ঢাকা    রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
• ৭৫ বছরেও থামেনি বারেকের জীবনসংগ্রাম, শাপলা বিক্রিতে চলে সাতজনের সংসার • চীনা যুবককে বিয়ে করে আলোচনায় ফরিদপুরের কলেজছাত্রী • চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল ইসলামের সমর্থনে বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন • চাটমোহরে মুক্তিযোদ্ধার ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট • সুজানগর পৌর শ্রমিক দলের উদ্যোগে বাউল উৎসব • সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে বৃদ্ধ বারেকের সংগ্রামী জীবন • মানবপাচার ও প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করে শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন • কালীগঞ্জে দারুন নাজাত মদিনাতুল হক ইনস্টিটিউটে শিক্ষা উৎসব ও বিজ্ঞান মেলা • ভোলায় এইচএসসির পাসের হারে শীর্ষে লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ • আমতলীতে অগ্নিকাণ্ডে ৩ দোকান পুরে ছাই,৩৭ লক্ষ টাকার ক্ষতি


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » রংপুর » বাদাম বিক্রির আয়ে পরিবারের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখেন ডিমলার সুলতান

বাদাম বিক্রির আয়ে পরিবারের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখেন ডিমলার সুলতান


বাসু দেব রায়,ডিমলা (নীলফামারী)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাদাম বিক্রির আয়ে পরিবারের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখেন ডিমলার সুলতান

নীলফামারী: জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে। কারও হাতে থাকে কলম, কারও হাতে কৃষকের লাঙল; আবার কেউ জীবিকার তাগিদে রাস্তায় বসে বাদাম বিক্রি করেন। তেমনই একজন সুলতান। অভাব-অনটনের সংসারে পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন বাদামের ঝুড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি।

সকাল হলেই জীবিকার সন্ধানে ছুটে চলেন সুলতান। রোদ, বৃষ্টি কিংবা ক্লান্তি—কোনো কিছুই যেন তাকে থামাতে পারে না। সারাদিন ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে সংসারের খরচ। কখনো বিক্রি ভালো হয়, আবার কখনো দিন শেষে সামান্য আয় নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়।

সুলতানের জীবনের গল্প শুধু একজন বাদাম বিক্রেতার গল্প নয়; এটি একজন সংগ্রামী মানুষের গল্প। অভাব তার পথের কাঁটা হলেও পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করার সাহস জোগায়। নিজের কষ্ট আড়াল করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টাই যেন তার একমাত্র স্বপ্ন।

কথা বলতে বলতে সুলতানের চোখে ফুটে ওঠে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা চিন্তা। তার চাওয়া খুব বেশি নয়—পরিবার নিয়ে একটু স্বচ্ছন্দে বেঁচে থাকা, সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করা এবং এমন একটি দিন দেখা, যেদিন অভাবের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করতে হবে না।

সমাজের ব্যস্ততার ভিড়ে প্রতিদিন হয়তো অসংখ্য মানুষ সুলতানের কাছ থেকে এক মুঠো বাদাম কিনে চলে যান। কিন্তু সেই বাদামের আড়ালে লুকিয়ে থাকে একজন মানুষের ঘাম, কষ্ট, দায়িত্ব আর বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা।

সুলতানের মতো হাজারো মানুষ নীরবে জীবনসংগ্রাম করে চলেছেন। তাদের পরিশ্রম হয়তো বড় কোনো শিরোনাম হয় না, কিন্তু তাদের ঘামেই টিকে থাকে একটি পরিবার, বেঁচে থাকে একটি স্বপ্ন।

সুলতান নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া (খানাবাড়ী) গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে। তার কোনো জমিজমা না থাকায় তিনি মানুষের জমিতে বসবাস করছেন।

সুলতান জানান, জিনিসপত্রের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। “কাঁচা বাদাম, কয়লা আর ঠোঙার কাগজ কিনতেই বিক্রির বড় অংশ চলে যায়। দিনশেষে ২০০-২৫০ টাকা লাভ থাকে। এই টাকায় চাল-ডাল কিনব, না ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ দেব, বুঝতে পারি না,” কণ্ঠে হতাশার সুর নিয়ে বলেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুলতানের মতো বহু মানুষ প্রতিদিন এভাবেই জীবনযুদ্ধের মুখোমুখি হচ্ছেন। সামান্য সরকারি সহায়তা কিংবা স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা হলে সুলতানের মতো পরিশ্রমী মানুষগুলো হয়তো একটু স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে পেতেন।

প্রতি রাতে পোড়া কয়লার ছাই আর বাদামের খোসা পরিষ্কার করে যখন ঘরে ফেরেন সুলতান, তখন তার শরীরে নেমে আসে ক্লান্তি। তবুও আগামীকালের নতুন সকাল আর সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় আবারও ডালা সাজানোর স্বপ্ন নিয়ে চোখে ঘুম নামান এই সংগ্রামী বাবা।

এন/ এস

বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৫:৫২   ১০৬ বার পঠিত  | ●   ●   ●







রংপুর থেকে আরও...


● মানবপাচার ও প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করে শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
● টিফিনের টাকায় দুই নারী উদ্যোক্তার সাফল্য
● ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন ডিমলার শেফালী
● পীরগঞ্জে মোবারক আলী চক্ষু হাসপাতালের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প
● ডিমলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন



আর্কাইভ