ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬


আপনার এলাকার খবর
প্রচ্ছদ » বরিশাল » মির্জাগঞ্জে শিশু শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মির্জাগঞ্জে শিশু শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার


আঃ মজিদ খান, (পটুয়াখালী )
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫


মির্জাগঞ্জে শিশু শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালী: মির্জাগঞ্জে ৬ষ্ট শ্রেণির (১৪) এক স্কুল শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। তবে ঐ শিক্ষার্থীর খালার দাবি ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় তাকে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার ২ নং মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ঘটকের আন্দুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানাগেছে, প্রায় দেড় বছর ধরে মির্জাগঞ্জের ঘটকের আন্দুয়া গ্রামে ঐ শিক্ষার্থী তার দাদী রোকেয়া বেগমের সাথে বসবাস করেছিলো। গতকাল সন্ধ্যায় তার দাদী ঐ শিক্ষার্থীকে বাসায় একা রেখে পান খাওয়ার জন্য অন্য বাসায় চলে যান। তখন ঐ শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে ছিলো এবং তার কয়েক ঘন্টা পর দাদী বাসায় আসলে ঝুলন্ত অবস্থায় ফ্যানের সাথে তার লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশকে ফোন দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

শিক্ষার্থীর খালা উম্মে পারভিন খাদিজা বলেন, আমার বোনের মেয়ে আত্মহত্যা করেনি বরং তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। বেশ কয়েকমাস যাবত ফুফাতো ভাই সাকিল ও সাজিত বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলো ঐ শিক্ষার্থীকে। একদিন ঐ শিক্ষার্থী গোসল করতে গেলে ওর ফুফাতো ভাইরা গোপনে তা ভিডিও করে রাখে এবং যা দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে যৌন হয়রানি করে তারা। এছাড়া বাড়ির সামনে থাকা শামীম নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে দাদী রোকেয়া বেগম বিভিন্ন ভাবে পড়াশোনার বিষয়ে ঐ শিক্ষার্থীকে বুঝাতে চাইলে সেও সেই সুযোগে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করেন বলে জানান তার খালা।

এছাড়া তিনি আরো বলেন, তার বোনের মেয়ে বিভিন্ন সময় ফোন দিয়ে তার ফুফাতো ভাইদের বিষয়ে বিভিন্ন কথা বলতো এবং তার দাদীর কথাও বলতো আর কান্না করতো। মামাতো ভাই আশিকুল ইসলাম সিয়াম বলেন, শুক্রবার রাত ২টার সময় ঐ শিক্ষার্থীর দাদী রোকেয়া বেগম ফোন দিয়ে বলে গলায় ফাঁস দেয় ঐ শিক্ষার্থী। কিন্তুু ঘটনা ঘটে রাত দশটার দিকে আর আমাদের জানায় রাত ২টায়। আর এটি কোন ভাবেই আত্নহত্যা হতে পারে না। আমরা এই হত্যার বিচার চাই বলে জানান তিনি। তবে এবিষয়ে তার দাদী রোকেয়া বেগমকে ০১৭৬৬৩৭৮৩৬০ এই নাম্বারে একাধিক বার কল দিলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ শামীম হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তবে এটি হত্যা না আত্নহত্যা সে বিষয়ে এখনি বলা যাচ্ছে না। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে বোঝা যাবে এটি হত্যা না আত্নহত্যা।
উল্লেখ্য, জোহরা মুগ্ধের বয়স যখন পাচ বছর তখন পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ২০১৬ সালে তার বাবা ও মা মালয়েশিয়া যান, ২০১৮ সলে মালয়েশিয়ায় থাকাকালীন অবস্থায় পারিবারিক কলহের জেরে জোহরা মুগ্ধের মা সাজেদা ই বুলবুল খুন হন। মুগদের বাবা সাহাজাদা সাজু বর্তমানে মালয়েশিয়ান জেল হাজতে আছেন।
এরপর জোহরা মুগ্ধ তার নানী মমতাজ বেগমের কাছেই থাকেতেন। জোহরা মুগদের দাদী রোকেয়া বেগম ২০২৩ সালে তার কাছে নিয়ে যান এবং সেখানের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয় , সেখানেই পড়ালেখা করতেন জোহরা মুগ্ধ।

এন/ আর

বাংলাদেশ সময়: ২১:০২:৫৬   ১৬০ বার পঠিত  |         







বরিশাল থেকে আরও...


লালমোহনে তরমুজ চাষিদের থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
কাঁঠালিয়ায় ব্যবসায়ীর রিং স্লাব ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ
দুমকিতে কেনাকাটায় জমছে ঈদ বাজার
কাঁঠালিয়ায় স্কুল শিক্ষক ছোট ভাইয়ের মারধরের শিকার বড় ভাই
কাউখালীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা



আর্কাইভ