ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পটুয়াখালী: কলাপাড়ায় সাবেক সংসদ সদস্য (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) পটুয়াখালী-৪ অধ্যক্ষ মহিবুর রহমান ও তার সহধর্মিণী কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের আহ্বায়ক ফাতেমা আক্তার রেখার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাকিব মুসুল্লি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মহিপুর থানা শাখার “জয় বাংলা ক্লাব” এর সভাপতি হিসেবে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, শালিস বানিজ্য কাউন্টার দখলসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় “ফেয়ার মাইন্ড সমাজসেবা সংগঠন” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। যা মূলত চাঁদাবাজির জন্য ব্যবহৃত হতো। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে এই সংগঠনের নামে অর্থ দিতে বাধ্য করতেন, অপারগতা জানালে নানা হয়রানির শিকার হতে হতো।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পালাবদলের পর গণবিপ্লবের জেরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মতো রাকিব মুসুল্লিও এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। ৫ তারিখের পর তিনি আর এলাকায় থাকতে পারেননি এবং আত্মগোপনে চলে যান। পরে তিনি ঢাকার সাভারে গিয়ে আশ্রয় নেন।
সেখানে গিয়ে তিনি বৈষম্য বিরোধী রাষ্ট্র সংস্কার ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন করেন পরে “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন” সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে সংগঠনটির সাভার উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে জায়গা করে নেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীসহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন একজন ব্যক্তি, যিনি দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যিনি দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত, তিনি কীভাবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বস্থানীয় পদ পেতে পারেন?
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি একটি বড় ধরনের সাংগঠনিক ব্যর্থতা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আদর্শের সঙ্গে এটি সাংঘর্ষিক।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনতিবিলম্বে রাকিব মুসুল্লির গ্রেফতার ও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমন্বয়ক ও সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বৃহত্তর উত্তরের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আবু সালেহ অমি বলেন, জুলাই আন্দোলনে আমরা ছাত্র জনতা জীবন দিয়ে এ দেশটাকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করেছি। সেখানে একজন দোসর কিভাবে একটা উপজেলার দায়িত্ব পায়। আমরা কেন্দ্রীয সমন্বয়কদের ৩৬ ঘন্টা সময় দিয়েছি এরমধ্যে তাকে কমিটি থেকে অপসারণ করে শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।
এ বিষয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি, ফ্যাসিস্টের দোসর হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে সাভার উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দায়িত্বশীলরা এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে।
আফ/আর
বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৮:০৪ ৩১৫ বার পঠিত | ● ছাত্র আন্দোলন ● দোসর ● ফ্যাসিস্ট ● বৈষম্য বিরোধী ● যুগ্ম আহ্বায়ক