ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: কলাপাড়ায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমায় রাতের আকাশে ফানুস উড়ানো হয়েছে।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর পরই প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসবকে ঘিরে উপজেলার ২৮টি রাখাইন পল্লিতে তৈরি হয়েছে উৎসব মুখর পরিবেশ। আলোকসজ্জা করা হয়েছে প্রতিটি বিহার।
হঠাৎ করে দূর আকাশে তাকালে মনে হয়েছে অসংখ্য তারার মেলা, মিটমিট করে জ্বলছে। আবার মাঝে মধ্যে দুই একটি মাটিতে খসে পড়ছে। আসলে এগুলো তারা নয়। এগুলো আকাশছোঁয়া রঙ-বেরঙের ফানুস।
এদিকে ফানুস উৎসব দেখার জন্য রাখাইন পল্লীর আশপাশে উৎসুক লোকজনের ভিড় দেখা গেছে চোখে পড়ার মতো। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেনো না ঘটে সে জন্য রাখাইন পল্লিগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সূত্রে জানা গেছে, আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বর্ষাব্রত শুরু হয়ে কার্তিকের এ পূর্ণিমাতে শেষ হয়। এ সময় বৌদ্ধবিহারগুলোতে তিন দিনব্যাপী গৌতম বুদ্ধের স্মরণে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এ প্রবারণা পূর্ণিমা। এই দিনে গৌতম বুদ্ধ ধর্ম প্রচার শুরু করেন। প্রতি বছরই এই সময় আকাশে ফানুস উড়িয়ে এবং ধর্মীয় নানা আয়োজনের মাধ্যমে গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করা হয়। এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আর রাতে আকাশে উড়ানো হয় নানা রঙের ফানুস। এই দিনে রাখাইনরা আপ্যায়ন, অভিলাষ পূরণ, ধ্যান শিক্ষা ও কর্মসম্পাদনের লক্ষ্যে প্রতিদিন সকালে পরিষ্কার পোশাকে বিভিন্ন বিহারে গমন করে।
রাখাইন মংচো বলেন, প্রবারণা ঘিরে বৌদ্ধ বিহার গুলোতে চলছে নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। এছাড়া রাখাইন পাড়াগুলো থেকে একের পর এক আকাশে উড়ানো হয়েছে ফানুস। বর্তমানে প্রতিটি পাড়াই বিরাজ করছে উৎসব মুখর পরিবেশ।
রাখাইন যুবক চোতেন মাতুব্বর জানান, এ উৎসব ঘিরে রাখাইন পল্লীর প্রতিটি ঘরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বিহার গুলোতে চলছে ধর্মীয় আলোচনা। একই সাথে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। ধর্মীয় চেতনায় নর-নারী, শিশু, যুবক-যুবতীরা নতুন পোশাক ও উন্নতমানের খাবার নিয়ে বিহারে গমন করছেন। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনকে আতিথেয়তায় পরিবেশন করা হয় বিন্নি চালের হরেক রকম পিঠা পুলি। দীর্ঘ একমাস ধরে রং-বেরংয়ের কাগজ এবং বাঁশের কঞ্চি দিয়ে দেড়শো ফানুস বানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাখাইন নেতা তেননেন বলেন, আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। ফানুস এখন সার্বজনীন উৎসব। নানা পেশাজীবী, সকল ধর্মের লোকজন এ উৎসবে মিলিত হয়ে আনন্দ পায়।
এ উৎসবে অংশ নেয় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীক সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আজ মঙ্গলবার থেকে এক মাস প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে শুরু হয়েছে কঠিন চীবরদান উৎসব।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৬:৩৭ ২২৪ বার পঠিত | ● কলাপাড়া ● নানা রঙ ● ফানুস ● শূন্যে ভাসে