ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম
![]()
খুলনা: জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের সুপারিশের মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কাশিমনগর গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনা।
রবিবার(২৯জুন) সরেজমিনে স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কপিলমুনি ইউপির কাশিমনগর এলাকার বাসিন্দা আশালতা হালদার (৬৫) । তার এক ছেলে সত্যজিৎ ও দুটি মেয়ে মুক্তি আর মমতা। কিন্তু ছেলে সত্যজিৎ এর মনে হঠাৎ বাসনা জেগে ওঠে সমুদয় সম্পত্তি আত্নসাৎ করে একাই ভোগদখল করার। এর ফলস্রুতিতে সত্যজিৎ সম্পত্তির লোভে স্হানীয় ইউপি সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কে কৌশলে ম্যানেজ করে জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ হতে নিয়েছেন ওয়ারেশ কায়েম সনদ।
গত ৩১ মে ৩৩৬ /২০২৫ নং স্মারকে স্থানীয় ১ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. রফিকুল ইসলামের সুপারিশের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ আলী মোড়ল স্বাক্ষরিত ওয়ারেশ কায়েম সনদটি সত্যজিৎ কে প্রদান করা হয়। তবে এ ঘটনাটি জানাজানি হলে গত ২০ জুন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠকে জনরোষের মুখে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বলে জানান স্হানীয়রা।
সর্বশেষ এ ঘটনায় গত শনিবার (২৮ জুন) বিকালে আশালতা হালদার নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে স্থানীয় মালোপাড়া দুর্গা মন্ডপে স্বশরীরে হাজির হয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন ও মিথ্যা ওয়ারেশ কায়েমের সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান,বসতবাড়ি ও সম্পত্তি আত্মসাতের হীন মানসিকতায় আমার ছেলে সত্যজিৎ এমনটি করেছে।
এদিকে আশালতার দুই মেয়ে মুক্তি সরকার,মমতা বিশ্বাস ও জামাই ঠাকুর দাস বিশ্বাস সহ এলাকাবাসী জানান, সালিশি বৈঠকের পর থেকে সত্যজিৎ বসবাসের ঘরে তালা দিয়ে পলাতক রয়েছে। অসহায় আশলতা নিজ ঘরে ঠাঁয় না পেয়ে অন্যের বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এ ঘটনায় জড়িত কপিলমুনির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুস আলী মোড়ল আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি আমার ভুল হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহেরা নাজনীন জানান, ঘটনাটি আমার জানা নাই। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এন/ আর
বাংলাদেশ সময়: ২০:০০:০৩ ১২১ বার পঠিত | ● ওয়ারিশ ● পাইকগাছা ● সনদ