ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: উলিপুরে জাইকার ৩টি সড়ক উন্নয়নের ৯ কোটি টাকা কাজে নয়ছয় আট মাসের কাজ চার দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করলেও ৪ বছরেরও শেষ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে । মাটির বদলে বালু, ও সড়ক প্রশস্ত না করে এইচবিবি করনের কাজ শেষ না হতেই বৃষ্টিতে ভেঙ্গে ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। ফলে ৩টি ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতে চরম বিরম্বনা দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কিন্ত ঠিকাদারের আগ্রহ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।
জানা গেছে,২০২১-২০২২ অর্থ বছরে জাইকার অর্থায়নে গ্রামীন দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বর্ধিতকরন ব্যব্রস্থাপনা প্রকল্পের অধিনে দুযোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর তিনটি সড়কে মাটি ভড়াট,প্রশস্তকরন ও এইচবিবি করার প্রক্রিয়া শুরু করে। উপজেলার বন্যা প্রবন ধরনীবাড়ী, হাতিয়া ও সাহেবের আলগা ইউনিয়নের তিনটি সড়কের কাজে বরাদ্ধ দেওয়া হয় ৯ কোটি টাকা।
কাজ গুলির দায়িত্ব পান রাঙ্গামাটির মেসার্স ছালেহা এন্টারপ্রাইজ,চট্রগ্রামের মেসার্স শাহ জব্বারিয়া কনষ্ট্রাকশনও নোয়াখালির মেসার্স মোস্তফা অ্যান্ড সন্স আট মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার শর্তে বিগত ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে তারা কাজ না করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রন্জন কুমার মজুমদার ভোলাকে সাব কন্ট্রাক দেন। তিনি মাটির কাজ ধরনীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হক ও সাহেবের আলগা চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর রহমানকে দেন। নিদিষ্ট সময় কাজ শেষ না হলে কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। কিন্ত প্রকল্পের নক্সা বর্হিভুত সড়ক প্রশস্ত না করে মাটির বদলে বালু ফেলাসহ নানা অনিয়ম, দুনীতিও মান নিয়ে জাইকার সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
নানা নাটকিয়তার পর আবার কাজ চালু হয়। কিন্তু নক্সা বর্হিভুত ভাবে প্লাসাইড,বক্স কাটিং,নিম্মমানের ইট দিয়ে এইচবিবি করন,বালু ভড়াট, সাইড স্লোপ ও ঘাস না লাগিয়ে ৪ বছরে ধরনীবাড়ী ও হাতিয়া সড়কের কাজ ৫০/ ৬০ ভাগ শেষ হলেও সাহেবের আলগা সড়কে মাটির বদলে বালু ফেলা হয়েছে। নদী বেষ্টিত সাহেবের আলাগা ইউনিয়নের চলাচলের এক মাত্র সড়ক”আনন্দ বাজার থেকে সুনাদগন্জ সোলার বাজার হয়ে নামাজের চর পর্যন্ত সড়কটিতে মাটি বদলে বালু ফেলার কারনে বর্ষার সময় হাটু পানি কাদা ও শুকনো সময় ধুলা বালুতে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
উলিপুরে জাইকার ৩টি সড়ক উন্নয়নের ৯ কোটি টাকা কাজে নয়ছয়। আট মাসের কাজ চার দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করলেও ৪ বছরেরও শেষ হয়নি। ফলে ৩ ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতে চরম বিঘ্ন দেখা দিয়েছে
নামাজের চরের বাসিন্দা ফজল শেখ বলেন,হুনছিলাম আস্তাটা পাকা হইব। ভাবছিলাম আমাগো চরের মানষের ভালা হইব। অহন দেহি পাকা তো হইলোনি আস্তাটা অহন গলার কাডা হইছে। আগেই ভালা ছিল। ধরনীবাড়ী ঝাকুয়া পাড়ার বাসিন্দা রব্বানী মিয়া বলেন, আজ ৪ বছর ধরে সড়কটার কাজ কিছু হয়েছে আবার অনেক জায়গায় শুধু মাটির কাজ করেছে। কোথাও ইট বিছানো হয়েছে তা আবার ভেঙ্গে যাচ্ছে। ফলে সড়কটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আমাদের যাতায়াত খুব কষ্ট হচ্ছে। একই গ্রামের ফরহাদ হোসেন ও হাতিয়া মন্ডল পাড়া গ্রামের আজগর আলী(৬৫) সড়কটি পুরো পাকা করনের দাবী জানান।
সাহেবের আলগা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাফ্ফর রহমান বলেন, সাব ঠিকাদার ভোলা আমাকে মাটি ভড়াটের কাজ দিয়েছিল আমি মাটি ভড়াট করেছি টাকা পাইনি। গত ৫আগষ্ট ঘটনার পর সে পালিয়েছে। তিনি সড়কটি পাকা করার দাবী জানান।
এ বিষয়ে সাব ঠিকাদার রন্জন কুমার ভোলার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। মোস্তফা অ্যান্ড সন্স ও শাহ জব্বরিয়া কন্ট্রাকশনের মালিক তপন মিয়া (পুরো নাম বলতে অস্বীকৃতি) জানিয়ে বলেন,হাতিয়ার কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ করেছি। তবে সাহেবের আলগার কাজ নিয়ে ঝামেলায় পড়েছি। শুনেছি ভোলা চেয়ারম্যানকে টাকা দেয়নি। বিষয়টি সুরাহা হলে কাজ করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফিজানুর রহমান বলেন, কাজ গুলির পুরো তত্বাবধান ও বিল প্রদান করেন জাইকা। আমরা শুধু কাজ দেখি। হাতিয়া ও ধরনীবাড়ী সড়কের কাজ ৬০ ও ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। তবে এখন কাজ বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে জাইকার জুনিয়ার প্রকৌশলী মো. শামছুজ্জামান বলেন,তিনি মাত্র কয়েক মাস হয় কাজ গুলো তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন। ঠিকাদারদের সাথে দেখা হয়নি । ঠিকাদারদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ না করলে কাজ বাতিল হতে পারে।
প্রকল্পের ডেপুটি পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান বলেন,একটা কাজ প্রায় শেষ, আর একটার ৭০ ভাগ কাজ হয়েছে। সাহেবের আলগা সড়কের কাজ বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। তবে নক্সা মোতাবেক কাজ না হলে পুরো বিল দেওয়া হবে না বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ্এনও) নয়ন কুমার সাহা বলেন,শুনেছি অনেক দুর্নীতির অভিযোগে কাজ বন্ধ ছিল আমি খোজ নিয়ে কাজ গুলো করার ব্যবস্থা নিচ্ছি বলে জানান।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২১:১৪ ৪২৮ বার পঠিত | ● উলিপুর ● কাজ ● সেঁতু নির্মাণ