ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নোয়াখালী: সামাজিক ভাবে নিয়ম মেনে বিয়ে হয় তাদের। মেয়ের জামাইকে খুশি রাখতে গ্রাম্য প্রথা অনুযায়ী দেওয়া হয় আসবাপত্র। খুবই ভালোভাবে চলছিল তাদের সংসার। কিছু দিন যেতে না যেতেই দেখা দেয় বিপত্তি। স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে লেগে যায় ঝগড়া। দুজনের মধ্যে দুরত্ব বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে স্বামী করেন দ্বিতীয় বিয়ে।
দুজনই পৃথক বসবাস শুরু করেন। কিছু দিন যেতে না যেতে স্বামী তৃতীয় বিয়ে ও করেন। এদিকে বহু চেষ্টা করেও স্ত্রীর অধিকার ফিরে না পেয়ে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেন প্রথম স্ত্রী। সুযোগ পেয়ে স্বামী ধরে এনে পায়ে শিকল বেধে আটকে রাখেন নিজের বাড়ীতে। ফেরত চান পিতার পক্ষ থেকে দেওয়া টাকা পয়সা।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নে কাটাখালী গ্রামে। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন এসে ভিড় করে ভুক্তভোগীর শশুর বাড়ীতে। পায়ে শিকল পরা সেই ব্যাক্তিকে দেখতে হাতিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেকে আসেন।
স্ত্রী হাসিনা বেগম জাহাজমারা ইউনিয়নের এক নং ওয়ার্ডের কাটাখালী গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে। স্বামী আব্দুর রহমান বুড়িরচর ইউনিয়নের রেহানিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন এর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক ভাবে প্রায় তিন বছর আগে বিয়ে হয় তাদের । শুরুতে সংসার ঠিকঠাক চললেও সময়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠে অশান্তি। স্বামীর বেপরোয়া চলাফেরার কারনে দুরত্ব বেড়ে যায় তাদের। কয়েকবার গ্রাম্য শালিস বসানো হলেও ভালো ফলাফল পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে সে একাধিক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। প্রধম স্ত্রীর ভরণ-পোষণে সে আর দেখভাল করেনি। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে পার্শ্ববর্তী বাজার থেকে ধরে আনা হয়েছে।
হাসিনা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকে আমাকে নানা ভাবে নির্যাতন করতো। বহুবার সালিশ বিচার করেও সমাধান হয়নি। এরপর আমাকে রেখে সে আরো দুইটা বিয়ে করেছে। আমি আমার অধিকার ফেরত পেতেই তাকে ধরে এনেছি। পালিয়ে যাওয়ার ভয়ে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছি।
হাসিনার বাবা-মা জানান, ছেলের পরিবার কোনো দিনও তাকে শাসন করেনি। দুই বছর ধরে মেয়ের খোঁজও নেয়নি। এখন মেয়ে তাকে ধরে এনেছে। আমরা ছেলের পরিবারকে খবর দিয়েছি। তারা এলে সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা হবে।
এদিকে ঘরে খাটের উপর শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা অবস্থায় কথা হয় আব্দুর রহমানের সাথে । সে তৃতীয় বিয়ের কথা অস্বীকার করলেও দ্বিতীয় বিয়ের কথা স্বিকার করেন। তিনি প্রথম স্ত্রীর উগ্র আচরণের কারনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে জানান। তাকে ধরে এনে মার পিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
এই বিষয়ে জাহাজমারা পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন : এই বিষয়ে এখনো থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৪২:২৮ ৫১ বার পঠিত | ● তৃতীয় ● বিয়ে ● বেঁধে ● স্ত্রী ● স্বামীকে শিকল ● হাতিয়া