ঢাকা বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
কুষ্টিয়া: ভেড়ামারায় অপহরণ ও সংঘবদ্ধ গণধর্ষণের পর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠা তমা খাতুন (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের সাবেক স্বামী আবু বক্করকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত তমা খাতুন উপজেলার গোলাপনগর এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। দেড় বছর আগে একই এলাকার আবু বক্করের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাত্র দেড় মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ (ছাড়াছাড়ি) হয়।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে তমা বাড়ি থেকে বের হয়ে গোলাপনগর বাজারের একটি পার্লারে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে পার্লার থেকে নিজ বাড়ি ফকিরাবাদের বখশিপাড়ায় ফিরছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, পথে একদল যুবক মোটরসাইকেলে এসে তার গতিরোধ করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে কোনো একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ৪-৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ওপর্যুপরি পাশবিক নির্যাতন ও গণধর্ষণ চালায়। রাত সাড়ে সাতটার দিকে বখশিপাড়ার একটি নির্জন মোড়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে তমাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান জানান, তমা অত্যন্ত বিনয়ী মেয়ে ছিলেন। বাজার থেকে ফেরার পথে তাকে অপহরণ করে এই নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে।
নিহতের মা কাজলী খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিহতের সাবেক স্বামী আবু বক্করকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, “মেডিকেলে পোস্টমর্টেমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আমরা সঠিকভাবে বলতে পারব মৃত্যুর কারণ কী।”
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ১৬:২৪:২৫ ১১৭ বার পঠিত | ● চিকিৎসাধীন ● তরুণীর ● ভেড়ামারায ● মৃত্যু