ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরিশাল: আগৈলঝাড়ায় শিশু শিক্ষার্থীকে নিয়ে লাপাত্তা প্রাইভেট শিক্ষিকা, ৮দিন পর গাজীপুরের টুঙ্গি থেকে শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় শিক্ষিকাকে আটক করা হয়েছে। শিক্ষিকার মাকেও আটক করেছে পুলিশ। এঘটনায় শিশু শিক্ষার্থীর পরিবার থেকে আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানাগেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের আবুল কাসেম’র মেয়ে ও বাগধা দাসপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী হালিমা আক্তার সুইটি একই গ্রামের ফরহাদ সরদারের ছেলে ও বাগধা নুরারী ও হাফেজীয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী তাজিম সরদার (৮)কে প্রাইভেট পড়াতো। একারনে তাজিমের পরিবারের সাথে হালিমার সখ্যাতা গড়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারী সকালে হালিমা তাজিমের বাড়িতে গিয়ে তাজিমকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যায়।
এরপর থেকে হালিমা ও তাজিমের কোন সন্ধ্যান না পেয়ে তাজিমের পরিবার একাধিকবার হালিমার পরিবারের কাছে ধর্না দেয়। এসময় হালিমার পরিবার তালবাহনা করে সময় ক্ষেপন করে এক পর্যায় তারা বসত ঘরে তালা দিয়ে নিখোঁজ হন। তাজিমের পরিবার ইউপি সদস্যসহ স্থানীয়দের বিষয়টি জানান।
হালিমার পরিবারে থেকে হালিমা আক্তার নিখোঁজের বিষয় আগৈলঝাড়া থানায় ২৫ ফেব্রুয়ারী রাতে একটি সাধারন ডায়েরী করেন, যার নং-১১৫৪। অজ্ঞাত কারনে ওই সাধারন ডায়েরীতে হালিমার সাথে তাজিম নিখোঁজ হলেও তার নাম উল্লেখ্য করা হয়নি। এরপর থেকে হালিমা নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে রাখে।
পুলিশ ওই সাধারন ডায়েরীর সূত্র ধরে হালিমা ও তাজিমের সন্ধ্যানে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে হালিমার সাথে গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার জলিরপাড় গ্রামের বিশ্বনাথ বাড়ৈর ছেলে সজীব বাড়ৈ সাথে হালিমার মোবাইলে কথা হয়েছে এমন প্রমান পায় পুলিশ। এরপরে সজীবকে পুলিশ আটক করে হালিমার অবস্থানের কথা জানতে পারে।
সজিবকে নিয়ে আগৈলঝাড়া থানার এসআই সমীর রায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে গাজীপুর জেলার টুঙ্গী বাজার এলাকা থেকে অপহৃতা শিশু শিক্ষার্থী তাজিমকে উদ্ধারসহ প্রাইভেট শিক্ষিকা হালিমা আক্তারকে আটক করে। এঘটনায় পুলিশ হালিমার মা রাফিজা বেগমকেও আটক করে। অপহৃতা শিশু শিক্ষার্থী তাজিমের মা রাশিদা বেগম বাদী হয়ে সোমবার রাতে আগৈলঝাড়া থানায় হালিমা আক্তারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এ বিষয়ে তাজিমের পিতা ফরহাদ সরদার বলেন, ছেলের প্রাইভেট শিক্ষিকা পাশের বাড়ির হালিমা আমার কাছ থেকে তাজিমকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে যায়, এর পর গত ৭ দিনে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশ আমার ছেলেকে ৮ দিন পরে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফেরৎ দিয়েছে।
এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো.অলিউল ইসলাম বলেন, যেহেতু দু-জনই শিশু হওয়ায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া সম্ভব নয়। তাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও থানার শিশু ডেক্সের দায়িত্বে থাকা এসআই তুলসি শাহ’র এ বিষয়ে সিদ্বান্তে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর/ এন
বাংলাদেশ সময়: ২০:২১:৪৪ ২৩৬ বার পঠিত | ● আগৈলঝাড়া ● লাপাত্তা ● শিক্ষার্থী ● শিক্ষিকা ● শিশু