ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
শিরোনাম
![]()
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা দুই দিন ধরে যানজট বিরাজ করছে।আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল উপজেলার বেড়তলা, সরাইল বিশ্বরোড মোড় ও শাহবাজপুর সেতু হয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুর পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার এলাকায় গতকাল বুধবার ভোর রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট রিখা পর্যন্ত যানজট ছিল।
বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরের বড় গর্ত এই যানজটের প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা
দেখা যায়, বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরের চারপাশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গোলচত্বরের তিন–চতুর্থাংশ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। চালকদের বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
দূরপাল্লার যানবাহন মহাসড়কের এই অংশে থেমে যাচ্ছে; কিছুক্ষণ পরপর গাড়ি গর্তে আটকে বা বিকল হয়ে পড়ছে। ঢাকা থেকে সিলেটগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাক আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গোলচত্বর এলাকায় থেমে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার পর থেকে যানজট শুরু হয়। বুধবার ভোর ৬টার পর যানজট আরও বেড়ে যায়। আজ ২রা অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইলের বেড়তলা, বিশ্বরোড মোড় ও শাহবাজপুর সেতু হয়ে হবিগঞ্জ মাধবপুর পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
গত দুই দিনে কয়েকবার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক ও সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কে যানজট দেখা গেছে। শত শত নারী-পুরুষকে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। দিনভর মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কম ছিল। জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সিলেট থেকে ঢাকাগামী লাবিবা পরিবহন বাসের চালক কামাল হোসেন বলেন, “রাত ২টায় ছিলেন চান্দুরা, এখন বেলা ১১টায় আছি বিশ্বরোড এলাকায়। মনে হচ্ছে আমরা কারও কাছে জিম্মি হয়ে আছি। একটু জায়গা ঠিক করলে আমরা চলতে পারতাম, কিন্তু তা হচ্ছে না।”
বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের নাছিম মিয়া বলেন, “ঢাকা থেকে মাল আনতে যাই, কিন্তু বিশ্বরোডে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে আবার বাড়ি ফিরে আসতে হলো।”
ঢাকা থেকে আসা তেলবাহী ট্রাকের চালক আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের কপাল খারাপ। না হলে মাসের পর মাস এই দশা কেন হবে? এখানে আসলেই আমাদের ঝামেলা।”
চান্দুরা-রামপুরা এলাকায় মহাসড়কের কাজী মিজানুর রহমান বলেন, “সকাল থেকেই সড়কে যানজট। অনেক যাত্রী ও চালককে শুকনো খাবার ও পানি দিয়েছি।”
সরাইল থানার পুলিশ ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে মাঠে রয়েছে। এর আগে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও কাজ করছিলেন।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গতকাল ভোর রাতে বৃষ্টির ফলে গর্তে পানি জমে এই যানজট হয়েছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। কয়েকদিন আগে ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করেছি, কিন্তু বৃষ্টি হলে তা আবার কাদা ও ইটবালুতে পরিণত হয়।”
আশুগঞ্জ-আখাউড়া চারলেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ বলেন, “প্রকল্পের সমস্যার সমাধান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে হয়েছে। ১৬৩ কোটি টাকা নতুন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।”
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫৩:৩৭ ৮২ বার পঠিত | ● নাসিরনগর ● ব্রাহ্মণবাড়িয়া ● মহাসড়ক ● যানজট