ঢাকা সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: এক মাসের ব্যবধানে গভীর সমুদ্রে ফের ডাকাতির অভিযোগ হামলার শিকার জেলেরা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উপকূলীয় এলাকায় গভীর সমুদ্রে জেলেদের ট্রলারে হামলা চালিয়ে মাছ, জাল, তেলসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই জেলে আহত হয়েছেন।
এতে নতুন করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়া জেলেরা। শনিবার,৫ সেপ্টেম্বর ভোর ৫ টার দিকে কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পায়রা বন্দর বয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ারের মালিকানাধীন ট্রলারে থাকা জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে মালামাল লুট করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
লুটপাটে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হোসেন ও সেলিম নামে দুই জেলেকে মারধর করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। তারা দুজনই নোয়াখালীর বাসিন্দা। পরে তাদের মহিপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী জেলে মফিজুল ইসলাম বলেন, ট্রলারের চুকান ভেঙে গেলে সমুদ্রে ভাসতে থাকি। হঠাৎ ৪-৫টি মাছ ধরার ট্রলার আমাদের ঘিরে ফেলে। তারা ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করতে থাকে। আমরা ট্রলারের কাগজপত্র দেখালেও তারা তা বিশ্বাস করেনি। উল্টো মারধর এবং আমাদের ট্রলারের চুকান ও বোটের তক্তাও ভেঙে দেয়। একপর্যায়ে হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা চেয়ে তীরে ফিরে আসি।
ট্রলারের মালিক দেলোয়ার বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর ট্রলারটি বাজার-সদাই করে সমুদ্রে পাঠিয়েছি।পরে সুযোগ বুঝে এফবি নুসরাত, এফবি মায়ের দোয়া ও এফবি আল্লাহর দানসহ ৪-৫টি ট্রলার আমার প্রায় ছয় লাখ টাকার মাছ, পাঁচ লাখ টাকার জাল ও তেল নিয়ে যায়। এটি ডাকাতি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
মহিপুর মৎস্য সমিতির নেতা গাজী মজনু বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সমুদ্রে জলদস্যুদের তৎপরতা তেমন ছিল না। সম্প্রতি গভীর সমুদ্রে তাদের তৎপরতা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সমুদ্রে নৌ টহল জোরদার করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ড নিজামপুর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার শহীদুল্লাহ বলেন, আমরা নিয়মিত টহল দিচ্ছি। জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে জানালে জলদস্যুদের শনাক্ত ও আটক করা সহজ হয়। এছাড়া জেলেরা ৯৯৯ নম্বরে সহযোগিতা চাইতে পারেন। কোস্টগার্ড সমুদ্র ও জেলেদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
পায়রা বন্দর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন তারকুন বলেন, বিষয়টি মাত্রই জেনেছি। ইতোমধ্যে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এর আগে চলতি বছরের ৫ আগস্ট গভীর বঙ্গোপসাগরের খাম্বা বয়াবাতি এলাকায় এফবি মিম নামের আরও একটি মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এক মাসের ব্যবধানে ফের এমন ঘটনায় জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪০:০৫ ৩৬ বার পঠিত | ● ডাকাতি ● পটুয়াখালী ● সমুদ্রে