ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের সময় দেশিয় ধারালো অস্ত্রসহ ককটেল বিস্ফোরন ঘটানো হয়। এতে নারী সহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের জের ধরে বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইলমোড়া এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ আলম ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, এলাকা আধিপত্য নিয়ে গত ১৯ আগস্ট উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের কাকাইলমোড়া এলাকায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিয়ার অনুসারী উপজেলা ওলামা দলের সাবেক সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সমর্থকদের সাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়ন সহ সভাপতি শাহআলম সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। ওই সময় সংঘর্ষের জেরে দশটি ঘরবাড়ি ভাংচুর করে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ও সেনাবাহিনীর টীম ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনে।
এরপর থেকে উভয় পক্ষে মধ্যে বিরোধ দিনে দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লকডাউনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ফের মাথাচারা দিয়ে উঠে। গত বুধবার (১২ নভেম্বর) রাত থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া শুরু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সূর্য উঠার আগেই উভয়পক্ষ দেশিয় অস্ত্রসজ্জে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষ লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দা, বটি, টেটা, বল্লমসহ নানা অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষের সময় পাঁচটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে তিনটি ককটেল বিস্ফোরন ঘটনা ঘটে। দুইটি ককটেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
সংঘর্ষে আছমা আক্তার (৪৭), গিয়াসউদ্দিন মিয়া (৪২) হাবিবুল্লাহ মিয়া (৫৫), পিয়ারিস মিয়া (৪০), কামাল হোসেন (৩৪), জলিল মিয়া সহ (৪৫) অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে আছমা আক্তার (৪৭), গিয়াসউদ্দিন মিয়া (৪২) হাবিবুল্লাহ মিয়া (৫৫) ও টেটাবিদ্ধ জলিল মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত হাবিবুল্লার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্বজনরা জানান। বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর হামলাকারীরা প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এদের মধ্যে কাকাইলমোড়া এলাকার রতন মোল্লার মুদি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুরসহ লুটপাট করে। রতন মোল্লা দাবী করেন তার দোকান থেকে হামলাকারীরা প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। একই এলাকার আরফত আলী জানান, তার দুইটি গরু প্রতিপক্ষরা লুট করে নিয়ে যায়।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিয়া বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি শাহআলম মিয়ার সমর্থিত লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরন ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এমনকি ঢাকা লকডাইন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে প্রস্তুতি নেয়। তখন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বাঁধা দিলে তাদের ওপর শাহআলমের লোকজন হামলা চালায়। এমনকি শাহ আলমের লোকজন তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাংচুর করে লুটপাট করে।
এদিকে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা কথা সম্পুর্ণ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শাহ আলম। তিনি বলেন, গত আগস্টে তাদের উপর জাকারিয়ার লোকজন হামলানোর পর থেকে তিনি বাড়িতে থাকেন না। জাকারিয়ার অনুসারী নেতাকর্মীরা গত এক সপ্তাহ ধরে ফের তাদের উপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে আসছে। দেশিয় অস্ত্রসজ্জে সজ্জিত হয়ে গত দুই দিন ধরে এলাকায় মহড়া দিচ্ছিল। লকডাউনের উছিলা কেন্দ্র করে তারা শাহআলমের অনুসারীদের উপর হামলা করে। এমনকি তার সমর্থিত লোকজনের বাড়িঘর ভাংচুর করে ব্যাপক লুটপাট চালায় বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।
এ ব্যপারে আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৫-৬ জনের মত আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। এ ব্যপারে এখনও কোন পক্ষ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২২:১৪ ১১১ বার পঠিত | ● আওয়ামী লীগ ● আড়াইহাজার ● বিএনপি ● সংঘর্ষ