ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
বরিশাল: পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিয়ের আলোচনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত বারেক ফকির (৬৫) রবিবার (৪ মে) বিকেলে নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩ মে) জোহরের নামাজ শেষে মোল্লা বাড়ি মসজিদের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে আজহার খানের বড় ছেলে আব্দুর রহমানের বিয়ের ব্যাপারে মেয়ে পক্ষের পরিবার সম্পর্কে স্থানীয় বারেক ফকিরের কাছে জানতে চান ছেলে পক্ষ। তিনি (বারেক)শান্তভাবে উত্তর দিলেও রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কিল-ঘুষি মারেন। পরে রহমানের ভাই আরিফ লাঠি ও রড দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন বারেক ফকিরকে।
শনিবার দুপুরে তাকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
তাৎক্ষণিকভাবে পটুয়াখালী থেকে তাকে বরিশালে নেওয়া হয় এবং ওখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থা আরো অবনতির দিকে গেলে চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা ভালো না বলে জানিয়ে দেন। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা তাকে তাকে রবিবার দুপুরের দিকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য রওয়ানা হন। বাড়ি ফেরার পথেই বিকেল ৫টার দিকে বারেক ফকির মারা যান।
নিহতের ছেলে সুমন ফকির বলেন, ‘আমার বাবা একজন সৎ ও নিরীহ মানুষ ছিলেন। শুধু একটি বিয়ের প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কারণে রহমান ও তার ভাই আরিফ তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তারা যেভাবে আক্রমণ করেছে, তা অমানবিক ও পরিকল্পিত। আমরা তাকে হাসপাতালে নিলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না। একজন নাগরিক হিসেবে এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যেন এমন মৃত্যু আর কোনো পরিবারকে দেখতে না হয়।’
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালাই। অভিযুক্ত আজহার খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৮:২৮ ৮৪ বার পঠিত | ● নিহত ● পটুয়াখালী সদর ● সংঘর্ষ