ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » তিন দিন আটকে রেখে ছাত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর বিয়ে

তিন দিন আটকে রেখে ছাত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর বিয়ে


এম সাখাওয়াত হোসেন,হাতিয়া(নোয়াখালী)
প্রকাশ: বুধবার, ২০ আগস্ট ২০২৫


তিন দিন আটকে রেখে ছাত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর বিয়ে

নোয়াখালী: বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন নিঝুমদ্বীপে মাদ্রাসার জোর পুর্বক ছাত্রীকে টানা তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে । অভিযুক্ত শিক্ষককের নাম মাওলানা মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম। বিষয়টি জানাজানি হলে বাজার কমিটি ও মসজিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে অবশেষে পরে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন নিঝুমদ্বীপ নামার বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আবুল কালামের ছেলে। তিনি নিঝুমদ্বীপ নামার বাজার মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন। এছাড়া তিনি ইসলামি যুব আন্দোলনের নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন কমিটির সদস্য হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, হুজুর জোর পুর্বক তিন দিন আমাকে মসজিদের পাশে তার থাকার রুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছেন। তিন দিন পর বাড়িতে আসালে বিষয়টি আমার পরিবারকে জানাই। আমরা গরিব মানুষ। আমার বাবা নাই। মঙ্গলবার রাতে বাজার কমিটির সভাপতি ও মসজিদ কমিটির সভাপতির সামনে সালিশে হুজুর আমাকে বিয়ে করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম বাবলু বলেন, শিক্ষক সব দায় স্বীকার করেছেন এবং বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন। আর ভুক্তভোগীও বিয়েতে মত দিয়েছেন । তাই সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছে। যদি বিয়ে না হয়ে মামলা মোকাদ্দমা হতো তাহলে ওই ছাত্রীর পরিবারের খরচ চালানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না। তারা অন্যের সাহায্যে জীবন চালায়।

বিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাজার কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আজাদ হোসেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন ধরে ছাত্রীকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। তিন দিন পরে ছাত্রী নিজে বাড়িতে ফিরে এসে জানায়, তাকে মুয়াজ্জিনের কামরায় আটকে রেখে টানা ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা শাহেদুল ইসলামকে আটক করলে তিনি সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন এবং বিয়েতে সম্মত হন। এরপর স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে ছয় লাখ টাকা কাবিনে মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মেয়েটির বাবা নেই, পরিবার অসহায়। ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। তবে ছেলে রাজি হওয়ায় সবার উপস্থিতিতে ছয় লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইসলামি যুব আন্দোলনের নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের সহ-সভাপতি শাহেদ উদ্দিন বলেন, শাহেদুল ইসলাম তিন বছর আগে কমিটির সদস্য ছিলেন। নিষ্ক্রিয় হওয়ায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সে যে কাজ করেছে তা অন্যায়। আমরা তার বিরুদ্ধে ছিলাম। তবে স্থানীয় গণ্যমান্যরা যেভাবে সমাধান করেছেন, আমরা সেটাতে সন্তুষ্ট।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সুজন বলেন,আমি বিষয়টি লোক জনের নিকট শুনেছি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগ নেই। যদি লিখিত অভিযোগ পাই তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আর/ এন

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৮:৩৮   ১৬৭ বার পঠিত  |      







চট্রগ্রাম থেকে আরও...


যারা ধর্ষণের মিথ্যা তথ্য প্রচার করে হাতিয়াকে কলংকিত করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে: মাহবুবের রহমান শামীম
হাতিয়ায় দরজার বাহিরে তালা দিয়ে ছাত্রদল নেতার ঘরে আগুন
হাতিয়ায় হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে এনসিপির বিরুদ্ধে হিন্দুসম্প্রদায়ের মানববন্ধন
নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ বিজয়ী
হাতিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় বিটিভির সাংবাদিক সহ আহত ৩০



আর্কাইভ