ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
নোয়াখালী: বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ইঞ্জিনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবারহ বিঘিœত হচ্ছে। এইচ এস সি পরীক্ষার এই সময়েও লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বার বার। এতে ক্ষুদ্ধ গ্রাহকরা দুষছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিভাগকে। কিন্তু উৎপাদনে সরকারি এই বিভাগের তদরাকির কোন সূয়োগ নেই। যা রক্ষনা বেক্ষন করছে দেশ এনার্জি নামে একটি বেসরকারি প্রতষ্ঠিান।
শুক্রবার ( ২৭জুন) ভোর রাত্র থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ ছিল। দুপুরের পর থেকে মাঝে মধ্যে এলেও ১০-১৫মিনিট পর আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এটি হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীর চিত্র। আবহাওয়া অনেকটা ভালো,ঝড় তুপান নেই বললেই চলে। বজ্রপাতের কোন আলামত নেই। তবুও বিদ্যুৎ সরবারহ কেন বন্ধ হচ্ছে দেখতে অফিসে যান স্থানীয় সাংবাদিক সহ কয়েকজন। তাতে দেখা যায় নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসটিও অন্ধাকারে পড়ে আছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ইঞ্জিনের ত্রুটির কারনে মূল লাইনে বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ থাকায় পুরো উপজেলা অন্ধাকার নেমে এসেছে।
হাতিয়া দ্বীপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ নিশ্চিত করতে সরকার ১৫ মেঘওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিনে হরেন্দ্র মার্কেট এলাকায় ১৬ একার জায়গায় এটি নির্মাণ করা হয়। দুই ধাপে বরাদ্ব দেওয়া ৬৬৮ কোটি ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পের নাম ‘হাতিয়া দ্বীপ, নিঝুম দ্বীপ ও কুতুবদিয়া দ্বীপ শতভাগ নির্ভরযোগ্য ও টেকসই বিদ্যুতায়ন। সরকারী এই অর্থে শুধু সরবারহের কাজে ব্যায় করা হয়েছে। উৎপাদনে চুক্তি করা হয়েছে দেশ এনার্জি নামে একটি প্রাইভেট কোম্পানির সাথে। কিন্তু নতুন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কাজ শেষ হতে না হতেই ত্রুটি দেখা দেওয়ায় হতাশা ব্যাক্ত করছেণ গ্রাহকরা।
হাতিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্ধা মো: মাহবুব হাসান শাওন জানান, নতুন এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি পেয়ে এই দ্বীপের বাসিন্ধারা অনেক খুশি হয়েছে। হঠাৎ এখানে কালো মেঘের চায়া দেখা দিয়েছে। এইচ এস সি পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৫দিন আগ থেকে লোডশেডিং বেপোরোয়া। সকাল সন্ধ্যা কিংবা গভীর রাত সবসময় লোডশেডিয়ে পড়তে হচ্ছে। এতে পরীক্ষার মধ্যে ছেলে মেয়েদের পড়া লেখা মারাত্বক ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
তিনি আরো জানান,খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে ইঞ্জিনের ত্রুটির কারনে বিদ্যুৎ সরবারহ সঠিক ভাবে দেওয়া যাচ্ছেনা। একসময় মানুষ মনে করতো বিদ্যুতের কর্মকর্তারা সরবারহ বন্ধ রেখে জ¦ালানী তৈল বাচিয়ে তা বিক্রি করে অবৈধ টাকা উপার্জন করতো। এখন সেই সূযোগও নেই। কারন উৎপাদননের বিষয়টা সম্পূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায়।
২০২১ সালে শুরু হওয়া এই বিদ্যুৎ উপৎপাদন কেন্দ্রটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবারহ শুরু করে। এতে মানুষের মধ্য ব্যাপক উৎসাহ উদ্ধীপনা কাজ করে। হঠাৎ করে বেপরোয়া লোডশেডিং অনেকে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে দেখা যায়। কেউ কেউ এই বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনকে অভিযুক্ত করছেন। আবার অনেকে প্রকৃত হসহতভ উদগাটন করে সমাধানের সুপারিশ করছেন।
