ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: অভাবী জনপদের হত দরিদ্র বেকারদের কর্ম সংস্থান ও ভাগ্যের উন্নয়নে নিজ গ্রামে জুতা তৈরীর কারখানা এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। উদ্দ্যোক্তা সোলাইমান হোসেন ও স্ত্রী রেগুনা বেগম রিনা দম্পতির সাহসী ও মহত উদ্দ্যোগে এলাকার মানুষ খুব খুশি।ইতোমধ্যে কারখানায় শতাধিক যুবক যুবতীদের কর্ম সংস্থান হয়েছে। কারখানায় তৈরী হচ্ছে বাহারী মডেলের নারী , পুরুষ ও শিশুদের জুতা।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের তৈরী জুতা এলাকার সিমানা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার নামী দামী শো-রুমে স্থান করে নিয়েছে। ধীরে ধীরে কারখানাটির সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। বাড়ছে জুতার চাহিদা ও বাড়ছে উৎপাদন। অত্যাধুনিক উন্নত মানের জুতা কারখানাটি গড়ে উঠেছে কুড়িগ্রামের উলিপুরের ধরলা নদী বেষ্টিত বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের জনতার হাট মুন্সিপাড়া নিভৃত গ্রামে। উদ্দ্যোক্তা দম্পতির সফলতার গল্প এখন সবার মুখে মুখে।
জানা গেছে, সোলাইমান হোসেন ঢাকার একটি লেদার ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করেন। চাকুরী করার সুবাদে স্বামী স্ত্রী দুজনে পরিকল্পনা করেন,নিজ এলাকার হত দরিদ্র বেকার যুবক যুবতীদের জন্য কিছু করা যায় কি না। এক পর্যায়ে তারা নিজের গ্রামের বাড়ীতে জুতার কারখানা করার সিদ্ধান্ত নেন। স্বপ্ন বাস্থবায়নে নিজের জমানো অর্থ ও জমি বিক্রি করে জুতা তৈরীর ৪০টি অত্যাধুনিক মেশিন কিনে নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন ”বেষ্ট সুজ এন্ড হেন্ডি ক্রাফটস” নামে জুতার কারখানা। ঢাকা থেকে প্রশিক্ষক এনে গ্রামের আগ্রহীদের ছেলে মেয়েদের প্রশিক্ষন দিয়ে মাত্র ১০ জন শ্রমিক দিয়ে ২০২৩ সালে চালু করেন এ কারখানা। বর্ত্তমানে কারখানায় শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী কাজ করছে।
সরোজমিনে ”বেষ্ট সুজ এন্ড হেন্ডি ক্রাফটস” জুতার কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, অত্যাধুনিক মেশিনের মাধ্যমে দক্ষ কারিগররা চামরার সু,জুতা, স্যান্ডেল, লোফার, চামরার মোজা, লেডিস জুতা, ব্যাগ, মানিব্যাগ, ওয়ালেটসহ উন্নত মানের চামড়াজাত পন্য তৈরী করছে। কর্তৃপক্ষ জানান, তৈরীকৃত পন্য গুলো প্রতিদিন অনলাইনে ও বিভিন্ন শো- রুমের অডারের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের, মো. মমিনুল ইসলাম ও হাজেরা বেগম বলেন, এমন অভাবী গ্রাম এলাকায় জুতার কারখানা হবে এটা তারা স্বপ্নেও দেখে নাই। কারখানাটি হওয়ায় তারা খুব খুশি। স্থানীয় শতাধিক নারী পুরুষ নিজ বাড়ীতে খেয়ে চাকুরী করে জীবিকা নির্বাহ করছে। স্থানীয়রা আশা, কারখানাটি অতিদ্রুত প্রসার লাভ করবে। সেই সাথে এলাকার দারিদ্রতা দুর করবে।
কারখানায় কর্মরত রিনা বেগম, মোচ্ছাঃ আরজিনা বেগম, সাবিনা ইয়াসমিন, জানাতুন ফেরদৌসি, নুর আলম ও মাহফুজার রহমান বলেন, আগে ১৫০/২০০ টাকায় ক্ষেতে কাজ করতাম। গ্রামে কাজ না থাকলে ঢাকায় গিয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। গ্রামে জুতার কারখানাটি হওয়ায় আমরা কাজ করে খাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। চাকুরীর আয় থেকে সংসার ও ছেলে,মেয়েদের লেখা পড়া করতে পাচ্ছি। দিন যত যাচ্ছে কারখানার উন্নতি হচ্ছে। পাশা পাশি আমাদেরও আয় বাড়ছে বলে জানান ।
তারা আরো বলেন, এ কারখানাটিকে ঘিরে গ্রামের মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখছেন। একদিন কারখানাটি অনেক বড় হবে এলাকার উন্নয়ন হবে।
স্থানীয় ক্রেতা স্কুল ছাত্রী হাবিবা বেগম,মোচ্ছাঃ শাম্মি আক্তার বলেন, আমরা কোন দিন ভাবিনি এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলে জুতার কারখানা হবে। এখানে স্বাশ্রেয়ী মুল্যে এবং বাটা, এ্যাফেস এর মত উন্নত মানের জুতা কিনতে পাচ্ছি। এখন সবাই এখান থেকে জুতা কিনেন। দুর দুরন্ত থেকেও অনেক মানুষ কারখান দেখতে আসে এবং জুতা কিনে নিয়ে যায়। শহর থেকে গাড়ী নিয়ে অনেক পরিবার এসে জুতা কিনে নিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
কারখানা ব্যবস্থাপক রেজাউল ইসলাম রোহান বলেন,বর্তমানে আমাদের তৈরী জুতার চাহিদা ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। বায়ার ও নিজস্ব মাকেটিং ব্যবস্থায় প্রায় সাড়া দেশে চলছে। এখন শতাধিক শ্রমিক কাজ করছে। গুনগতমান বজায় রেখে বিভিন্ন কোয়ালিটির ৫০০ থেকে ১ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদন হচ্ছে। তবে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারনে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সমস্যা দুর হলে চাহিদা অনুযায়ী জুতা উৎপাদন করা সম্ভব।
কারখানার মালিক মো. সোলাইমান হোসেন বলেন, এলাকার বেকার মানুষের কর্ম সংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্রতা দুরিকরন ও স্বালম্বী করার উদ্দ্যেশে গ্রামে কারখানা করেছি। বাজারে তার কারখানার তৈরী জুতার চাহিদা ভাল রয়েছে। তবে আর্থিক সংকটসহ নানা প্রতিকুলতার ও লোকসান করে ও চালিয়ে যাচ্ছি এক দিন সফলতা আসবে বলে তার বিশ্বাস।
কুড়িগ্রাম বিসিকের উপব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, আমি কারখানার মালিকের সাথে যোগাযোগ করে বলেছি বিসিক এলাকায় স্বল্পমুল্যে জায়গা ও ভাড়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫৫:০৪ ১৪৪ বার পঠিত | ● উলিপুর ● কারখানা ● জুতা