ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
মাগুরা: মহম্মদপুরে মধুমতী নদীর ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে নদী পাড়ের বিশ গ্রামের অসংখ্য মানুষ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মধুমতী নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে নদী পাড়ের প্রায় ২০ গ্রামের হাজারো মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অনেকেই আগে থেকেই গাছপালা বিক্রি করে সরিয়ে নিচ্ছে ঘর-বাড়ি। এর মধ্যেও নদীতে চলছে অবধৈ বালু। এর ফলে নদী ভাঙনের তীব্রতা ভয়াল আকার ধারণ করেছে বলে নদী তীরবর্ত্তী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলে াঅভিযোগ করেছেন।
সাধারনত বর্ষা মৌসুমে মধুমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়ে যায় ¯্রােত। এর ফলে বেড়ে যায় ভাঙনের তীব্রতা। গত কয়েক দিনের ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে ২০টি পরিবারের অর্ধশতাধিক বসতঘর, গাছপালা ও শতশত একর আবাদি জমি। জমিজমা ও বসতভিটা হারিয়ে অনেকে আবার সর্বশান্ত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
অনেক পরিবার ভাঙনের সম্মুখদ্বারে ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। সরজমিনে শুক্রবার বিকেলে ভাঙন কবলিত রুইজানি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় তাড়াহুড়ো করো গাছপালাকেটে বসতঘর সরিয়েঅনত্র নিয়ে যাচ্ছেন। ভাঙনের কাছাকাছি থাকা দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস ও উত্তম কুমার বিশ্বাস এভাবে নদীর ভাঙন থাকলে আমাদেররও খুব দ্রুত এখান থেকে চলে যেতে হবে।
উপজেলার উত্তরে চরসেলামতপুর থেকে শুরু করে দক্ষিণে কালিশংকরপুর পর্যন্ত প্রায় ২০টি গ্রাম মধুমতির ভাঙনের মুখে রয়েছে। তাই নদীর তীরবর্তী বসবাসকারী মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। গোপালনগর, মহেষপুর, হরেকৃষ্ণপুর, ঝামা, চরঝামা, আড়মাঝি, যশোবন্তপুর, চরপাচুড়িয়া, রায়পুর, মুরাইল, ধুপুড়িয়া, জাঙ্গালিয়া, রুইজানি, কাশিপুর, ধুলজুড়ি, দেউলি ও ভোলানাথপুরসহ প্রায় বিশটি গ্রাম প্রতি বছরই নদী ভাঙনের শিকার হয়। প্রতি বছরই এইসব গ্রামগুলোর মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, স্কুল, বাজার ও মন্দিরসহ অসংখ্য দোকান-পাট ভাঙনের কবলে পড়ে।
বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ রুপে দেখা দেয় মধুমতি তাই মৌসুম শুরুতেই এসব গ্রামের মানুষের মধ্যে শুরু হয় আতঙ্ক। মধুমতী নদীর ভাঙনের ফলে ক্রমাগত বাড়ছে ভূমিহীনের সংখ্যা। ভাঙনরোধে নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ নদী পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও তা কার্যকর হয়নি পরিপূর্ণভাবে।
তবে স্থানীয়দের দাবী নদী অবৈধ্য বালু উত্তোলনের ফলে নদীর ভাঙন বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। বালু উত্তোলন বন্দ্বে উপজেলা প্রশাসন মাঝেমধ্যে সোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও স্থায়ীভাবে বন্দ্ব হচ্ছেনা তা। ফলে নদী ভাঙনের তীব্রতা ক্রমাগত বেড়েই চলছে।
গোপালনগর গ্রামের লায়লা পারভীন বলেন, বর্ষা মৌসুম আসলেই আমাদের চিন্তার শেষ থাকেনা, বাপ দাদার আমল থেকে কয়েকবার ঘরবাড়ি সরিয়েছি এবং অনেক ফসলি জমি ও গাছপালা নদী গর্বে বিলীন হয়েছে। মো. মফিজুর রহমান জানান, আমাদের প্রায় ১০ একর জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। সম্প্রতি এসব এলাকার অনেক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি মধুমতি ভাঙনের চরম ঝুঁকিতে থাকায় চরম আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন নদী পাড়ের অনেক মানুষ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনুর আক্তার বলেন, আমি ভাঙন করবলিত এলকা পরিদর্শন করে তাদেও সার্বিক সহযোগিতা করেছি। অবৈধ্য বালু উত্তোলন বন্দে একাধিক বার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ঠদের গ্রেফতার ও জরিমানা করছি।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৩৪:৫৭ ২০০ বার পঠিত | ● ভাঙন ● মধুমতীর ● মহম্মদপুর