ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » আগৈলঝাড়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শতাধীক শিক্ষক-কর্মকর্তার পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ

আগৈলঝাড়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শতাধীক শিক্ষক-কর্মকর্তার পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ


আজাদ রহমান,স্টাফ রিপোর্টার (আগৈলঝাড়া)
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫


আগৈলঝাড়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শতাধীক শিক্ষক-কর্মকর্তার পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ


বরিশাল:
আগৈলঝাড়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কর্মরত কর্মকর্তাসহ প্রায় শতাধীক শিক্ষক চলতি বছরের জানুয়ারী মাষ থেকে তিন মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় ঈদকে সামনে রেখে এ সকল পরিবারের লোকজনের চোখে মুখে দেখা দিয়েছে হতাশার ছাপ।

আগৈলঝাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মরত কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগৈলঝাড়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদ ভিত্তিক সহজ কোরআন শিক্ষার (মক্তব) ৪৬ টি কেন্দ্র রয়েছে, অপরদিকে শিশুদের জন্য প্রাক প্রাথমিকের ৩৮ টি কেন্দ্র রয়েছে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগৈলঝাড়া উপজেলা অফিসে একজন সুপারভাইজার একজন মডেল কেয়ার টেকার ও তিনজন সাধারন কেয়ার টেকারসহ পাচ জন কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছে। এদের সকলের চলতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে বেতন বন্ধ থাকায় তিন মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় এ সকল পরিবারে দেখা দিয়েছে হতাশা। তারা স্ত্রী সন্তান নিয়ে চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মূখে পরে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার উৎকন্ঠায় মধ্যে দিয়ে দিন যাপন করছেন।

জানা গেছে, ১৯৯২ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরীক্ষা মুলক ভাবে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গনশিক্ষা পাইলট প্রকল্প হিসেবে সুরু করে।  ১৯৯৩ সালে মূল প্রকল্প হিসেবে এই প্রকল্প চলমান রাখে, প্রতি পাচ ও তিন বছর পর পর প্রকল্পটি পুর্নানুমোদন হয়ে আসছে। শুধুমাত্র একবার এক বছরের জন্য অনুমোদন করা হয়েছিল। সুত্র জানায় ৩২ বছরে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ৭ বার অনুমোদন করা হয়েছে, চলতি বছর অষ্টম বারের অনুমোদন এর জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। ২০২৪ইং সালের ডিসেম্বরে  সপ্তম পর্যায় প্রকল্পের শেষ হয়। অষ্টম পর্যায়ের প্রকল্পটি এখনো অনুমোদন হয়নি। অর্থমন্ত্রনালয়, ধর্মমন্ত্রনালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় প্রকল্পটি অনুমোদন করে। কিন্তু এবার অর্থমন্ত্রনালয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই প্রকল্পটিকে  আউটসোসিং প্রকল্প হিসেবে চালু করতে প্রস্তুতি গ্রহন করে। এ কারনে ২০২৫ইং সালের গত তিন মাস এই প্রকল্পের আওতায় আগৈলঝাড়ায় কর্মরত প্রায় শতাধীক শিক্ষক কর্মকর্তা বেতন ও ঈদ বোনাস এখনো পায়নি। এই প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের জনবল রাজস্ব খাতে নেয়া হলেও তৃতীয় থেকে সপ্তম পর্যায়ের জনবল রাজস্ব খাতে না নেওয়ায় বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন তারা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত অসংখ্য কার্যক্রমের মধ্যে এটি সর্ববৃহৎ। এই প্রকল্পে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রনালয়ের জনবল হিসেবে প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে আসছে।
এই প্রকল্পের কর্মরতরা প্রধান উপদেষ্ঠা ও ধর্ম উপদেষ্ঠার নিকট দাবী করেছেন আউটসোসিং নামক দাসপ্রথা থেকে মুক্ত করে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত করে এই প্রকল্পের কর্মরতদের বৈষম্য দূরীকরনের।

