ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পিরোজপুর: নাজিরপুর উপজেলার কুমারখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. আসলাম সেখ (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। বর্তমানে তিনি ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে তাঁর জন্য এ পজিটিভ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু রোগীর স্বজনরা অনেক চেষ্টা করেও দ্রুত উপযুক্ত রক্তদাতা খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
এ বিষয়টি নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলামের নজরে আসে। খবর পাওয়ার পর দাপ্তরিক ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি কোনো বিলম্ব না করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
পরে তাঁর দেওয়া রক্ত দ্রুত ঢাকায় চিকিৎসাধীন রোগীর কাছে পাঠানো হয়, যা চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওসি তরিকুল ইসলামের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
রোগীর বড় ভাই ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ভাইয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে এ পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে নাজিরপুর থানার ওসি মোঃ তরিকুল ইসলাম নিজেই রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন মানবিক উদ্যোগ আমাদের পরিবারের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর মতো মানবিক মানুষ সমাজে অন্যদেরও রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। ওসি তরিকুল ইসলামের এই মানবিক কর্মকাণ্ডে নাজিরপুরজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশের কাজ শুধু আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বা অপরাধ দমনেই সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোও একজন প্রকৃত পুলিশ কর্মকর্তার মানবিক দায়িত্ব। ওসি তরিকুল ইসলামের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ সেই দায়িত্ববোধেরই উজ্জ্বল প্রতিফলন।
স্থানীয়রা বলেন, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার স্বেচ্ছায় রক্তদান সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং তরুণদের মানবিক কাজে আরো বেশি সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করবে।
জনসেবাকে পেশাগত দায়িত্বের গণ্ডির বাইরে নিয়ে গিয়ে মানবিকতার যে অনন্য উদাহরণ ওসি মো. তরিকুল ইসলাম সৃষ্টি করেছেন, তা নিঃসন্দেহে একজন দায়িত্বশীল, জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তার উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হিসেবে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০৯:৫৫ ১৩ বার পঠিত | ● ওসি ● থানা ● নাজিরপুর ● রক্তদান ● স্বেচ্ছায