ঢাকা    রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
সালথার পেঁয়াজ চাষিদের সমস্যা তুলে ধরে প্রতিবেদন পাঠালেন ইউএনও নাজিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে এমপি সুলতানা জেসমিন জুইয়ের মতবিনিয় ভোলা জেলা পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন সুজানগর হাসপাতালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান লালমোহনে দেবরের মারধরে ভাবি আহত পটুয়াখালীতে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে শিল-পাটার আঘাতে হত্যা, ছেলে আটক পীরগঞ্জে এডিপি প্রকল্প হতে ২০৮ জন পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন কল্যাণমুখী রাজনীতি করে যাবো:ফজলুল হক মিলন এমপি সুজানগরে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা লালমোহনে কলেজছাত্র হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » তিন দিন আটকে রেখে ছাত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর বিয়ে

তিন দিন আটকে রেখে ছাত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর বিয়ে


এম সাখাওয়াত হোসেন,হাতিয়া(নোয়াখালী)
প্রকাশ: বুধবার, ২০ আগস্ট ২০২৫


তিন দিন আটকে রেখে ছাত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর বিয়ে

নোয়াখালী: বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন নিঝুমদ্বীপে মাদ্রাসার জোর পুর্বক ছাত্রীকে টানা তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে । অভিযুক্ত শিক্ষককের নাম মাওলানা মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম। বিষয়টি জানাজানি হলে বাজার কমিটি ও মসজিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে অবশেষে পরে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন নিঝুমদ্বীপ নামার বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আবুল কালামের ছেলে। তিনি নিঝুমদ্বীপ নামার বাজার মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন। এছাড়া তিনি ইসলামি যুব আন্দোলনের নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন কমিটির সদস্য হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, হুজুর জোর পুর্বক তিন দিন আমাকে মসজিদের পাশে তার থাকার রুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছেন। তিন দিন পর বাড়িতে আসালে বিষয়টি আমার পরিবারকে জানাই। আমরা গরিব মানুষ। আমার বাবা নাই। মঙ্গলবার রাতে বাজার কমিটির সভাপতি ও মসজিদ কমিটির সভাপতির সামনে সালিশে হুজুর আমাকে বিয়ে করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম বাবলু বলেন, শিক্ষক সব দায় স্বীকার করেছেন এবং বিয়ে করতে রাজি হয়েছেন। আর ভুক্তভোগীও বিয়েতে মত দিয়েছেন । তাই সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছে। যদি বিয়ে না হয়ে মামলা মোকাদ্দমা হতো তাহলে ওই ছাত্রীর পরিবারের খরচ চালানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না। তারা অন্যের সাহায্যে জীবন চালায়।

বিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাজার কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আজাদ হোসেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন ধরে ছাত্রীকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। তিন দিন পরে ছাত্রী নিজে বাড়িতে ফিরে এসে জানায়, তাকে মুয়াজ্জিনের কামরায় আটকে রেখে টানা ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা শাহেদুল ইসলামকে আটক করলে তিনি সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন এবং বিয়েতে সম্মত হন। এরপর স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে ছয় লাখ টাকা কাবিনে মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মেয়েটির বাবা নেই, পরিবার অসহায়। ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। তবে ছেলে রাজি হওয়ায় সবার উপস্থিতিতে ছয় লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইসলামি যুব আন্দোলনের নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের সহ-সভাপতি শাহেদ উদ্দিন বলেন, শাহেদুল ইসলাম তিন বছর আগে কমিটির সদস্য ছিলেন। নিষ্ক্রিয় হওয়ায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সে যে কাজ করেছে তা অন্যায়। আমরা তার বিরুদ্ধে ছিলাম। তবে স্থানীয় গণ্যমান্যরা যেভাবে সমাধান করেছেন, আমরা সেটাতে সন্তুষ্ট।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ সুজন বলেন,আমি বিষয়টি লোক জনের নিকট শুনেছি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগ নেই। যদি লিখিত অভিযোগ পাই তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আর/ এন

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৮:৩৮   ২১১ বার পঠিত  |      







চট্রগ্রাম থেকে আরও...


হাতিয়ায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবিতে ভূমিহীনদের বিক্ষোভ
সভাপতি জাফর ও সম্পাদক টুটুল হাতিয়ায় আলীবাজার বনিক সমিতি নির্বাচন সম্পন্ন
হাতিয়ায় কিশোরীকে অপহরণ করে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ
শিবপুরে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীত ‘জাদুঘর’ স্থাপনের উদ্যোগ
জামায়েত ইসলামের দিনব্যাপী কর্মীদের শিক্ষাশিবির



আর্কাইভ