এই বিষয়ে হাতিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, গ্রাহকরা এখনো ইঞ্জিন বন্দ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমাদেরকে অভিযুক্ত করেন। যা মোটেও সঠিক নয়। উৎপাদন সস্পূর্ণ দেশ এনার্জি কোম্পানির বিষয়। আমরা তাদের কাছে পুরোপুরি জিম্মি। তারা তাদের মতো করে ইঞ্জিন বন্ধ করে আবার চালু করে। এখন এইচ এস সি পরীক্ষা চলছে। সন্ধার সময় বিদ্যুৎ না পেলে গ্রাহক আমাদেরকে গালি দেয়। গত কয়েকদিন ইঞ্জিনের ত্রুটির কথা বলে তারা বার বার বিদ্যুৎ সরবারহবন্ধ রেখেছে। যাতে মানুষজন আমাদেরকে অপমানিত করে। অনেকে ক্ষুদ্ধ হয়ে আমাদের অফিসে আসেন, তারা আমাদের অফিসটিও অন্ধকারে দেখে শান্ত হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন প্রকল্পের শুরুতে দেশ এনার্জির সাথে ৫ হাজার কিলোওয়ার্ডের চুক্তি করা হয়েছে। তখন গ্রাহকের চাহিদা ছিল মাত্র এক হাজার থেকে একহাজার পাঁচশত কিলোওয়ার্ডের। অতচ তারা সরকার থেকে ৫ হাজার কিলোওয়ার্ডের চার্জ নিতেন। এখন গ্রাহক বেড়েছে। চাহিদা ৫হাজার কিলোওয়ার্ডের চেয়ে বেশি। এতে তারা অতিরিক্ত লোড এর কথা বলে বার বার ইঞ্জিন বন্ধ করছে।
এই বিষয়ে দেশ এনার্জি কোম্পানির হাতিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মাহফুজ রহমান বলেন, ইঞ্জিনের ত্রুটি থাকতেই পারে। গত কয়েকদিন আমাদের জ¦ালানী তৈলের সংকট ছিল। এখন জ্বালানী তৈল এসেছে। এছাড়া একটি ইঞ্জিনের ত্রুটি ধরা পড়েছে। যা দুএকদিরে মধ্যে মেরামত হয়ে যাবে। তবে লোডশেডিং সম্পূর্ণ তাদের কারনে হয়না বলে জানান তিনি।
দেশ এনার্জি হাতিয়ায় ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে বদ্ধপরিকর। ২০২৩ সালে দেশ এনার্জি হাতিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার পর থেকে নিরবিচ্ছিন্নভানে বিদ্যুৎ দিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে চুক্তি অনুসারে আমাদের ৫ মে:ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা থাকলেও আমরা হাতিয়াতে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী চুক্তির অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছি।
আপনারা জানেন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্ব্বালানি হিসেবে ফার্নেস ওয়েল ব্যবহার করা হয় যা বিদ্যুৎ বিভাগের নির্ধারিত কোম্পানি বিপিসি থেকে সরবরাহ করা হয়।
জ্ব্বালানি তেল সময়মত সরবরাহ করা না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যহত হবে। আমরা জ্ব্বালানি তেল শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে তেল সরবরাহ করার জন্য আবেদন করি কিন্তু জ্ব্বালানি তেল সরবরাহ করতে দেরি হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈল না থাকায় অবশিষ্ট তৈল দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য আমরা দুই দিন বিদুৎ সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দেই। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং সময়মত জ্ব্বলানি সরবরাহ করতে পারলে এই সমস্যা হত না।
বিপিসি থেকে যে তেল সরবরাহ করা হয়েছে তাতে প্রচুর পরিমানে ময়লা থাকায় আমাদের ইঞ্জিন চালাতে সমস্যা হচ্ছে এবং আমরা আমাদের সাধ্যমত চেস্টা করছি এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করার জন্য।
হাতিয়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার দায়িত্ব হাতিয়া বিদ্যুৎ অফিসের। তারা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ঠিক রাখতে ব্যর্থ। যার কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বন্ধ হয়ে যায় এবং আমাদের প্লান্ট ট্রিপ করে সমগ্র হাতিয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রক্ষণাবেক্ষনের জন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্দ থাকলেও হাতিয়া বিদ্যুৎ অফিস তাদের দুর্নীতির কারণে সেই টাকা রক্ষণাবেক্ষণ এর কাজে ব্যবহার করে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে চুক্তি অনুসারে ৫ মে:ওয়াট বিদ্যুৎ এর বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে চুক্তি নবায়ন করার জন্য আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু হাতিয়ার বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী কর্মকর্তা কোন প্রতিবেদনে জমা দিচ্ছেন না এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করতেছেন না।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৬:৪৫ ১৯৯ বার পঠিত | ● বন্ধ ● বিদ্যু ● হাতিয়া