ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল নামার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে সৈকতনগরীর অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।
হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুয়াকাটায় থাকা তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেলের মধ্যে প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর আগামী ১৬, ১৭, ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবরের প্রায় শতভাগ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। এ ছাড়া ২৩ ও ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভ্যাল-২০২৬ উপলক্ষেও অগ্রিম বুকিং শুরু হয়েছে। ছুটি ঘনিয়ে এলে হোটেলগুলোর বাকি কক্ষও পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ইতোমধ্যে কুয়াকাটার প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেলকক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। এখানে ছোট-বড় ৩০০টির বেশি আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব আবাসনকেন্দ্রে একসঙ্গে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া ছুটিতে বাড়তি পর্যটকের চাপ সামাল দিতে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০টি বাসাবাড়ি হোমস্টে হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এতে পর্যটকদের আবাসনসংকট মোকাবিলায় বাড়তি সুবিধা হবে বলে আশা করছি।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এবার পর্যটকেরা দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন। তাঁদের স্বাগত জানাতে হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, ফিশ ফ্রাই, আচার ও ঝিনুকসহ পর্যটননির্ভর প্রায় ১৬টি পেশার পাঁচ থেকে সাত হাজারের বেশি শ্রমিক প্রস্তুত রয়েছেন। আমাদের শতাধিক প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডও প্রস্তুত আছেন। পাশাপাশি অন্য খাত থেকেও আরও দুই শতাধিক শ্রমিককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।
হোটেল বেস্ট সাউদার্নের পরিচালক জনি বলেন, তাঁদের হোটেলের ৩১টি কক্ষ আগামী ১৬, ১৭, ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবরের জন্য শতভাগ বুকিং হয়েছে। এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অন্যান্য দিনের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। এখনো অনেকে ফোন করছেন, কিন্তু কক্ষ খালি না থাকায় তাঁদের বুকিং দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
হোটেল সাউথ স্টারের পরিচালক মো. মিঠুন তালুকদার বলেন, তাঁদের দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলটিতে মোট ২২টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে গড়ে ৭০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে। তবে অন্য সময় তাঁরা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় দিলেও এখন দিচ্ছেন ১০ থেকে ২০ শতাংশ। এ কারণে অনেক ফোন এলেও সবাই বুকিং করছেন না। দিনের বেশির ভাগ সময় জেনারেটর চালানো এবং বিদ্যুতের বেশি দামের কারণে প্রতিদিন তাঁদের খরচ বাড়ছে। এই তিন থেকে চার মাসের ব্যবসা দিয়েই তাঁদের সারা বছর চলতে হয়।
দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ছুটি পাচ্ছেন। এ সময় সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে টানা ছুটির আগে ১৭ অক্টোবর সরকারি অফিস খোলা থাকবে।
সরকারের ছুটির সূচি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। এরপর ১৭ অক্টোবর সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে। ১৮ ও ১৯ অক্টোবর নিয়মিত কর্মদিবস। এরপর ২০ থেকে ২২ অক্টোবর দুর্গাপূজা উপলক্ষে অতিরিক্ত সরকারি ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ও ২৪ অক্টোবর শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি অফিসে টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘিরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ছুটির আমেজ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ এই ছুটিতে অনেকে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে, ছুটির আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কর্মদিবস ও ছুটির মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও হোটেল খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মো. রাসেল বলেন, কুয়াকাটায় বছরে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের আগমন ঘটে যেসব সময়ে, দুর্গাপূজার সময় তার অন্যতম। তাই এ সময় যাঁরা কুয়াকাটায় আসবেন, তাঁদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভ্রমণ নিশ্চিত করতে শতভাগ সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল-মোটেলের মালিক ও পরিচালকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ ভাড়া বাড়িয়ে না রাখেন এবং খাবারের মান ও দামের দিকে নজর দেন।
পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে কুয়াকাটায় প্রায় তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল-মোটেল পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি নিয়েছে। পর্যটন খাতকে ঘিরে ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও সৈকত ও সড়কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে হতাশা রয়েছে।
দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটায় একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ রয়েছে। এ কারণে বছরজুড়েই এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। সাধারণত অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়কে পর্যটন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তবে পদ্মা সেতু চালুর পর সারা বছরই পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও সৈকত ও সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সৈকত সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি।
টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান বলেন, দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় পর্যটকের বাড়তি চাপ সামাল দিতে টুরিস্ট পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ সম্মিলিতভাবে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এন/এস
বাংলাদেশ সময়: ২১:৫৭:৫২ ২৫ বার পঠিত | ● কুয়াকাটা পর্যটন ● কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভ্যাল ● কুয়াকাটা হোটেল বুকিং ● দুর্গাপূজার ছুটি ২০২৬