ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নোয়াখালী: আগুন লাগানোর কোন চিহ্ন নেই ঘরে। দেওয়া হয় ঘর পোড়ানোর মামলা। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অন্য জায়গার আগুনের চিত্র দেখিয়ে করা হয় এ মামলা। তাতে আসামী করা হয় জমি নিয়ে বিরোধ থাকা প্রতিপক্ষকে। ঘটনাস্থলে না গিয়ে সত্য বলে প্রতিবেদন দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা। এতে মিথ্যা মামলায় অনেকটা বিপদে ব্যবসায়ীর পরিবার।
এদিকে মিথ্যা মামলা থেকে প্রতিবেশিকে বাঁচাতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে।
জানা যায়, গত ১১ আগষ্ট নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে ঘর পোড়ানোর অভিযোগ এনে একটি মামলা করা হয় হাতিয়া ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মজিবুল হকের স্ত্রী শিরীন আকতার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ব্যবসায়ী বেলাল উদ্দিন সহ ১০জনকে এতে আসামী করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে। ইতিমধ্যে কর্মকর্তা তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে ঘটনা সত্য বলে প্রতিবেদন দেন।
এদিকে ঘটনাটি জানাযানি হয়ে গেলে সমালোচনার ঝড় উঠে। ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রতিবাদ করেন এলাকাবাসি। তারা মানববন্ধন করে এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও মিথ্যা মামলা থেকে ব্যবসায়ী বেলাল সহ আসামীদের অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান।
শনিবার বিকালে প্রায় দুই শতাধিক স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে নিঝুমদ্বীপ হরিণ বাজারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে বক্তব্য রাখেন বাজারের ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমামাম, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিরা। তারা বলেন, বাজারের পাশে বাদীর বাড়ী। বাজার থেকে তার ব্যবহার করা ঘরটি দেখা যায়। এই ঘরে আগুন দেওয়ার মতো কোন ঘটনা ঘটে নি। ব্যবসায়ী বেলালের সাথে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ। এজন্য অন্য জায়গার আগুনোর চিহ্ন দেখিয়ে দেওয়া হয় এই মামলা। এছাড়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী ইমরান হোসেন এলাকায় না এসে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। মিথ্যা এই মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
এই বিষয়ে মামলার বাদী শিরিন আক্তার বলেন, ছয় মাস আগে রাতে তাদের ঘরের দক্ষিন পাশে রান্না ঘরের ভেড়ায় আগুন লাগে। পরে প্রতিবেশিরা এসে নিবিয়ে পেলে। তাতে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। কিন্তু কেউ লাগিয়েছে কিনা তা তিনি দেখেননি। কিন্তু পরে আগুনে ঘরপুড়ানোর মামলা কেন দিয়েছেন এই প্রশ্নে উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাকী আকতার জানান, ঘর পুড়ানোর মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্যদিয়ে করা হয়েছে। এখানে আগুনে পুড়ানোর কোন ঘটনা ঘটে নি। ব্যবসায়ী বেলাল উদ্দিন স্থাণীয়দের উপস্থিতিতে নুরবানু থেকে এই জমিটি ১৪ লাখ টাকায় ক্রয় করে। পরে নুরবানুর ছেলে এসে আপত্তি জানান। তাতে তাকেও দেওয়া হয় ৮ লাখ টাকা। এর পরে ও ছেলেটি বিভিন্ন ভাবে ব্যবসায়ী বেলাল উদ্দিনকে হয়রানি করে আসছে। এপর্যন্ত চারটি মামলা দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সে তার স্ত্রীকে দিয়ে ঘরপুড়ানোর মামলাটি দেয়। তাদের এই বিরোধ নিয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে শালিশ বৈঠক হয়েছে। তাতে একবারও ছেলেটি উপস্থিত হননি।
এই বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার কাজী ইমরান হোসেন বলেন, মামলার বাদী ঘরে আগুন দেওয়ার ভিডিও ও ছবি এনে দিয়েছেন। তাতে আমার কাছে ঘঠনাটি সত্য বলে মনে হয়েছে। সে মোতাবেক আমি প্রতিবেদন দিয়েছি। আমার সাথে আসামিরা দেখা করেছে। তারা ঘটনাটি সত্য নয় বলে জানিয়েছে। আমি তাদেরকে পুন তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করতে বলেছি।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:২৩:৪৫ ১১৮ বার পঠিত | ● ঘর ● পোড়ানো ● মামলা ● হাতিয়া