ঢাকা বুধবার, ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরিশাল: সাগরের পুরানো স্মৃতি মনে করে কবরের (পাশে) উপর বার-বার বিলাপ করছে তার মা আম্বিয়া বেগম।সাগরের পিতা নুরুল হক হাওলাদার ছেলের শোকে সকাল থেকে ঘড় থেকে বের হয়নি, এমন কি কারো সাথে কথাও বলেনি,
সাগরের একমাত্র ছোট বোন মরিয়ম খানম ভাইয়ের কথা মনে করে বাড়ির এককোনে একা-একা চুপচাপ বসে আছে, কারোর সাথেই কথা বলছে না।
সাগরের বৃদ্ধ দাদা আঃ মজিদ হাওলাদার(৭৫)ও দাদি রহিমা বেগম(৬৫) বাড়ির উঠানে বসে বাকরুদ্ধ হয়ে নিরবে চোখের পানি ফেলছে। কান্নার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছে তারা।
সাগরের কাকা মাইনুল হাওলাদার জানান ঈদকে সামনে রেখে শোকাহত পরিবারটি কোন কেনাকাটা না করলেও তিনদিন পুর্বে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সাগরের পরিবারকে ঈদ সামগ্রী পৌছে দেন জেলা ও উপজেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ।
সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপনের নির্দেশে সাগরের কবরস্থান পাকা করনের কাজ চলমান রয়েছে। ঈদেরদিন সোমবার সকালে বাগধা গ্রামের অসংখ্য লোকজন সাগরের শোকাহত পরিবারকে বাড়িতে গিয়ে শান্তনা জানিয়েছে।
তবে ঈদের দিন সকালে উপজেলার বাগধা ইউনিয়ের বাগধা গ্রামে সাগরের বাড়ি গিয়ে ওই পরিবারের কারোর পড়নে নতুন কোন জামা- কাপর দেখা যায়নি।এমনকি ঈদ উপলক্ষে সকাল থেকে কোন রান্না-বান্নাও হয়নি।
সাগর হাওলাদারের মৃত্যুর দির্ঘ আট মাস পেড়িয়ে গেলেও পরিবারের সকলের চোখে-মুখে দেখা গেছে শোকের ছায়া।
সাগরের মা আম্বিয়া বেগম ছেলের কবরের পাশে কান্না জরিত কন্ঠে বিলাপ করে বলছিলেন সংসারের খরচ ও বোনের লেখা-পড়া যোগার করতে দুই মাস আগে সাগর ঢাকায় গিয়েছিল, ওর স্বপ্ন ছিল বিদেশ গিয়ে বেশি টাকা আয় করে বাড়িতে পাকা ভবন তৈরি করবে, ওই ভবনে সবার জন্য আলাদা কক্ষ থাকবে ও বোনের লেখাপড়াসহ মায়ের জন্য কাজের লোক রেখে দিবেন বলেও আশা ব্যক্ত করে ছিলেন সাগর।
সাগরের বৃদ্ধ দাদা মোঃ মজিদ হাওলাদার কথা বলতে গিয়ে বার বার বাকরুদ্ধ হয়ে পরছিলেন,শোকে এতটাই কাবু ছিলেন কথাও বলতে পারছিলেন না,
কোন রকমে জানান আমাদের পরিবারে কোন ঈদ নেই, সাগর চলে যাওয়ায় আমাদের জীবন থেকে ঈদের আনন্দ হরিয়ে গেছে,
আজকে সাগর বেচে থাকলে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এসে বলতো দাদা ঈদ সালামী দাও, সাগর ছিল আমার একমাত্র নাতি, আমার কলিজার টুকরা ও আদরের ধন।
সাগরের পিতা নুরুল হক হাওলাদার বাগধা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী, তার এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সাগর বড়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরুর দুই মাস আগে সাগর হাওলাদার(১৭) সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার আশায় ও বোনের লেখাপড়া খরচ যোগাতে ঢাকায় যায়, সে ধানমন্ডি লেকপাড় একটি চায়ের দোকানে ৯ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতো।
১৯ জুলাই রাতে বাসায় ফেরার পথে আবাহনী মাঠের কর্নারে পুলিশ বক্সের কাছে দু-পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ২৪ জুলাই মৃত্যুবরন করে সাগর হাওলাদার।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৫২:২০ ২১১ বার পঠিত | ● আগৈলঝাড়া ● আনন্দ ● ঈদ ● বিষাদ