ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
ময়মনসিংহ: পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার খামারগুলোতে কোরবানির গরুর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা খামারগুলোতে দেশীয় জাতের সুস্থ-সবল ষাঁড় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক উপায়ে লালিত এসব গরু ইতোমধ্যে স্থানীয় ও অনলাইন ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ঈশ্বরগঞ্জ-নেত্রকোনা সড়কের পাশে চরনিখলা এলাকায় অবস্থিত “আবদিয়া এগ্রো” খামারে রয়েছে ১৭টি দেশীয় জাতের গরু। খামারটির স্বত্বাধিকারী আরিফ হোসেন সায়মন জানান, “প্রতিটি গরুর দাম ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে। এখানে কোনো ধরনের কৃত্রিম ওষুধ বা হরমোন ব্যবহার করা হয়নি। গরুগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লালন করা হয়েছে।”
উপজেলার উচাখিলা চরআলগী এলাকার ফিরোজ ডেইরি ফার্মে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১৫টি ষাঁড়। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৭টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। ফার্মের মালিক ফিরোজ জানান, “বর্তমানে আমার খামারে ৮টি গরু রয়েছে, যেগুলোর দাম ৩ লাখ থেকে শুরু করে ৮-৯ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বড় দুটি গরুর ওজন ৬০০ কেজিরও বেশি।”
শুধু ব্যক্তিমালিকানাধীন খামারই নয়, উপজেলা পর্যায়েও কোরবানির পশুর সরবরাহ রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঈশ্বরগঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর সংখ্যা ১৩,৩৯৭টি। এর মধ্যে ষাঁড় ৬,৩৪৩টি, বলদ ৫২টি, গাভী ৬০৫টি, ছাগল ৬,২৩৩টি এবং ভেড়া ৮২টি। উপজেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৯,৮৫০টি পশুর, ফলে ৩,৫৪৭টি পশু উদ্বৃত্ত থাকছে, যা অন্যান্য উপজেলায় সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া ‘কুরবানীর হাট, ময়মনসিংহ’ নামক একটি ওয়েবসাইটে প্রতিটি পশুর বিস্তারিত তথ্য যেমন বয়স, ওজন, দাম এবং মালিকের নামসহ উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ক্রেতারা ঘরে বসেই পশু নির্বাচন ও মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা পাচ্ছেন।
খামারিরা আশা করছেন, স্বাস্থ্যবান ও প্রাকৃতিক উপায়ে লালিত গরুর চাহিদা থাকায় এবার তারা ভালো দাম পাবেন। অপরদিকে ক্রেতারাও খুঁজছেন ইনজেকশনবিহীন, নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পশু। এ প্রেক্ষাপটে ঈশ্বরগঞ্জের খামারগুলো ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান, “আমরা কোরবানির পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। খামারগুলোতে পর্যাপ্ত গরু রয়েছে এবং নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও পরিদর্শন চলছে। খামারিদের সঠিক খাদ্য ও পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি, ফলে ভারতীয় গরুর কোনো প্রয়োজন হবে না। হাটে পর্যাপ্ত গরু পাওয়া যাবে।”
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২২:৪৯:০১ ২০৪ বার পঠিত | ● ঈদ ● ঈশ্বরগঞ্জ ● খামার