ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: উলিপুরে চরাঞ্চলের ৩৬টি বিদ্যালয়সহ ১১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক যুগ ধরে প্রধান শিক্ষক ও ১৪৩টি সহকারী শিক্ষকসহ ৬জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শুন্য। এছাড়া একবারে শিক্ষক শুন্য মশালের চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। চরের বিদ্যালয় গুলো একজন অথবা ২জন শিক্ষক দিয়ে চলছে বছরের পর বছর।
এতে করে পাঠদান কার্যক্রমে অচল অবস্থা দেখা দিয়েছে। ফলে বর্ষাকালসহ বছরের অধিকাংশ সময় চরের বিদ্যালয় গুলোতে ক্লাস হয় না অথবা বন্ধ থাকে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষকের অভাবে ক্লাস না হলেও পরীক্ষায় তাদের পাশ করাতে হচ্ছে। ফলে চরের শিক্ষার্থীরা প্রাইমারী পাশ করলেও মাধ্যমিকে ভর্তি হতে না পেরে ঝড়ে পড়ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে,২৬৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ২৬৭, কর্মরত আছেন ১৫৫ জন, শুন্য পদ ১১২। সহকারী শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৪৫৭টি কর্মরত আছেন ১৩৩০ জন, শুন্য পদ ১৪৩। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদ রয়েছে ৯টি, কর্মরত আছেন ৩ জন, ৬টি পদ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শুন্য। মোট ভর্ত্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪২২ জন।
ধরলা, তিস্তা ও ব্রম্মপুত্র নদী বেষ্ঠিত উপজেলার বেগমগন্জ, সাহেবের আলগা, হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, বজরা, গুনাইগাছ ও থেতরাই ইউনিয়নের ৪০টি চরে অবস্থিত ৩৬টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত প্রায় এক যুগ ধরে প্রধান শিক্ষক ও অধিকাংশ সহকারী শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে।
অবিভাবকও স্থানীয়রা জানান, চরের স্কুল গুলো একজন, সর্বচ্চ দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলে। তারাও প্রায় আসেন না ফলে বন্ধ থাকে স্কুল। চরের স্কুল গুলো চলছে কিনা তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের তেমন কোন মাথা ব্যথা বা উদ্দ্যোগ নেই বললেই চলে। চরের স্কুল গুলোতে কেউ যেতে চায় না, তাই এ অবস্থা বলে উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্র জানায়।
ইতিপূর্বে কয়েক দফা নুতন শিক্ষক নিয়োগ হলেও এসব চরের স্কুলে কাইকে দেওয়া হয়নি বরং চরের বেশ কিছু শিক্ষককে ডেপুটেশনে অন্যত্র পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
সিমান্ত ইউনিয়ন সাহেবের আলগার, মশালের চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক শুন্য থাকা যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে একজন শিক্ষক আছেন, সম্প্রতি তার বিসিএস ক্যাডারে প্রানী সম্পদ বিভাগে চাকুরী হওয়ায় আবারও স্কুলটি শিক্ষক শুন্য হয়ে পড়েছে।
এছাড়া প্রধান শিক্ষক ছাড়াই,একজন অথবা দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলছে, দই খাওয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,তিন হাজারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বাঘুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,বেগম নুরনাহার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর গুজিমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,মেকুরের আলগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,গুচ্ছ গ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,সাহেবের আলগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,বালাডোবা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুখের বাতীর চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খুদির কুঠি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৩৬টি বিদ্যালয়।
সুখের বাতীর চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক মাত্র শিক্ষক ও (ভারঃ) প্রধান শিক্ষক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন,তার স্কুল ভবন দুই বছর আগে নদীতে ভেঙ্গে গেছে,পাশের এক ব্যক্তির বাড়ীতে ভাড়া দিয়ে কোন রকমে স্কুল চালাচ্ছি। তিনি কুড়িগ্রামে থাকেন, প্রতিদিন যাওয়া সম্ভব হয় না। তবে সপ্তাহে দুই দিন যান। বাকী দিন তার নিজস্ব প্যারা শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালু রেখেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন এ ভাবে শিক্ষদান করা সম্ভব নয়।
মশালের চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন,তিনি শিক্ষক শুন্য স্কুলটিতে বিগত ২০২৪ সালে যোগদান করেন। তার পর থেকে তিনি একাই স্কুল চালাচ্ছেন। ৬ পদের স্কুলটিতে ১১৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ৪৪তম বিসিএসএ তার চাকুরী হওয়ায় তিনি ইস্তোফা দিয়েছেন। বর্তমানে স্কুলটি শিক্ষক শুন্য।
সুখের বাতীর চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. আব্দুস ছবুর বলেন, শিক্ষক সংকটের কারনে চরে স্কুল গুলো প্রায় বন্ধ থাকে, মাঝে মধ্যে খোলে কিন্ত ক্লাস হয় না। তার উপর নজরদারী না থাকায় চরের পাঠদান কার্যক্রম একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা(চলতি দায়িত্ব) মোছাঃ নার্গিস ফাতেম তোকদার বলেন, শিক্ষক সংকট,সঠিক সময় শিক্ষক উপস্থিতি,সর্বপরী শিক্ষকদের আর্ন্তরিকতা ও কারিকুলাম মোতাবেক পাঠদান না করায়,পাঠদান কার্যক্রম কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। কমেছে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় নজরদারীতে ঘাটতি রয়েছে। তিনি যোগদানের পর থেকে শিক্ষক উপস্থিতি ও শিক্ষার্থী উপস্থিতির উপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন বলে তিনি জানান।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪২:৪৯ ৮৫৪ বার পঠিত | ● উলিপুর ● নেই প্রধান ● প্রাথমিক ● বিদ্যালয় ● শিক্ষক