ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ঝালকাঠি: কাঁঠালিয়ায় জুনায়েদ হোসেন খান নামের সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবী মামলা রুজুর ১২ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ ভিকটিম জুনায়েদ খানকে উদ্ধার করেছে কাঁঠালিয়া থানা পুলিশ। আজ সোমবার (৪ মে) দুপুরে থানার এসআই জসিম উদ্দিন এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম ও এএসআই আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল শহরের রুপাতলী বাসস্টান্ডের একটি চায়ের দোকান থেকে বরিশাল কোতয়ালী থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
এরআগে গত রোববার (৩ মে) রাতে ওই শিক্ষার্থীর বাবা ব্যবসায়ী মো.বশির খান বাদী হয়ে একই বাড়ীর জাহাঙ্গির হোসেন খান ও তার স্ত্রী সাজেদা বেগম, পুত্র সবুজ খান ও সজিব খানকে আসামী করে থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবীর একটি মামলা করেন।
মামলার পর আসামী জাহাঙ্গির হোসেন খান (৫৩) ও তার দুই পুত্র সবুজ (২১) ও সজিব (১৬) উপজেলার বানাই গ্রামের বাড়ী থেকে আটক করে পুলিশ।
নিখোঁজ জুনায়েদ খান (১৩) উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের বানাই গ্রামের মো.বশির খানের ছেলে ও স্থানীয় বানাই হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র।
মামলার বিবরণে জানাগেছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টায় স্কুলে যাবার কথা বলে বাড়ী থেকে বের জুনায়েদ। স্কুল ছুটির পরও সেদিন বাড়ীতে ফিরেনি ওই কিশোর। নানা জায়গায় স্বজনরা খোঁজ করেন। পরে জানতে পারেন জুনায়েদকে একই বাড়ীর জাহাঙ্গির খানের ছেলে সবুজ ও সজিব মুন্সিগঞ্জের মাওয়া এলাকায় নিয়ে গেছে। পরের দিন জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে জুনায়েদকে খুজতে মাওয়া যান বশির খান। মাওয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় পাওয়া যায় সবুজ ও সজিবকে। তারা জানায় জুনায়েদ তাদের সঙ্গে মাওয়া আসার জন্য গাড়ীতে বরিশাল পর্যন্ত আসে। পরে বাড়ীতে ফেরত পাঠানোর জন্য জুনায়েদকে ভান্ডারিয়ার একটি বাসে তুলে দেয়। তবে জুনায়েদের ব্যবহৃত মানিব্যাগটি সবুজের কাছে পাওয়া যায়। শুক্রবার রাতে সবুজ ও সজিব সাথে নিয়ে মাওয়া থেকে বরিশাল আসেন বশির খান ও জাহাঙ্গির খান।
শনিবার (২ মে) দুপুর পর্যন্ত বরিশাল শহরের বাসস্টান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও জুনায়েদকে পাওয়া যায়নি। বিকেলে একটি মোবাইল নম্বর থেকে জুনায়েদের বাবাকে ফোন দিয়ে বলা হয়, আপনার ছেলে আমাদের কাছে আছে ঝালকাঠি বাসস্টান্ডের অপর দিকের বিকাশের দোকান থেকে ২০ হাজার টাকা পাঠালে আপনার ছেলেকে ফেরত দেওয়া হবে। পুলিশ অথবা আইন শৃংখলা বাহিনীকে জানালে আপনার ছেলের সমস্যা হবে। হ্যালো সাদুল্লাপুর নামে রেজিষ্টেশন করা ফোন নম্বর থেকে ২০ হাজার টাকা চেয়ে রাত ৯টায় পুনরায় ফোন দেয়। জুনায়েদের পিতা বশির খান তার ছেলেকে ভিডিও কলে দেখাতে বললে, ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জুনায়েদ জানান, সবুজ তাকে বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে লঞ্চে আসতে বলেন। সবুজের কথা অনুযায়ী লঞ্চে ঢাকায় যায় জুনায়েদ। সদর ঘাট নামার পর এক অপরিচিত লোক এসে তাকে একটি হোটেলে নিয়ে যায়। দুইদিন তাকে সেখানে রাখে। হঠাৎ রোববার বিকেলে ওই লোক বরিশালের লঞ্চে জুনায়েদকে তুলে দেয়। সোমবার সকালে লঞ্চ থেকে নেমে রুপাতলী বাসস্টান্ডের জাকিরের চায়ের দোকানে এসে জাকিরের ফোন দিয়ে বাড়ীতে ফোন দেয় জুনায়েদ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জসিম উদ্দিন জানান, আজ সোমবার সকালে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানতে পারি ভিকটিম বরিশাল শহরে আছে। সেই সুত্র ধরে বরিশাল শহরে রুপাতলী বাসস্টান্ডের জাকিরের চায়ের দোকান থেকে ভিকটিম জুনায়েদকে উদ্ধার করা হয়। তাকে থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে আসামী সবুজের সম্পৃক্ততা আছে। তাই সবুজকে কোর্টে চালান করা হয়েছে। জাহাঙ্গির হোসেন ও তার ছোট ছেলে সজিবকে আতœীয় স্বজনের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হবে। থানার ওসি আবু নাছের রায়হান জানান, অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবী মামলার ১২ ঘন্টার মধ্যে বরিশাল শহর থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে জবানবন্ধির জন্য কোর্টে নেওয়া হবে। রোববার রাতে জুনায়েদের বাবা বশির খান বাদী হয়ে থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবীর একটি মামলা করেন।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:০১:১১ ৩৩ বার পঠিত | ● উদ্ধার ● কাঁঠালিয়া ● ভিকটিম