ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » ঢাকা » ঘাটে ট্রলারে রেখেই ইলিশ বিক্রি করছে জেলেরা

ঘাটে ট্রলারে রেখেই ইলিশ বিক্রি করছে জেলেরা


আড়াইহাজার ( নারায়ণগঞ্জ ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫


ঘাটে ট্রলারে রেখেই ইলিশ বিক্রি করছে জেলেরা

নারায়ণগঞ্জ: বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা। মেঘনা নদী থেকে ইলিশ শিকার করে বঙ্গারবাজার ঘাটে ট্রলার নিয়ে আসে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন আনু বেপারী। সেখানে পূর্বে থেকে অপেক্ষায় থাকা পাইকারাই সুর্য উঠার আগেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনু বেপারীর কাছ কাছ থেকে ইলিশ কিনে সটকে পরে। এ দৃশ্য শুধু বঙ্গারবাজার ঘাটেই নয় মেঘনা নদী নয়ানাবাদ, মধ্যারচর ঘাটগুলোতেও ট্রলারে রেখেই জেলো ইলিশ বিক্রি করছে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মৎস্য অভিযানের পর গভীর রাতে মেঘনায় মা ইলিশ শিকার করছে এক শ্রেণির অসাধু জেলে। নয়নাবাদ এলাকা বাসিন্দা আব্দুল ওহাব মিয়া জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালালেও ইলিশ শিকার করা থামছেনা। অভিযানের পরপরই গভীর রাতে জেলারা কারেন্ট জাল ফেলে মেঘনা নদীতে। নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ জালে বেশি ধরা পড়ছে। তবে এক্ষেত্রে জাল জব্দ করার পাশাপাশি অসাধু জেলেদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।
মৎস অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার মেঘনা নদীর বিশনন্দী, দয়াকান্দা, চৈতনকান্দা, খাগকান্দা ও কালাপাহাড়িয়া এলাকায় অভিযান চলে। এ সময় জেলেদের কাছ থেকে দুই লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ১০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা করা হয়।
গত ১৩ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর মেঘনা নদীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৮ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। গত ১১ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর মেঘনা নদীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। গত ৭ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর মেঘনা নদীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৭ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়।

গত ৩ অক্টোবর রাতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস অধিদপ্তর ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযানে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। আর অভিযান চলাকালীন জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং জব্দ করা ইলিশ মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। তবে এসব অভিযানে ইলিশ শিকারের অপরাধে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
এদিকে, মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় এক হাজার ১ হাজার ৬০০ কার্ডধারী জেলে রয়েছে। এদের মধ্যে মেঘনা তীরবর্তী তিন ইউনিয়ন বিশনন্দীতে ১৩৭ জন, খাগকান্দা ৩শ’ ৫০ জন ও কালাপাহাড়িয়া ১শ’ ২০ জন কার্ডধারী জেলে রয়েছে। তাদের মধ্যে হত দরিদ্র ৪শ’ ৫০ জন জেলেকে ইলিশের প্রজনন মৌসুম ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, অনেক জেলে মৎস্য আইন সম্পর্কে সচেতন না। ফলে জেলেরা গোপনে নদীতে জাল ফেলে মা ইলিশ ধরছে। তবে অভিযান অব্যাহত আছে। মা ইলিশ রক্ষায় নৌ পুলিশ, মৎস বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।
খাগকান্দা নৌ-পুলিশ ফাড়ি ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, মা ইলিশ শিকার বন্ধে নৌ পুলিশ তৎপর রয়েছে। রাতেও মেঘনা নদীতে পুলিশ নিয়মিত টহল দিয়ে যাচ্ছে।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪২:১২   ২৬২ বার পঠিত  |      







ঢাকা থেকে আরও...


কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
মধুখালীতে গাঁজাসহ ‘হাতকাটা রাজিব’ গ্রেপ্তার
সদরপুরে নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
দোহারে ইট ভাটায় পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন, কাটছে ফসলী জমি
ভূঞাপুরে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন সেলিনা



আর্কাইভ