ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে উল্টো গ্রেপ্তার হয়েছেন বাদী জাহানারা বেগম (৬৩)। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মিথ্যা মামলা করে নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করার অপরাধে আদালতের নির্দেশে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন জাহানারা বেগম। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (২০০৩ সালের সংশোধনীসহ)-এর ৯(৪)(খ) ও ৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। জাহানারা বেগমের অভিযোগ ছিল, তার ১২ বছর বয়সী নাতনি নাইমা রাবেয়া মডেল মসজিদে আরবি পড়তে যেত। গত ১২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে তাকে মক্তবের পাশের একটি স্টোররুমে নিয়ে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব এবং দুই খাদেম মিলে ধর্ষণ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও পুলিশি তথ্যমতে, শহরের কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার দুই নাতিকে দিয়ে পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে চুরি ও অপকর্ম করিয়ে আসছিলেন। গত ১২ নভেম্বর তার দুই নাতি মডেল মসজিদে চুরি করতে ঢুকলে এক খাদেম ও আলহাজ্ব শাহ আলম (৭০) নামে এক ব্যক্তি তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর এশার নামাজের পর বিষয়টি মসজিদের পেশ ইমামকে জানানো হলে তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এবং সহকারী পুলিশ সুপারকে (সদর সার্কেল) অবহিত করেন।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে তাদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার জেরে মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ঘটার ১৫ দিন পর হাসপাতালের কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন জাহানারা বেগম।
আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটির বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও হাসপাতালের চিকিৎসকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ধর্ষণের কোনো সত্যতা বা আলামত পায়নি তারা। তদন্ত শেষে পিবিআই গত ২৯ জুন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে পুরো অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ জুলাই মামলার শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জেলা জজ মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাদী জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেন। ওই ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এন/ এস
বাংলাদেশ সময়: ২০:৩৬:৫৪ ৩ বার পঠিত | ● পটুয়াখালী ● বাদী গ্রেপ্তার