ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ঢাকা: দোহার উপজেলা নয়াবাড়ি উইনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হারুন অর রশিদ মাস্টার হত্যাক-ে জড়িত আসামি শরিফ হাসান(২৮) ও আল আমিন(২৭) নামে দুইজনকে বুধবার শেষ রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে দোহার থানা পুলিশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় দোহার থানার প্রধান ফটকে বিক্ষোভ করেন নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বিএনপি’র একাংশের নেতাকর্মিরা।
এসময়ে তারা বিচারে খুনীদের ফাসিঁর দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. হাসান আলী এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের পাশাপাশি মূল হোতাদের গ্রেফতারের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই সকালে বিএনপি নেতা হারুন মাস্টারকে নয়াবাড়ি এলাকায় পদ্মার তীরে প্রকাশে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার ৭২ ঘন্টা পর দোহার থানায় নিহতের ছোট ভাই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলার এজাহারে বিএনপি নেতা সামসুউদ্দিন মেম্বারকে প্রধান আসামী করে,৭ জনকে এজাহার নামীয় এবং ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা রুজু করা হয়।
মামলার এজাহারে দোহারে বিএনপির স্থানীয় কোন্দলকে দায়ী করা হয়েছে।বিশেষ করে পদ্মায় ড্রেজারের মাধ্যমে স্থানীয় বালু নিয়ন্ত্রন ব্যবসা নিয়ে ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুউদ্দিন মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব নাসির উদ্দিনদের সাথে চরম বিরোধ চলে আসছিলো হারুন মাষ্টারের।
সেই বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে গত ২ জুলাই বুধবার সকালে ফজরের নামাজ পড়ে ধোয়াইর পদ্মা নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে সড়কে হাঁটতে বের হলে নিহত হারুন মাষ্টার। এ সময়ে মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলিবর্ষন শুরু করে। এ সময়ে হারুন মাষ্টারকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করার পরও মৃত্যু নিশ্চিত করতে আবারও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মটর সাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মামলার বাদী আব্দুল মান্নান বলেন, আমার ভাই নীতি ও আদশবার্ন একজন মানুষ ছিলেন। আগামী ইউপি নির্বাচনে নয়াবাড়ি ইউনিয়ন থেকে আমার ভাইয়ের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দাড়াবার কথা ছিলো বিএনপি’র দলের পক্ষ থেকে। এছাড়াও এ অঞ্চলে রাতের আধাঁরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে আমার ভাই হারুন মাষ্টারের ভুমিকা ছিলো অন্যতম।
ফলে এসকল অন্যায় কাজকে প্রশয় না দেওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী বালু ও জমি ব্যবসায়ীদের প্রশয় না দেওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করা হউক। এ সময়ে তিনি প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
নিহত হারুনের স্ত্রী নাহিদা পারভিন বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, আমার স্বামী হারুনুর রশিদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায়,আমার স্বামীর জীবন কাল হয়ে দাড়িয়েঁছে।বিদ্যালয়ে আর মাত্র ১৭ দিন বাকি রয়েছে অবসরে যাওয়ার। আমি এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.হাসান আলী জানান, এজাহার নামীয় হত্যা মিশনে সরাসরি অংশগ্রহনের দুইজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও অপর আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৩৪:০৯ ৮৩ বার পঠিত | ● থানা ● দোহার ● বিক্ষোভ ● মামলা ● হত্যা