ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুষ্টিয়া: দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে জলাতঙ্কের ঝুঁকি। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার উভয়ই ঊর্ধ্বমুখী। অথচ এই মরণব্যাধি প্রতিরোধের প্রধান উপায়—কুকুরকে গণ-টিকাদান (Mass Dog Vaccination) কার্যক্রম বর্তমানে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। যথাযথ উদ্যোগের অভাবে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে কুকুর-বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৪ হাজার ৩৮০ জন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৩ জনে এবং ২০২৫ সালে তা ১ লাখ ৪৬ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ২০২৬ সালের শুরু থেকেই আক্রান্তের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। মৃত্যুর সংখ্যাও সমানভাবে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; চলতি বছরের প্রথম আড়াই মাসেই জলাতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক প্রতিরোধের দুটি মূল পথ রয়েছে: আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়া এবং বাহক অর্থাৎ কুকুরের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা। বর্তমানে মানুষের ভ্যাকসিনের সরবরাহ থাকলেও কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি ঝিমিয়ে পড়েছে। ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া সমন্বিত কার্যক্রমটি গত কয়েক বছর ধরে প্রয়োজনীয় বাজেট, ভ্যাকসিনের সরবরাহ সংকট এবং আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়হীনতার কারণে গতি হারিয়েছে। ফলে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি তাদের মাধ্যমে ভাইরাসের বিস্তারও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট এলাকার অন্তত ৭০ শতাংশ কুকুরকে টানা তিন বছর টিকা দেওয়া গেলে সেই এলাকাকে জলাতঙ্ক মুক্ত করা সম্ভব। কিন্তু মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক জেলা ও উপজেলায় দীর্ঘ সময় ধরে কোনো টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, “কুকুরকে টিকা না দিয়ে শুধু মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে এই রোগ নির্মূল সম্ভব নয়। উৎস বন্ধ না করলে আক্রান্তের সংখ্যা কমানো যাবে না।”
জলাতঙ্ক এমন একটি রোগ যার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর মৃত্যু ঝুঁকি প্রায় শতভাগ। তাই জরুরি ভিত্তিতে দেশব্যাপী কুকুরের টিকাদান ও জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় করার দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে কামড় বা আঁচড়ের সাথে সাথে সাবান পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ধোয়া এবং নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক নির্মূলের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:২৪:০৯ ৬১ বার পঠিত | ● জলাতঙ্ক ● ঝুঁকি ● ভেড়ামারা