ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুড়িগ্রাম: কাঠের সেতুটি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আর্শিরবাদ। স্কুল কলেজে যাওয়ার জন্য অনেক সুবিধা হইছে। আগে ঝড় বৃষ্টি হলে মা বাবা স্কুলে আসতে দিত না। পড়ে যাওয়ার ভয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ভাঙ্গা রেল সেতু পার হতাম। রেল সেতুটি ছিল মরন ফাঁদ । কাঠের সেতুটি হওয়ায় আমাদের ৫ গ্রামের শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষের অবরুদ্ধ জীবনের অবসান হয়েছে। এ ভাবে কথা গুলো বলছিলেন,উলিপুর মহিলা কলেজিয়েট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এস এস সি পরীক্ষার্থী নুর নাহার আক্তার। একই স্কুলের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, পৌরসভার রেল লাইনের পাশ দিয়ে রাস্তাটি ৫ গ্রামের মানুষের এক মাত্র চলাচলের রাস্তা।
একটি সেতুর অভাবে আমরা ছিলাম পরবাসি। গত ২০২৩ সালে আমি রেল সেতু পার হতে গিয়ে নীচে পড়ে গিয়েছিলাম আল্লাহর কৃপায় বেচে গেছি। যে কাজটি করার কথা পৌরসভা বা সরকারের, সে কাজটি করলেন, স্থানীয় কুলি করিম চাচা। তিনি মানুষ নন মহামানব। তার মহর্তের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের গর্ব। শুধু নুর নাহার ও সাদিয়া আক্তার নয়, সানজিদা আক্তার, নিলা মনি ও মাসুদ রানা বলেন, এলাকায় কত ধনাঢ্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী,সমাজ সেবক আছেন কেউ সেতু নির্মানে এগিয়ে আসেনি বা চিন্তাও করেনি। সেখানে করিম চাচার মত একজন হতদরিদ্র পেশায় কুলি তিনি তার জীবনে রক্ত পানি করা সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এ মহত কাজটি করে সবাইকে হতবাক করে দিয়েছেন। হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।
উলিপুর পৌরসভার জোনাইডাঙ্গা গ্রামের মোঃ আব্দুল করিম(৫৫)বলেন, স্কুলের বাচ্চারা রেল সেতুটি হামা গুড়ি দিয়ে পার হত। অনেকের বই খাতা পড়ে যেত। দেখে আমার খুব কষ্ট হত। যে দিন স্কুলের বাচ্চাটা পড়ে গেল, সেদিনেই মনে মনে চিন্তা করছি যদি বেচে থাকি আর আল্লাহ সহায় থাকে এখানে একটি কাঠের সেতু নির্মান করব। মানুষ অনেক টাকা খরচ করে হজ্জ করে। আমার সে সামর্থ নাই। আমি এই কাজটা করব। রাতে শুয়ে শুয়ে চিন্তা করি যা সঞ্চয় আছে তা দিয়ে আমি সেতুটা নির্মাান করে দিব। মানুষ মরে গেলে কিছু দিন পর তার কবরটাও নিশ্চিন্ন হয়ে যায়। আমি যদি এ কাজটা করি জন্ম জন্ম মানুষ মনে রাখবে। আমার বউ আমাকে সাহস দেয়। সারা জীবনের সঞ্চয়,মটর সাইকেল বিক্রি ও লোন নিয়ে সেতুটি করলাম। এখন মানুষ আমাকে সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে। যা ধন সম্পদের চেয়ে অনেক বড়। সাংবাদিক আসে, ফেসবুক, ভিডিও করে হাজার হাজার মানুষ দেখতে আসে,কিন্ত পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, জন প্রতিনিধি বা এমপি আসে না। এটা তার বড় আক্ষেপ।
উলিপুর মহিলা কলেজিয়েট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র বলেন, এই সড়কটি দিয়ে ওই গ্রাম গুলো থেকে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী আসে আমার বিদ্যালয় সহ উলিপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজ, উলিপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয় ও উলিপুর সরকারী ডিগ্রী কলেজে। ঝড় বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীরা আসত না। এ পথে আসলে আধা কিলোমিটার, ঘুরে আসতে গলে হয় ৩ কিলোমিটার। বুড়ি তিস্তার উপর একটি পাঁকা সেতু নির্মানের দাবী তার।
ষ্টোশনে চায়ের দোকানদার গোলজার হোসেন বলেন সেতুটি করার জন্যে ৮ নং ওয়াড কাউন্সিলর, মেয়র, ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে গেছি। কাইয় সেতু বানানোর ইচ্ছা দেখায় নাই। হামার ষ্টোশনের কুলি হয়য়া, যে এত বড় একটা কাজ করবে কেউ ভাবে নাই। হঠাৎ এক দিন গ্রামবাসিকে ডাকেয়া সেতু করার কথা জানায়, তখন কেউ বিশ^াস করি নাই। যখন সত্যি সে কারো সাহার্য্য ছাড়া সেতুর কাজ শুরু করে তখন সবাই অবাক ও নির্বাক। আসলে মানুষের টাকা থাকলেই ধনি হয় না। যদি তার অন্তর বড় হয় সে আসল ধনি। করিম ভাই সে করে দেখিয়েছে। সে হামার গর্ব । পৌরসভার কাছে আমাদের দাবী সেতু নির্মানের টাকা দিয়ে তাকে সম্মানিত করা হউক।
উলিপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহুবুবুল আলম বলেন, আসলে আমরা যা পারিনি, উনি তা করেছেন। তাকে এজন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আগামীতে ওই সেতুটি পাকাকরনের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি আর বন্ধ হবে না। আমি সেতুটি দেখেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ.টি.এম আরিফ বলেন,লোকেশনটা জেনে দেখব এবং এলাকাবাসির আবেদন পেলে সেতু করা যায় কিনা সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২১:৩৩:৫২ ৪২ বার পঠিত | ● উলিপুর ● কাঠের ● সেতু