ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টানা ছয়বারের ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বারেককে এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত ও গভীর রাতে বসতঘরের পেছনে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়া গ্রামের মানিক বয়াতির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছয়বারের ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বারেক দীর্ঘদিন ধরে মানিক বয়াতির মেয়ে আয়েশাকে মোবাইল ফোনে কুপ্রস্তাব ও বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ঘটনার রাতে তিনি ওই তরুণীকে বাড়ির পেছনের বাথরুমের কাছে আসতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন।
এ সময় বাথরুমের পাশে সন্দেহজনক শব্দ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা টর্চলাইটের আলো ফেললে বারেক মেম্বার পালানোর চেষ্টা করেন। দৌড়ে পালাতে গিয়ে তিনি পাশের টিনের বেড়া ও ঝোপঝাড়ে পড়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করেন।
আটকের পর ক্ষুব্ধ জনতা ইউপি সদস্য বারেককে মানিক বয়াতির বসতঘরে নিয়ে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে তার স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শিকল পরা অবস্থায় বিএনপির এই নেতার আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ভাইরাল হয়।
খবর পেয়ে দুমকি থানার ওসি সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা বারেক নিয়মিত ওই তরুণীকে মোবাইল ফোনে কুপ্রস্তাব ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ-সংক্রান্ত একাধিক অডিও রেকর্ডও তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
দুমকি থানার ওসি সেলিম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের (এজাহারভুক্ত) করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিকে পটুয়াখালী বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সব আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:১২:৫১ ৪ বার পঠিত | ● আটক ● উত্ত্যক্ত ● তরুণী ● দুমকি