ঢাকা রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: জেলার বাউফল উপজেলা সদরে পাবলিক মাঠসংলগ্ন সাধারণ পাঠাগারটি উদ্বোধনের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় পাঠাগারের বই ও আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাউফল উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঠাগারটি নির্মাণ করা হয়। তবে পাঠাগারের সামনের জায়গা দখল করে রাখা হচ্ছে অটোরিকশা। আশপাশে মূত্রত্যাগের কারণে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এ ছাড়া রাতে পাঠাগারের ছাদে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়াজ উদ্দিন মিয়ার সময়ে বাউফল পাবলিক মাঠের পূর্ব পাশে সাধারণ পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বাউফল সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল সাত্তার। পরে এ দায়িত্ব পালন করেন কেশবপুর কলেজের সাবেক অধ্যাপক এ কে এম হুমায়ুন কবির।
সে সময় লাইব্রেরি পরিচালনার জন্য একটি কমিটি ছিল। সদস্যদের ভোটে কমিটি গঠন করা হতো। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পাঠাগারটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকত। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে বই ও সংবাদপত্র পড়তে আসতেন।
সময়ের সঙ্গে পাঠাগারটির ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নতুন ভবন নির্মাণ করে পাঠাগারটি পুনরায় চালুর দাবি ওঠে।
স্থানীয় তরুণ, যুবক, শিক্ষার্থী ও কয়েকজন সাংবাদিকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাউফলের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদার নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ভবন নির্মাণের পর কয়েক বছর ধরে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল।
দুই বছর আগে ভবনটির উদ্বোধন করা হলেও পরিচালনা কমিটি ও কেয়ারটেকার না থাকায় পাঠাগারটি চালু করা সম্ভব হয়নি। উদ্বোধনের পর থেকেই ভবনের দরজায় তালা ঝুলছে। ফলে লাইব্রেরি চালু হওয়া নিয়ে বইপ্রেমীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঠাগারের ভেতরে বই ও আসবাবপত্র পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভবনের সামনের জায়গায় সারিবদ্ধভাবে অটোরিকশা রাখা হচ্ছে। আশপাশে মূত্রত্যাগের কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে পাঠাগারের ছাদে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, লাইব্রেরি শুধু বই পড়ার জায়গা নয়; এটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মননশীলতা বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র। পাঠাগারটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরেও জ্ঞানমূলক বই, পত্রিকা ও সাময়িকী পড়ার সুযোগ পেতেন। পাশাপাশি তরুণদের মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে জ্ঞানচর্চায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব হতো।
পাঠাগারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, পাঠাগারটি চালু হলে শিক্ষার্থীসহ এলাকার সাধারণ মানুষ বই পড়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু প্রায় দুই বছরেও এটি চালু না হওয়ায় বই ও আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত পাঠাগারটি চালু করে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এই সপ্তাহের মধ্যে পাঠাগারটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৩:৪০ ৩১ বার পঠিত | ● বাউফল উপজেলা ● বাউফল সাধারণ লাইব্রেরি ● সালেহ আহমেদ