ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
বগা সেতু নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন উলিপুরে ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা গোবিন্দাসী ৫ কোটি টাকার গরুর হাটের ইজারা মূল্য এখন অর্ধ কোটি! ভেড়ামারায় ‘ভূমি সেবা মেলা বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন বানিয়াচংয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস সাধু বাবার আস্তানায় ধর্ষণের শিকার নারী টানা দ্বিতীয়বার ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি সালথার বাবলুর রহমান খান নবাবগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহের উদ্বোধন বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক হলেন খোকন কলাপাড়ায় সৌদিপ্রবাসী নারীর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » প্রধান সংবাদ » দুঃখ প্রকাশ করে রাজনীতিতে ফিরতে চায় ১৪ দলের শরিকরা

দুঃখ প্রকাশ করে রাজনীতিতে ফিরতে চায় ১৪ দলের শরিকরা


আজকের রূপান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫


দুঃখ প্রকাশ করে রাজনীতিতে ফিরতে চায় ১৪ দলের শরিকরা

আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের দুর্নীতি-লুটপাটসহ নানা অপকর্ম এবং জুলাই-আগষ্ট গণহত্যার দায় নিতে নারাজ ১৪ দলের শরিকরা। তারা ক্ষমতাচ্যুত দলটির রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে দুই দশকের পথচলার জন্য ‘দুঃখ প্রকাশ’ করে স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরতে চায়। জোটের বেশির ভাগ শরিক দলের নেতাদের প্রত্যাশা, পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা রাজনীতির মাঠে পুরোমাত্রায় সক্রিয় হতে পারবেন।

১৪ দলের কয়েকজন নেতার ভাষ্য, কেবল জোটের শরিকানা এবং দু-একজন নেতার সরকার ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছাড়া গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল না। তারপরও আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীত সম্পর্কের কারণে এখনও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি-নেতা গ্রেপ্তার হন। অনেকে বিদেশেও পালিয়ে যান। সারাদেশে মন্ত্রী-নেতাদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়। দলটির সিংহভাগ নেতাকর্মী এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন।

একই সময় থেকে ‌‘ফ্যাসিবাদের সহযোগী’ আখ্যা পাওয়া ১৪ দলের শরিক দলগুলোও রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। জোটের দুই শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু জুলাই-আগস্টের একাধিক হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে আছেন। এরই মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের শরিক সিংহভাগ রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-জনতার ভেতর থেকে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ১৪ দলকেও নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। এটিও জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

১৪ দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ১৪ দলের কয়েকটি শরিক দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা চলমান। ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ ঘরোয়া বৈঠক, আলোচনা সভা এবং বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। দু’ভাগে বিভক্ত গণতন্ত্রী পার্টির মধ্যে আরশ আলীর নেতৃত্বাধীন অংশটি জাতীয় দিবসগুলোর কর্মসূচিতে দলীয় ব্যানার ও নেতাকর্মীসহ অংশ নিয়েছে। আরেক শরিক তরীকত ফেডারেশন সময় সময় বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। বাসদ (রেজাউর) ঘরোয়া বৈঠক করে শিগগিরই দলের জেলা-উপজেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বাকি সাতটি শরিক দল জাতীয় পার্টি (জেপি), ন্যাপ, সাম্যবাদী দল, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি এবং গণতন্ত্রী পার্টি (শাহাদাৎ) এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য কোনো তৎপরতাই দেখাতে পারছে না। তবে শরিক দলগুলোর নেতারা নিজেদের মধ্যে টেলিফোন যোগাযোগ অব্যাহত রেখে রাজনীতিতে ফেরার কৌশল ঠিক করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

১৪ দলের কয়েক নেতা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়ে দেশের মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। সমকালের সঙ্গে আলাপকালে জোটের একাধিক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের কোনো অস্তিত্বই এখন আর নেই। বিদ্যমান রাজনীতিতে জোটটির প্রাসঙ্গিকতাও নেই। এখন দলীয় আদর্শ নিয়ে স্বাভাবিক রাজনীতি করতে চান তারা। তবে আওয়ামী লীগের মিত্র জোটে থাকার বিষয়টি তাদের জন্য কাল হয়ে আছে।

আক্ষেপের সুরে এই নেতারা বলেন, সরকার পতনের আগে শেখ হাসিনার ডাকে ১৪ দলের যেসব নেতা গণভবনে জোটের বৈঠকগুলোতে যোগ দিয়েছিলেন, তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বা তাঁর সরকার জোট শরিকদের সেই সৎ পরামর্শও আমলে নেননি।

জানতে চাইলে গণতন্ত্রী পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়েই আমরা একটি বড় দল হিসেবেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দলীয় জোটে সম্পৃক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ও তার সরকার গণতন্ত্র হরণ, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস এবং দুর্নীতি-লুটপাট ও দুঃশাসনের সঙ্গে নিজেদের জড়াইনি। ফলে এসবের দায়ভার আমরা নিতেও রাজি নই।’

বাসদের (রেজাউর) আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান বলেন, ‘গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ যেসব অপকর্ম করেছে, তার দায়ভার সম্পূর্ণ তাদেরই। কোনো অবস্থায়ই ১৪ দল শরিকদের নয়। তারপরও এই যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একই জোটে ছিলাম, সে জন্য আমাদের দল দেশের জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে রাজনীতির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে চায়।’অন্য কয়েকটি শরিক দলও এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে বলে জানান রেজাউর রশীদ খান।

আর/ এন

বাংলাদেশ সময়: ২০:১৯:৪৫   ১৩২ বার পঠিত  |      







প্রধান সংবাদ থেকে আরও...


আওয়ামী লীগ সরকারের কারণে জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত: মির্জা ফখরুল
এনবিআরকে প্রধানমন্ত্রী বাজেট নিম্ন-মধ্যবিত্তকে যাতে চাপে না ফেলে
গণভোট বাস্তবায়নে ‘আন্দোলন’ প্রতিশ্রুতি ছাড়া কমিটিতে থাকতে চায় না জামায়াত
আঙুর রাসায়নিকমুক্ত করুন ঘরোয়া উপায়ে
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াবে শসার ৬ ফেসপ্যাক



আর্কাইভ