ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: হামার তিস্তা নদী যাই বাঁধি দিবো, হামরা তাকে ভোট দিমো। আগোত সবাই নদী বাধি দিবার চায়া ভোট নিয়া গেইছে আর আইসে নাই। এবার আর ভুল করবার নই। মোর বাড়ী ৩ বার আংছে। সইগ জমি নদীত এ্যালা ঘোরা গাড়ী দিয়া ভাড়া খাটি কোন মতে চলি। এভাবে কথা গুলো বলছিলেন, কিশোর পুর গ্রামের আব্দুল বারী(৬০)।
দড়ি কিশোরপুর গ্রমের কৃষি শ্রমিক মো. আব্দুল আজিজ(৭৫) বলেন, মোর বাড়ী ১১ বার নদী ভাংছে। তখন থাকি পানিতে ভাসি ব্যারবার নাকছি। আজ এ চরোত, কাল ওচরোত, ২০ বছর ধরি এ ভাবে চলছে। নদী জীবন হামার তেনা তেনা করি ফ্যালাই বাহে।
দুর্গম চরের মধ্যে চলছে ভোটের হাওয়া। দলে দলে ভোটা চাবার আহে,তাগো কইছি হামার প্রধান সমস্যা নদী ভাঙ্গন। যে নদী বাধি দিবো আমগো ভোট তাগো দিমু। আর ভুল করমু না। আব্দুল বারী, আব্দুল আজিজের মত তিস্তা পাড়ের কোরেশা বেগম, রাবেয়া বেগম. এমদাদুল হক, বারি মামুদ সহ অনেকের ভাষ্য,যাগোরে (যারা)ভোট দিমু তারা হামার তিস্তা বাধি দিবো।
ভোট চাইতে আসা সব প্রার্থীকে তিস্তা পাড়ের মানুষ জানিয়ে দিচ্ছেন। যেভাবে হউক নদী বাধিঁ দিতে হবে। এ বিষয়ে আশ্বাস না পেলে এবার অনেকে ভোট দিতে যাবেন না বলে সাফ জবাব।
উপজেলার বজরা,গুনাইগাছ,থেতরাই ও দলদলিয়া ইউনিয়নের সিংহ ভাগ এলাকা নদীর ভেঙ্গে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। নদীর এক পাড়ে কাইম ও অপর পাড় চর এলাকা। চরের মানুষের জীবন ও জীবিকা কৃষি নির্ভর। প্রতি বছর তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়। পরিচয় হারিয়ে নদী ভাঙ্গা মানুষ চরের মানুষ হিসাবে তাদের পরিচিতি হয়। তিস্তা পাড়ের মানুষের একটাই দুঃখ নদী ভাঙ্গন। চরবাসিদের একটাই দাবী নদী ভাঙ্গন রোধ। যারা এবার নদী ভাঙ্গনরোধ করে দিবে তিস্তা পাড়ের মানুষ এবার তাদের ভোট দিবে বলে উন্মুখ হয়ে আছে।
উলিপুর উপজেলা(একক) ২৭ কুড়িগ্রাম- ৩ উলিপুর আসন। মোট ভোটার ৩লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ জন। এই ভোটারের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশই চরবাসি। এ আসনটিতে বিএনপির প্রাথী ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদন্দিতা করছেন তাসভীর-উল ইসলাম। জামাতে ইসলামের প্রার্থী ব্যারিষ্টার মাহবুব আলম ছালেহী (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পাটির মো. আব্দুস সোবাহান ( লাঙ্গল), ইসলামিক আন্দোলনের ডাঃ মো. আক্কাছ আলী সরকার( হাতপাখা), গন-অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. নুরে এরশাদ সিদ্দিকী(ট্রাক) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদন্দিতা করছেন, এড.শাফিউর রহমান (হাস)।
গত সোমবার বিভিন্ন চরসহ তিস্তা পাড়ের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে উসাহের ঘাটতি নেই। তবে দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ করে এবার তাদের আগ্রহের কথা জানান। তবে সব কিছুর মুলে তাদের নদী ভাঙ্গন সমস্যা নিয়েই তারা বেশী চিন্তিত। চরবাসিদের ভাষ্য, তারা নিয়মিত জমির খাজনা দিয়েও যেন তারা পরবাসি। তাদের বাড়ীঘর বন্যায় ,ভাঙ্গনে সর্ব শান্ত হলেও যেন কারো কোন মাথা ব্যথা নাই। এ কারনে ানেকের মধ্যে ভোটে আগ্রহ নেই।
তিস্তা নদীর পাড় ঘোসে কিশোরপুর চরে গিয়ে দেখা মেলে বেশ কয়েকজন ঘোড়া গাড়ি চালক আবুল হোসেন, আবুল কাশেম, জব্বুর আলী ও তৈয়ব আলী বস্তায় বালু ভরে নিয়ে যাচ্ছে। তারা জানায়, তিস্তা পাড়ের মানুষের বড় দুঃখ এই নদী। তারা সবাই তিস্তা মহা পরিকল্পনার বাস্থবায়ন চান।
লাল মসজিদ গ্রামের বাসিন্দা মো. হায়দার আলী(৬৫) বলেন, এই বয়সে মোর ৭ বার বাড়ি ভা্গংছে। ভাড়ী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এখন নিঃস্ব গরিব। জমি মোর সউগ নদীত। কত ভোট দিনু কত মুন্দ্রি এমপি দেখনু সগাই খালি আশ্বাস দেয় কাম করে না। সে আক্ষেপে ভোট দিতে যামু না বলে জানান।
সালাহ উদ্দিন সাহীন সাবেক সেনা সদস্য বলেন,তিস্তা পাড়ের মানুষ এবার ভুল করবে না। তারা এবার সঠিক জায়গায় ভোট প্রদান করবেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:১৯:৫৫ ৫৫ বার পঠিত | ● উলিপুর ● তিস্তা ● নদী