ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ভোলা: চরফ্যাসনে যুবতীর ধর্ষন ও ভয়তীতি দেখানোর দুইটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৪ নেতা-কর্মী কর্তৃক ধর্ষণকান্ডের এক বছর পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারী শনিবার বিকালে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলে ঢালচর তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ শরীফ নামে একজনকে আটক করেছে। ওই তরুনকে দিনভর ঢালচর পুলিশ ফাঁড়িতে আটক রেখে রাত ১১টায় স্থানীয় নেতাদের অনৈতিক লেনদেনের বিনিময়ে মুক্তি দেয়া হয়।তবে ওই তরুনের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা না নেয়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছে ওই ইউনিয়ন জুড়ে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে চার তরুন ও ভিক্টিম যুবতীর কথোপকথনে দেখাযায়, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ওই যুবতীকে নিবির নামের এক তরুন নির্জন স্থানের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান।প্রেমিক নিবিরকেসহ ওই যুবতীকে অপর ৩ তরুন তাদেরকে থানা পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই যুগলকে আটক করেন।এবং তারা যুবতীকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। তারপর ৪ জন সংঘবদ্ধ ভাবে যুবতীকে ধর্ষণ করে। যুবতী ধর্ষকদের হাত-পা ধরে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। গত শুক্রবার ধর্ষক শরীফের ফেইজবুক থেকে ভিডিওটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়।
স্থানীয়দের সুত্রে জানাগেছে, ভিক্টিম যুবতীর বাড়ি ঢালচর ইউনিয়নে এবং তার বাবা একজন মৎস্যজীবী। অপরদিকে ধর্ষকদের বাড়িও ঢালচর ইউনিয়নে এবং তার সবাই তৎকালিন ক্ষমতাশীন দল আওয়ামীলীগের ছাত্র-যুবলীগের নেতা-কর্মী।
ভিডিওতে যে ৪ ধর্ষককে সনাক্ত করা যায় তাদের মধ্যে অভিযুক্ত শরীফ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য ও তার বাবা নুরে আলম ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য ও নিবির ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও তার বাবা এলাহী মেম্বার ওই ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং মানির ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য গনি মাঝির ছেলে এছাড়াও আকতার ওই ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সদস্য ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ পুলিশ অভিযুক্ত ওই তরুনদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে আটককৃত তরুনকে উল্টো ছেড়ে দিয়েছে। এতে অপরাধ প্রবনতা আরো বৃদ্ধি পাবে।
অভিযুক্ত ওই তরুন শরীফের বাবা নুরে আলম জানান, একটি ভিডিও ফেসবুকে পোষ্ট করার দায়ে তার ছেলেকে পুলিশ আটক করেন। পরে তার ফেসবুকে ওই ভিডিও না পেয়ে তাকে রাতে ছেড়ে দেন থানা পুলিশ।
ঢালচর ফাঁড়ি ইন-চার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, আমি ভোলা সদরে থাকায় বিষয়টি সঠিক বলতে পারছিনা। ফাঁড়িতে এসআই সোহেল রয়েছে তার কাছ থেকে জেনে পরে জানাতে পারবো। তবে অনৈতিক লেনদেন এসব বিষয়ে আমার জানানাই।
ঢালচর ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. সোহেল জানান, যাচাই করে ওই তরুনের ফোনে ও ফেসবুকে কোন ভিডিও পাওয়া যায়নি। ওই ভিডিওতো সে ডিলেট করে দিয়েছে এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি জানান, ওসি স্যারের নির্দেশনায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারবোনা।
দক্ষিণ আইচা থানার ওসি মো. এরশাদুল হক ভূইয়া জানান, ওই ভিডিওটি অনেক পূর্বের বলে জানতে পেরেছি। এবং ভিক্টিম যুবতীর কোন হদিস নেই। আটককৃত ওই তরুনের ফেসবুকে ধর্ষণের ভিডিওটি পাওয়া যায়নি তাই তাকে মুচলেকায় মুক্তি দেয়া হয়েছে। এধরনের অপরাধে কাউকে আটকের পর ছেড়ে দেয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নের জাবাবরে কোন উত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপাররের সাথে কথা বলেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার চরফ্যাসন(সার্কেল)মো. মেহেদী হাসান পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তায় নদীতে স্পিড বোটে থাকায় তাকে ফোন দিলে শব্দের কারনে কথা বলা যায়নি। তাই তার বক্তব্য জানাযায়নি।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৪৬:৩৭ ২৭৮ বার পঠিত | ● চরফ্যাসন ● ধর্ষক ● ধর্ষণ ● ফেসবুক ● ভিডিও