ঢাকা    রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
সালথার পেঁয়াজ চাষিদের সমস্যা তুলে ধরে প্রতিবেদন পাঠালেন ইউএনও নাজিরপুরে সাংবাদিকদের সাথে এমপি সুলতানা জেসমিন জুইয়ের মতবিনিয় ভোলা জেলা পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন সুজানগর হাসপাতালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান লালমোহনে দেবরের মারধরে ভাবি আহত পটুয়াখালীতে ঘুমন্ত বৃদ্ধাকে শিল-পাটার আঘাতে হত্যা, ছেলে আটক পীরগঞ্জে এডিপি প্রকল্প হতে ২০৮ জন পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন কল্যাণমুখী রাজনীতি করে যাবো:ফজলুল হক মিলন এমপি সুজানগরে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা লালমোহনে কলেজছাত্র হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » চট্রগ্রাম » কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার বিয়ের বাহন পালকি

কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার বিয়ের বাহন পালকি


খ.ম.জায়েদ হোসেন,নাসির নগর,(ব্রাহ্মণ বাড়ীয়া)
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫


কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার বিয়ের বাহন পালকি

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া: বাক বাকুম পায়রা, মাথায় দিয়ে টায়রা, বউ সাজবে কাল কি, চড়বে সোনার পালকি। ছড়াটিতে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পালকি সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়। ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নাসির নগর উপজেলায় বিয়ের বর ও কনের বহনের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বাহন পালকি এখন আর দেখা যায় না।

শোনাও যায় না ‘চতুর দোলাতে চড়ে বধূ যায় হুন্না, হুন্না’। ৪০-৪৫ বছর পূর্বে দেশে বিয়ের সময়ে অত্র এলাকায় একমাত্র ব্যবহার হতো পালকি। পালকি ঘিরে কত হাঁসি তামাশার গল্প আজও শোনা যায় দাদা-দাদি বা মায়ের কাছ থেকে- তা নিতান্তই রোমাঞ্চকর বটে। নানা ঘটনার সাক্ষী এই পালকি আজ হারিয়ে গেছে।

এবিষয়ে ধনমিয়া, আব্দুল হাইসহ কয়েকজন জানান, আমরা ছোট বেলায় দেখেছি পালকি যাতায়াতসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হতো। এই বাহনে এক বা দুইজন যাত্রী নিয়ে পালকি ব্যবহার করা হতো। এটিকে কাঁধে তুলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেত ৪ বা ৮ জন বাহক। রাতে বিবাহ হতো ভোরবেলা পালকিতে করে বর ও কনেকে ৮ জন বাহক দিয়ে দীর্ঘ রাস্তা পাড়ি দিয়ে তাদের নিয়ে আসা হতো। সেকি আনন্দ তা আজ আর নেই। আসার পথে বাহকরা বর-কনেকে নিয়ে বিভিন্ন ছন্দে ছন্দে গান পরিবেশন করে গ্রামগঞ্জের রাস্তা পাড়ি দিত।

অপরদিকে বরের বাড়িতে কুলোতে ধান দূর্বা নিয়ে নববধূকে বরণ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত বরের মাতা ও বোনেরা।

পালকিতে চড়ে বর ও কনে বাড়িতে পৌঁছানো মাত্রই ধান ও দূর্বা ছিটিয়ে তাদের বরণ করত এবং বাড়ির লোকজনরা কাদামাটি ও রং ছিটিয়ে উল্লাস করত। সেই রংবেরঙের পালকির সন্ধান আর নেই। আধুনিক যানবাহন আবিষ্কৃত হওয়ার আগে অভিজাত শ্রেণির লোকেরা পালকিতে চড়েই যাতায়াত করত। বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে ও অন্যান্য শুভ অনুষ্ঠানে বর-কনের জন্য পালকি ব্যবহারের প্রথা চালু ছিল।

এছাড়াও অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসালয়ে নেওয়ার জন্য পালকি ব্যবহার হতো। পালকি বিভিন্ন আকৃতি ও ডিজাইনের হয়ে থাকে। সবচেয়ে ছোট সাধারণ পালকি দুইজনে ব্যবহার করে। সবচেয়ে বড় পালকি বহন করে ৪-৮ জন বাহক। পালকির বাহকরা এর পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন কাজ করত। বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ১০-১২ দিন পূর্ব থেকেই পালকির বাহকদের ও মালিকদের বুকিং করে রাখা হতো। তবে পালকি সচরাচর তিন ধরনের হয়ে থাকে। সাধারণ পালকি, আয়না পালকি ও ময়ূরপঙ্খী পালকি। ওইসব পালকিতে কাঠের তৈরি পাখি, পুতুল ও লতাপাতা নকশা দিয়ে তৈরি হতো।

এদিকে গ্রাম বাংলার প্রাচীন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহে অবস্থানকালে তার জমিদারি কাছারি পরিদর্শনের সময় পালকি ব্যবহার করতেন। ১৯৭০-এর দশকে শহরাঞ্চলে রিকশার প্রচলন হওয়ার পর থেকে পালকির ব্যবহার ক্রমশ উঠে যায়। যোগাযোগব্যবস্থা ক্রমাগত প্রসার, সড়ক ও নদীপথে মোটর ও অন্যান্য যান চলাচল এবং প্যাডেল চালিত রিকশা জনপ্রিয় হওয়ার ফলে পালকির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২০:৩৩:৩৭   ১৩৪ বার পঠিত  |      







চট্রগ্রাম থেকে আরও...


হাতিয়ায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবিতে ভূমিহীনদের বিক্ষোভ
সভাপতি জাফর ও সম্পাদক টুটুল হাতিয়ায় আলীবাজার বনিক সমিতি নির্বাচন সম্পন্ন
হাতিয়ায় কিশোরীকে অপহরণ করে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ
শিবপুরে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীত ‘জাদুঘর’ স্থাপনের উদ্যোগ
জামায়েত ইসলামের দিনব্যাপী কর্মীদের শিক্ষাশিবির



আর্কাইভ