ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরগুনা: ধানের ছড়ার পাগল তেরাশি বছর হালিমা বেগম নাতি শাহিন খানের কোলে চড়ে ভোট এসে ভোট দিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে বললেন ‘ম্যালা বছর পর ধানের ছড়ায় ভোট দিলাম। এহম মুই মইর্যা গ্যালেও কবরে শান্তি পামু।’ হালিমা আমতলী পৌরসভার এক নম্বও ওয়ার্ডেও মৃত মানিক সওদাগরের স্ত্রী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমতলী পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল মানিক সওদাগারের স্ত্রী শত বর্ষী হালিমা বেগম। তার জন্ম ১৯৪৩ সালের ২ মার্চ। ভোটর আইডি অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ৮৩ বছর। বাস্তবে তার বয়স প্রায় একশ বলে জানান ছেলে লাল মিয়া সওদাড়ড়। তাদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। দরিদ্র পরিবার। মৃত আব্দুল মানিক সওদাগড় জীবদ্দশায় ৪০ বছর ধরে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে নেওয়া লাশ ভ্যানে পরিবহন করে যা আয় হত তা দিয়ে সংসার চালাতেন। তার মৃত্যুও পর এ পেশায় আসেন ছেলে লাল মিয়া সওদাগর ও ও কালু মিয়া সওদাগড়। মৃত মানিক সওদাগর এবং তার স্ত্রী হালিমা বেগমসহ ছেলে মেয়েসহ পরিবারের সবাই ছিলেন ধানের শীষের পাগল।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দিনের ভোট রাতে হওয়ায় হালিমা বেগমসহ মানিক সওদাগড়ের পরিবার কেউ আর ভোাট কেন্দ্রে যাননি। রাগে অভিমানে ভোট দান থেকে বিরত থাকেন তারা। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের ছড়ায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার সময় অসুস্থ শরীর নিয়ে আমতলী সরকারী একে হাইস্কুলে কেন্দ্রে নাতি শাহিন সওদাগারের কোলে চরে ভোট দিতে আসেন হালিমা বেগম।
নাতির কোলে চরে এসে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে হালিমা বেগম সমকালকে বলেন,‘ম্যালা বছর পর ধানের ছড়ায় ভোট দিলাম, এহন মুই মইর্যা গ্যালেও কবরে শান্তি পামু’ তিনি আরো বলেন, মুই জিয়া এবং খালেদা জিয়াকে ম্যালা ভাল পাইতাম। হেগো টিভিতে দেখলে মনডা ভইর্যা যাইত। তয় এহন আর হেগো দেখতে পাই না। এই লইগ্যা মনডা বেশী খারাপ। তিনি আরো বলেন, মুই যতদিন বাইচ্যা থাকমু হেই দিন পর্যন্দ ধানের ছড়ায় ভোট দিমু।
বয়সের ভারে চোখে দেখেন না, হাটতে পারেন না কথাও ঠিকমত বলতে পারেন না তারপরও তার হৃদয়ে ধানের ছড়া গেথে আছে।
বড় বেছের লাল মিয়া সওদাগড় বলেন, মোরা পরিবারের সবাই জিয়া, খালে জিয়া, তারেক জিয়াসহ ধানের ছড়া পরিবারের পাগল। মোর মায় হালিশা বেগম বেশী পাগল। সে ধানের ছড়া ছাড়া কিছুই বুঝে না। হে যতদিন বাইচ্যা থাকবে তত দিন ধানের ছড়ায় ভোট দিবে এই তার প্রতিজ্ঞা।
হালিমার মত আরেক ধানের ছড়া পাগল জমিনা বেগম। (৮৫)। জমিনা কেগম আমতলী পৌরসভার চার নম্বও ওয়ার্ডের আমুয়ার চরের বাসিন্দা। স্বামী আব্দুল খালেক খলিফা বহু আগে মারা গেছেন। তার পরিবারের সবাই ধানের ছড়ার পাগল। জমিনা বেগম ধানের ছড়ার পাগল। দীর্ঘ ১৭ বছল ধরে ধানের ছড়ায় ভোট দিতে না পারায় এতদিন তিনি ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেনি। এখন ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে অসুস্থ শরীর নিয়ে ছেলে শাহিন খলিফার কোলে চরে ভোট দিতে আমতলী বন্ধর হোসাইনয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে আসেন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায়।
ভোট দিয়ে খুশি মনে বলেন, বাবা ম্যালা বছর পর ধানের ছড়ায় ভোট দিতে পারলাম। তিনি আরো বলেন মুই মোর স্বামীসহ ছেলে মেয়ে নাতি নাতকুর সাবাই মোরা ধানের ছড়ার পাগল। আল্লায় যেই কয়দিন বাচাইয়া রাহে হেই কয়দিন ধানের ছড়ায় ভোট দিমু।
ছেলে, শাহিন খলিফা বলেন, মোরা পরিবারের সবাই ধানের ছড়ার পাগল। মোর মায় ধানের ছড়া ছাড়া কিছু বোঝে না। সে ধানের পাগল
বীরমুক্তিযোদ্ধা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল আজিজ মিয়া বলেন, হালিশা এবং জমিনা বেগমের পরিবারের সবাই ধানের শীষের ভক্ত। দল ক্ষমতায় আসলে বৃদ্ধ হালিমা ও জমিনার জন্য সরকারী ভাবে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:০৬:৩২ ২৮ বার পঠিত | ● আমতলী ● ধান শীষ ● ভোট