ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
পিরোজপুর: কাউখালীতে এবার রবি মৌসুমে ব্যাপকভাবে শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। বাজার দাম ভাল থাকায় এবারে শীতকালীন সবজি চাষ করে কৃষকরা লাভবান হয়েছে এবং তাদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। এক সময় এ অঞ্চলের কৃষকরা আমন ধান করে তাদের জমি সারাবছর ফেলে রাখতো। উপজেলা কৃষি অফিসের তৎপরতায় বিগত কয়েক বছর যাবৎ সারা বছর কৃষকরা তাদের জমি চাষের আওতায় এনেছে। যার ফলে পতিত জমির পরিমান উল্লেখযোগ্যহারে কমে আসছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের রবি মৌসুমে কাউখালী উপজেলায় লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শালগম, পালংশাক, ধনেশাক, ব্রোকলি, কাঁচা মরিচ, বেগুন, টমেটো, শিম, মুলা, লালশাক, করলা, শসা, ক্ষিরই ও আলুর ব্যাপক ফলন হয়েছে।
উপজেলার নাঙ্গুলী, গান্ডতা, মাগুরা ও জোলাগাতী ও বেতকা গ্রাম ঘুরে দেখা যায় কৃষকরা প্রায় ২২ ধরনের সবজির আবাদ করেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, বোরো ধান ও আলু চাষের পাশাপাশি এবারে যে সকল কৃষকরা শীতকালীন সবজির চাষ করেছেন তারা প্রত্যেকেই লাভবান হয়েছেন।
জোলাগাতী এলাকার কৃষক সেলিম শরিফ বলেন, এ বছর আমি প্রায় ২ বিঘায় মিষ্টি কুমড়া, করলা ও শসা লাগিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ টাকার বিক্রি করেছি । সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তিনি প্রায় ৬শত করলা ও ৫শত মিষ্টি কুমড়া গাছ লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি এখনো প্রতি হাটে সবজি বিক্রি করছি।
গন্ধর্ব গ্রামের মো. ইউসুফ শেখ জানান, এবারে প্রায় আড়াই বিঘায় লাউ, লালশাক, ফুলকপি, বাধাকপি ও আলু লাগিয়েছেন। তাছাড়া এবার প্রায় ২ হাজার কলা গাছ লাগিয়েছেন। যাতে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার বিক্রি করেছেন।
মাগুরা গ্রামের কৃষক নাজির হোসেন বলেন, লাউ, শিম, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া লাগিয়ে প্রায় দুই লক্ষ টাকার সবজি বিক্রি করেছি। তাছাড়া লালশাক বিক্রি করেছি প্রায় লক্ষাধিক টাকার।
উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার প্রদীপ কুমার হালদার জানান, কাউখালীতে কৃষকদের মাঠে আমন ধান থাকে প্রায় জানুয়ারীর মাঝামাঝি থেকে প্রায় ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত। যে কারনে সবজি চাষ করার জন্য রবি মৌসুমের পুরোপুরি সময়টা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে যায়। তবে বিভিন্ন উপায়ে আমরা এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি। যার ফলশ্রুতিতে এবারে কাউখালীতে প্রায় ৫০০হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজির আবাদ হয়েছে এবং বাম্পার ফলন হয়েছে সাথে সাথে কৃষকরাও খুবই লাভবান হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস বলেন, বিপুল চাহিদা থাকার কারনে এ বছর রবি মৌসুমে শাক-সবজি চাষ করে কৃষকরা ভীষণ লাভবান হয়েছে। উপজেলায় শাক-সবজি চাষ বাড়ানোর লক্ষ্যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে পাশাপাশি কৃষকদেরও কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে কাউখালীর কৃষক এবং কৃষি এগিয়ে যাচ্ছে দূর্বার গতিতে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৭:১৬ ২০৪ বার পঠিত | ● কাউখালী ● শীতকালীন ● সবজি