ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরগুনা: তালতলী উপজেলার করাইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ এর সাড়ে পাঁচ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে তালতলী উপজেলা প্রশাসন।
তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৮৭৯৯ জন এর মধ্যে করাইবাড়িয়া ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৭৬৫ জন। এর মধ্যে চলতি বছরে জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলেদের জীবনযাত্রা নির্বাহের জন্য কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪১৮ জন জেলের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে জেলে প্রতি ৪০ কেজি হারে ফেব্রুয়ারী-মার্চ, এপ্রিল-মে চার মাসের জন্য ৬৬ টন ৬শ ৮০ কেজি চাল উত্তোলন করেন প্রঅনের চেয়ার চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চু।
৫ ও ১৭ এপ্রিল দুই ধাপে জেলেদের মধ্যে ৬১ টন ২০০ কেজি চাল বিতরন করে বাকী ৫টন ৬৮০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চু। চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে বুধবার (২২ এপ্রিল) করাইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭জন ইউপি সদস্য ইইউএনওর নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ দাখিল করা সদস্যদের মধ্যে রয়েছে। মো. রেদওয়ান সরদার, খলিলুর রহমান, পিযুষ কান্তি হাওলাদার, পুলুকেশ মজুমদার, মনির গাজী ও সংরক্ষিত নারী সদস্য মাহমুদা আক্তার। তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগ পেয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইনকে। সদস্য করা হয়েছে তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. টিপু সুলতানকে।
ইউপি সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার, খলিলুর রহমান, পিযুষ কান্তি হাওলাদার, পুলুকেশ মজুমদার, মনির গাজী ও সংরক্ষিত নারী সদস্য মাহমুদা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, করাইবাড়িয়া ইউনিয়নের নিবন্ধিত ৭৬৫ জন জেলের জন্য দুই ধাপে ৬৬ টন ৮৮০ কেজি চালবরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান ৬১ টন ২০০ কেজি চাল বিতরন করে বাকী ৫টন ৬৮০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেন।
করাইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, চাল বিতরনের বিষয়ে আমাকে জানায়নি। এখন পর্যন্ত মাষ্টার রোলও আমাকে বুঝিয়ে দেয়নি।
কড়ইবাড়িয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, আমি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করব। এইজন্য একটি গ্রুপ ষড়যন্ত্র করছে। আমি প্রতি জেলেকে ৮০ কেজি করে চাল বুঝিয়ে দিয়েছি। কোন আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি। একটি মহল আমাকে ইউনিয়নে ছোট করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। এটি তাদের কাজ। অঅমি এই অপপ্রচারের তিব্র নিন্দা জানাই।
তালতলী উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার মো. আল আমিন বলেন আমি উপন্থিত থেকে জেলেদেও মধ্যে চাল বিতরন করেছি। কোন অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি।
তদন্ত কমিটির প্রধান তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, ইউএনওর অফিস থেকে তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে চিঠি পেয়েছি। অন্য সদস্যদের সাথে আলোচনা করে অতিদ্রুত তদন্ত কওে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
তালতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিষদেও অন্য সদস্যদেও নিকট থেকে চাল আত্মসাতের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এবিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:০৫:৫৩ ৩৯ বার পঠিত | ● আমতলী ● চাল আত্মসাত ● জেলে ● তালতলী