্বেও শওকত মিয়া তার প্রভাব দেখিয়ে সরকারি খালের উপর এবং আমার জমিতে জোরপূর্বক দোকান নির্মাণ করেন। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে এবং আমার পরিবারকে মারধর এবং আমার ঘরে হামলা করেছে। এ বিষয়ে আমি মামলা ও করেছি।
বাঁশ বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান- শওকত মিয়ার নিকট থেকে দোকান ঘরসহ ঐ জায়গা ২২ লাখ টাকায় ক্রয় করার কথা হয়। দুই লক্ষ টাকা বায়না ও দিয়ে ছিলাম। পরে জায়গা মেপে দেখি এখানে সরকারি জায়গা আছে তাই আমি আমার বায়নার দুই লক্ষ টাকা ফেরৎ নিয়ে আসি।
স্থানীয় বাসিন্দা কাইয়ুম মিয়া বলেন- সরকারি খাল দখল হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হবে, যার ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এটা আমাদের গ্রামের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয়।
অভিযুক্ত শওকত মিয়া সরকারি খালের উপর ঘর নির্মাণ অবৈধ স্বীকার করে বলেন- আশেপাশে অনেকেই সরকারি খাল ও খাস জমি দখল করেছে। সরকার যখন চাইবে তখন দখল ছেড়ে দিব।
নবীনগর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) খালেদ বিন মনসুর জানান- অবৈধ দখল ও নির্মাণ নিয়ে আমরা সর্তক। দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিব।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৫৯:০৮ ১৪৫ বার পঠিত | ● খাল দখল ● নবীনগর ● সরকারি