ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে আশার হাঁসি

আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে আশার হাঁসি


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫


আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে আশার হাঁসি

পটুয়াখালী: উপকূলজুড়ে এখন এক অন্যরকম দৃশ্য। চোখ যত দূর যায়, কেবল সবুজ-সোনালি আমন ধানের শস্য শ্যামল মাঠ। হালকা বাতাসে দুলছে পাকা ধানের ছড়াগুলো। কৃষকের মুখে আশার হাসি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার তারা দেখছেন এক সমৃদ্ধ মৌসুমের সম্ভাবনা। বছরের অন্যতম সেরা ফলনের আশায় দিন গুনছেন কৃষকেরা।
পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩৮ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৪ হাজার ৪৮৫ হেক্টর, বাউফলে ৩৪ হাজার ৭১০, গলাচিপায় প্রায় ৩৬ হাজার, কলাপাড়ায় ৩০ হাজার, দশমিনায় ১৮ হাজার, মির্জাগঞ্জে ১০ হাজার, দুমকিতে ৬ হাজার ৫০০ এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৩০ হাজার ১৪৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার আটটি উপজেলার প্রায় সর্বত্রই মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। কোথাও কোথাও ধান পাকতে শুরু করেছে। হালকা সোনালি রঙ্গে বদলে যাচ্ছে ধান ক্ষেতের দৃশ্য। চারপাশের দৃশ্য বলছে এবার আমনে বাম্পার ফলন আসছে।
বুধবার সরেজমিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সুস্থ সবল গাছ, ঝুলে থাকা ভারী ধানগুচ্ছ আর ব্যস্ত কৃষক। কেউ সার ছিটাচ্ছেন, কেউ শেষবারের মতো কীটনাশক দিচ্ছেন। মুখে তাদের প্রশান্তির ছাপ। কথা হয় পটুয়াখালী সদর উপজেলার শরীকখালী গ্রামের কৃষক মোঃসহিদ হাওলাদার বলেন, “তিন একর জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। সময়মতো বৃষ্টি আর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছি।” গলাচিপার কৃষক আবদুল খালেকের সাথে।

তিনি ১২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। ধানের অবস্থা খুবই ভালো। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন আশানুরূপ হবে বলে জানান এই কৃষক।একই উপজেলার কৃষক আবদুস সোবাহান, যিনি ৪৮ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। আশা করছেন প্রতি একরে ৫০ মণ পর্যন্ত ফলন পাবেন। “যদি আকস্মিক ঝড় বা লবণাক্ততা না বাড়ে, তাহলে খুব ভালো ফলন হবে” বলেন তিনি।
তবে কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের প্রবীণ কৃষক সুলতান গাজী কিছুটা উদ্বিগ্ন। তাঁর আশঙ্কা, “আগামী কয়েক সপ্তাহে যদি সাময়িক বেড়িবাঁধগুলো মেরামত না করা হয়, তাহলে স্লুইসগেট দিয়ে লবণাক্ত পানি ঢুকে ক্ষতি হতে পারে।”
এখন কৃষকদের একটাই প্রার্থনা প্রকৃতি যেন শান্ত থাকে। পাকা ধানের ক্ষেতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তারা দেখছেন স্বপ্নের সোনালি ফসলের হাতছানি। পটুয়াখালীর উপকূলের এই কৃষকেরা আবারও প্রমাণ করছেন, প্রতিকূলতার মাঝেও পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ে ফসল ফলানোই তাদের জীবনের জয়গান।
কৃষকদের সাথে কথা বলে আরো জানা যায়, মৌসুমের শুরুটা তাদের কাছে সহজ ছিল না। কখনো খরা, কখনো অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বীজতলা। বিলম্বিত হয় রোপণ। কিন্তু সেই প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এখন মাঠজুড়ে সবুজে ভরপুর শস্য।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পটুয়াখালীর উপপরিচালক ড. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ না হয়, তাহলে এবার কৃষকেরা বাম্পার ফলন পাবে।” তিনি জানান, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টি ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ধানের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। “বড় কোনো দুর্যোগ না হলে কাক্সিক্ষত উৎপাদন পাওয়া যাবে,”

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:২৩:৫৮   ১৬৫ বার পঠিত  |            







বরিশাল থেকে আরও...


লালমোহনে তরমুজ চাষিদের থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কাঁঠালিয়ায় ব্যবসায়ীর রিং স্লাব ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ
দুমকিতে কেনাকাটায় জমছে ঈদ বাজার
কাঁঠালিয়ায় স্কুল শিক্ষক ছোট ভাইয়ের মারধরের শিকার বড় ভাই
কাউখালীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা



আর্কাইভ