এই প্রকল্পে কর্মরতরা চলতি মাসের ২০ তারিখ মানববন্ধন শেষে স্ব-স্ব জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার নিকট স্বারকলিপি পেশ করে ও কর্মবিরতি পালন শুরু  করে। ধর্ম উপদেস্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের আশ্বাসে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে ২৪ মার্চ থেকে তাদের কর্মসুচি স্থগিত করেন। এই প্রকল্পের সকলের দাবি আউটসোর্সিং বাদ দিয়ে রাজস্ব খাতে না নিলে ঈদের পরে লাগাতার  কর্মসুচী দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী ফকির বাড়ি জামে মসজিদে (৫১/৮৭২ নং কেন্দ্র) মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গনশিক্ষা কার্যক্রম(সহজ কোরআন শিক্ষা) শিক্ষক মোঃ আবুল হাসান বক্তিয়ার বলেন সারা বছর শিশুদের পাঠদান করে  অপেক্ষায় থাকি বেতন বোনাসের টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করে আনন্দে ঈদ করবো, বেতন বোনাস না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে  কোন রকমে ঈদ উৎযাপন করবো।

এব্যাপারে উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের উত্তর চাদত্রিশিরা তালুকদার বাড়ি বাংলোঘর এ (২০/২৫৮ নং) প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক মোসাঃ বদরুন্নেছা পরি জানান সারা মাস শিশুদের লেখাপরা শিখিয়ে মাসে পাঁচ হাজার টাকা পাই, এই টাকা দিয়ে পরিবারে সবাইকে নিয়ে আনন্দে ঈদ করবো বলে। অথচ এবার বেতন বোনাস কিছুই না পাওয়ায় কিভাবে পরিবার নিয়ে ঈদ উৎযাপন করবো তা নিয়ে খুবই দূশ্চিন্তার মধ্যে আছি।

আগৈলঝাড়া উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মডেল কেয়ার টেকার মোঃ ফকরুল আলম বলেন সারা মাস রোজা রেখে ঈদের সময় স্ত্রী সস্তানসহ পরিবারের কাউকে টাকার অভাবে  নতুন জামা কাপর দিতে না পারি এর চেয়ে কস্টের আর কিছুই নেই।  আমি বি এ পাশ করে ২৩ বছর ৭ হাজার ৫ শত টাকা বেতনে চাকুরি করে আসছি, এখন যদি আউটসোসিং কার্যক্রম চালু হয় তা হলে এ বয়সে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হবে।

আগৈলঝাড়া উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সুপার ভাইজার মোহাম্মদ নুরনবী বলেন ৩২ বছর পুর্বে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন সপ্তম পর্যায় প্রকল্প শেষ হয়েছে , অথচ  দুর্ভাগ্য এর পরে অনেক  প্রতিষ্ঠান সরকারি হয়েছে,  উর্ধতন কর্মকর্তারা আমাদের  বহুবার কথা দিয়েও কথা রক্ষা করেনি। এখন শুনছি আউটসোসিং এর নামে  (দাসপ্রাথা) চালু করতে চাচ্ছে, অর্থাৎ যে দিন কাজ করবে সে দিন বেতন পাবে, আর যে দিন কাজ করবে না সে দিনের বেতন পাবে না। একই প্রকল্পে দুই নিয়ম এটি একটি বৈষম্য। তিনি প্রধান উপদেষ্ঠা ও ধর্ম উপদেষ্ঠার নিকট দাবী জানিয়েছে আউটসোসিং নামক দাসপ্রথা থেকে মুক্ত করে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত করে এই প্রকল্পের কর্মকর্তাদের বৈষম্য দূর করবেন।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার দায়িত্বে থাকা ফিল্ড অফিসার মোহাম্মদ ফোরকান হোসেন বলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই প্রকল্পের সবাই ঈদের আগে বেতন বোনাস পাওয়ার সম্ভাবনা নাই, কমপক্ষে আরো দুই মাষ পরে বেতন বোনাস পেতে পারেন, পুর্বেও এ রকম হয়েছে। পরবর্তীতে একসাথে পেয়েছে।

 

আফ/আর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:০২:২৬   ৫০৭ বার পঠিত  |         







বরিশাল থেকে আরও...


লালমোহনে তরমুজ চাষিদের থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কাঁঠালিয়ায় ব্যবসায়ীর রিং স্লাব ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ
দুমকিতে কেনাকাটায় জমছে ঈদ বাজার
কাঁঠালিয়ায় স্কুল শিক্ষক ছোট ভাইয়ের মারধরের শিকার বড় ভাই
কাউখালীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা



আর্কাইভ